প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

‘বাংলাদেশে সবচেয়ে বড় টিকা হলো সরকারি দল করা’

ফেসবুক স্ট্যাটাস: এই মাত্র একটি ভিডিও দেখলাম। ট্রাফিক সার্জেন্ট একটি গাড়িকে থামালেন। এই অন্যায়ের কারণে গাড়িতে থাকা এক নারী ওই ট্রাফিক সার্জেন্টকে যেইভাবে অপমান অপদস্ত করতে দেখলাম দুনিয়ার কোথাও এটা সম্ভব না। ট্রাফিক সার্জেন্ট তার পুলিশ ড্রেস পড়া।

বাংলাদেশে সবচেয়ে বড় টিকা হলো সরকারি দল করা। সরকারি দল করলে কোন ধরণের অন্যায়ের বিচার ধারে কাছে আসতে পারে না। যেমন এখন আওয়ামীলীগ ক্ষমতায়। এখন আওয়ামীলীগ করলে পুলিশ আমলা শিক্ষক থেকে শুরু করে সবাই তাদের থেকে নিরাপদ দূরত্বে থাকতে চেষ্টা করে। মনে আছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সলিমুল্লাহ হলে ছাত্রলীগের নেতাদের নির্যাতনে জখমতো হয়েই ছিল। এমন কি চোখ হারানোর উপক্রমও হয়েছিল। সেই আক্রমনের ভিক্টিম এহসান রফিক নিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের কাছ থেকে বিচারতো পায়ইনি উল্টো নিরাপত্তাহীনতার শংকায় সে এখন পড়াশুনা করতে মালয়েশিয়া চলে গিয়েছে। আর যারা নির্যাতন করেছিল তাদেরকে কর্তৃপক্ষ তখন eye wash স্বরূপ কয়েকজনকে সাময়িক বহিস্কার করেছিল। এইদেশে এত ঘটনা ঘটে যে মানুষজন অন্য ঘটনা নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পরে আর এই সুযোগে দলীয় শিক্ষকরা তাদের দলের শাস্তি পাওয়া ছাত্রদের শাস্তি আর বিচারের কথা ভুলে যান। শুধু কি ছাত্ররা মাফ পেয়ে যায়। সরকারি দল করা শিক্ষক হয়ে যৌন নিপীড়ন বা অন্য কোন অন্যায় করলেও মাফ পেয়ে যায়। একই রকম ঘটনা দেখছি চিটাগং বিশ্ববিদ্যালয়ে। দলীয় প্রশাসক শিক্ষকরা দলের ছাত্রদের খুশি করতে শিক্ষকদের শাস্তি দিতে ব্যস্ত।

এইসব কি শুধু এই সরকারের আমলেই ঘটছে? You must be joking! এইগুলা বাংলাদেশে সকল সরকারের আমলেই ঘটে চলেছে। তাহলে শুনুন একটি গল্প। তখন আমি এক হলের হাউস টিউটর আর বিএনপি তখন ক্ষমতায়। তার মানে ছাত্রদল তখন হল নিয়ন্ত্রণ করে। একদিন প্রভোস্ট অফিসে আমরা হাউস টিউটররা হল প্রভোস্টের সাথে মিটিং করছিলাম। সেই সময় হল ছাত্রদলের এক নেতা প্রভোস্টকে সালাম দিয়ে পারমিশনের অপেক্ষা না করে দরজা দিয়ে ঢুকে পরল। আর সালাম দেওয়ার কায়দাটা ছিল যেন তার এক বন্ধুকে সালাম দিচ্ছে। ঢুকেই শিক্ষকদের সোফায় দুজন শিক্ষকের মাঝে বসে পেছনে গা এলিয়ে দিল। এর ব্যবহারের সব কিছুতেই ছিল ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণের ছাপ। তখন থেকে এখনকার অবস্থা খারাপ ছাড়া ভালোতো হয়নি। কারণ সব কিছুর রাজনীতিকরণ দিন দিন আরো বাড়ছে। ফলে winner takes it all phenomena দ্বারা আমরা মারাত্মকভাবে আক্রান্ত।

এই ভিডিওতে যা দেখলাম সেটা এক ভয়াবহ বার্তা দেয়। এটা প্রতিদিন ঘটে যাওয়া অনেক ঘটনার একটা। কত ঘটনা আমাদের নজরে আসে কিন্তু চলার পথে আমরা সবাইতো এগুলো দেখছি। একদিন এক ট্রাফিক সার্জেন্টকে বললাম ভাই এই বাইক চালিয়ে নিয়ম ভঙ্গ করে চলে যাচ্ছে ধরেন না কেন? উনি যা বলল তা তেমনি আরেকটি ভয়াবহ ঘটনা। একজনকে একদিন ধরার কিছুক্ষন পর একদল বাইক চালিয়ে এসে সার্জেন্টকে যাচ্ছে তাইভাবে নাকি অপদস্ত করে গেল এবং পর দিনই তাকে অন্যত্র ট্রান্সফার করে দেয়।

এই দেশটাই হয়েছে ক্ষমতার দাপটের দেশ। দেখেন না গাড়িতে স্টিকার লাগিয়ে দাপিয়ে চলে যায়। এই স্টিকার কেন লাগায়? এটা এইজন্য লাগায় যে আমি কিন্তু অমুক আমাকে ধরা যাবে না। এখানে সবাই ক্ষমতা মাপে কে কত আইন ভাঙতে পারে সেই ইউনিট দিয়ে।

সূত্র: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর কামরুল হাসান মামুন এর ফেসুবক স্ট্যাটাস থেকে সংগৃহীত।

এটা সরকারি দলের লোকের গাড়ি, কয় টাকার বেতনের সার্জেন্ট তুমি? আমরা প্রধানমন্ত্রীর লোক।

Posted by Shawon on Tuesday, September 25, 2018

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত