প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ঝুঁকির মুখে ব্যাংকিং খাত

আদম মালেক : অর্থ সঙ্কটের কারণে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ছে অনেক ব্যাংক। আমানতের সুদহার কমায় যেমন আমানত মিলছে না তেমনি অন্য প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ নিয়ে যথাসময়ে তা পরিশোধ করতে পারছে না। আস্থা সঙ্কটের কারণে অনেকে ব্যাংক থেকে আমানত তুলে নেয়ায় সঙ্কট আরও ঘনীভূত হচ্ছে বলে বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে।

এ প্রসঙ্গে তত্ত্বাবধায়কের সাবেক অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. মির্জা এ বি আজিজুল ইসলাম বলেন, ব্যাংকিং খাতে সুশাসনের অভাবে সঙ্কট বাড়ছে। অর্থ সঙ্কট তার মধ্যে অন্যতম। এ কারণে আর্থিক কার্যক্রম পরিচালনায় অব্যাহতভাবে টাকা ধার ভালো ফল বয়ে আনবে না।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ৩০টিরও বেশি ব্যাংক এখন ধার করে (ঋণ করে) চলছে। এর মধ্যে বেশ কয়েকটি ব্যাংক কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সিআরআর (নগদ জমা) ও এসএলআর (বিধিবদ্ধ সঞ্চিতির হার) জমা রাখতে পারছে না। অনেক ব্যাংক মূলধনও ভেঙে খাচ্ছে। বেশ কয়েকটি ব্যাংক প্রয়োজনীয় মূলধন সংরক্ষণ করতে পারছে না।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সরকারি খাতের বেসিক ব্যাংক মোট আমানতের ১০৫ দশমিক ৩২ শতাংশ ঋণ বিতরণ করেছে। রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক মোট আমানতের ১০০ দশমিক ৩২ শতাংশ ঋণ দিয়েছে। এছাড়া, বেসরকারি খাতের বেশ কয়েকটি ব্যাংক মোট আমানতের ১০০ শতাংশেরও বেশি ঋণ বিতরণ করে। এর মধ্যে ফার্মার্স ব্যাংক এখনও গ্রাহকদের টাকা পরিশোধ করতে পারছে না।

এদিকে বেঁধে দেওয়া সুদহার কার্যকর করতে গিয়ে গত দুই মাসে জনতা ব্যাংকের ২ হাজার ৬১২ কোটি টাকার আমানত হ্রাস পেয়েছে। আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিবকে দেওয়া এক চিঠিতে জনতা ব্যাংকের সিইও ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুছ ছালাম আজাদ নিজেই এই দাবি করেছেন।

তিনি চিঠিতে উল্লেখ করেন, অর্থমন্ত্রীর সিদ্ধান্ত অনুযায়ী জনতা ব্যাংক গত ১ জুলাই থেকেই আমানত ও ঋণের সুদের হার যথাক্রমে সর্বোচ্চ ৬ শতাংশ ও ৯ শতাংশ বাস্তবায়ন করেছে। এতে প্রথম দিকে আমানতের ওপর বিরূপ প্রভাব পরিলক্ষিত না হলেও পরবর্তীতে ক্রমান্বয়ে আমানতের পরিমাণ হ্রাস পেতে থাকে, যার ফলে বিগত দুই মাসে ব্যাংকটির ২ হাজার ৬১২ কোটি টাকা আমানত হ্রাাস পেয়েছে।

জানা গেছে, আমানত হ্রাস পাওয়ায় অন্যান্য ব্যাংকের মতো জনতা ব্যাংকও তারল্য সংকটের সম্মুখীন হয়েছে। ফলে ব্যাংকটিকে মানি মার্কেট থেকে কল লোন এবং বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে অ্যাসিউরড লিকুইডিটি সাপোর্ট (এএলএস) ও রেপোর মাধ্যমে কর্জ (ধার) করে প্রয়োজনীয় সিআরআর সংরক্ষণ করতে হচ্ছে।

এদিকে, মানি মার্কেটের কলমানি সুদ হারও ক্রমাগতভাবে বাড়ছে। কয়েক মাস আগে এক শতাংশ সুদে টাকা পাওয়া গেলেও এখন কলমানি সুদ হার চার শতাংশের ওপরে গিয়ে ঠেকেছে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত