প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

জাতীয় নির্বাচন ও সমসাময়িক রাজনীতি

ড. মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম তালুকদার: গৌরব ও ঐতিহ্যের আওয়ামীলীগ- এর বিরুদ্ধে কতিপয় গুরুত্বপূর্ণ কিন্তু জনবিছিন্ন রাজনীতিকের প্রচেষ্টা, আর তার উপর নির্ভরশীল ৭৫ পরবর্তী সামরিক অভিলাষে ক্যান্টনমেন্টে জন্ম নেয়া দল ক্ষমতা লাভের স্বপ্নে এতটাই বিভোর যে শুধু আসন বন্টন নয়, তারা এখন পদ ভাগাভাগি করছেন। মাথায় ডিমের হাঁড়ি নিয়ে স্বপ্নে ডুব দেয়ার গল্পের অবস্থা।

স্বপ্ন দেখতেই পারেন, তবে উত্তরপাড়ার চিন্তা বাদ দিতে হবে। এখনকার সেনারা দেশপ্রেমিক, এটি ৭৫-৯০ সময়ের সুবিধাবাদী সেনা গোষ্ঠী নয়। বর্তমান সেনা ইমেজকে নষ্ট করার চেষ্টা করবেন না।

দ্বিতীয়ত, সিনহা সাহেবের প্রধান বিচারপতির পদে থেকে রাজনৈতিক অভিলাষ অমার্জনীয় অপরাধ ছিল। এখন তিনি প্রতিহিংসা পরায়ণবশত সরকারের বিরুদ্ধে বই লেখে আরেকধাপ নৈতিক দিনতা প্রকাশ করলেন। নির্বাচনের আগে প্রতিহিংসাবশত ও উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে লেখায় এই বইয়ের বস্তনিষ্ঠতা সাংঘাতিকভাবে চ্যালেঞ্জড। তাছাড়া রাষ্ট্রের সাংবিধানিক পদাধিকারী পদত্যাগের বা পদ হারানোর পর সিটিং সরকারের বিরুদ্ধে বক্তব্য দানও কূটনৈতিক শিষ্টাচার বহির্ভুত ও রাষ্ট্রের নিরাপত্তার প্রতি হুমকি স্বরূপ। সে অর্থে এসময়ে এরূপ বই লেখাতো রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল। বিরোধী জোট উনাকে সম্পৃক্ত করে (যেমন সিঙ্গাপুর মিটিংয়ে) ষড়যন্ত্রের প্রকাশ ঘটাচ্ছেন। সেটি কাম্য নয়।

তৃতীয়ত, আন্তর্জাতিক রীতি ও গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সংবিধান অনুযায়ী মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে নির্বাচন কালীন সরকারের অধীনেই নির্বাচন হবে। প্রতিষ্ঠিত ও সাংবিধানিক বিষয়ে প্রশ্ন তুলে লাভ নেই। তাছাড়া বিকল্প ব্যবস্থার এক্সপেরিমেন্টাল রেজাল্ট আমাদের কাছে সুখকর নয় – রাজনীতিকরা লাঞ্ছিত হয়েছেন এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর (যেমন বিচার ব্যবস্থার) চরম ক্ষতি হয়েছে।

সকল প্রহসন ও অপচেষ্টা বাদ দিয়ে সাংবিধানিক ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নির্বাচনে আসুন। জনগণ তাদের সুচিন্তিত সিদ্ধান্ত নিবেন। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় জয় পরাজয় থাকবে। নির্বাচনে পরাজয়কে মেনে নেয়ার ও বিজয়ীকে অভিবাদন জানানোর মানসিকতা সকলেরই গড়ে তুলতে হবে। হিসাব অনুযায়ী নির্বাচনটি হবে ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে। ২০১৯ সালের দ্বারপ্রান্তে এসে আশি-নব্বই দশকের মিলিটারী শাসনামলের ভোট র্যা গিংয়ের চিন্তা অবান্তর।

এখন শুধু শক্তিশালী নির্বাচন পর্যবেক্ষণ দল ও প্রিন্ট-ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া কাজ করে না, ডিজিটাল মোবাইল বিপ্লবের কারণে সিটিজেন জার্নালিজমও তাৎপর্যপূর্ণভাবে একটিভ। তাছাড়া নির্বাচন সংক্রান্ত বিধি বিধানেরও যথেষ্ট সংস্কার হয়েছে। আর আইন অনুযায়ী নির্বাচনকালীন সরকার একটি রুটিন ওয়ার্ক পরিচালনার সরকার মাত্র। নির্বাচন পরিচালনার ক্ষমতা থাকবে নির্বাচন কমিশনের কাছে।

মানুষ এখন অনেক সচেতন। প্রত্যেকের ছেলেমেয়েরাই শিক্ষিত। এবারের নির্বাচনটি অনেক চ্যালেঞ্জের হবে। বিরোধী জোটের পক্ষে শুধু অ্যান্টিইনকাম্বেন্সি দিয়ে পাশ করা সম্ভব নয়। পাশ করতে হলে গ্রহণযোগ্য ও ক্লিন ইমেজের প্রার্থী দিতে হবে। অন্যদিকে সরকারি দল শুধু মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার অসামান্য অর্জন ও সরকারের উন্নয়ন সাফল্য দিয়ে নিরঙ্কুশ বিজয় নিশ্চিত করতে পারবে না। এর জন্য প্রয়োজন দলের মধ্যে ঐক্যস্থাপন এবং তুলনামুলকভাবে জনমত ভাল, গ্রহণযোগ্য ও ক্লিন ইমেজের প্রার্থী। বিশেষ করে যেসব এলাকায় দলীয় সাংসদদের ইমেজ দলে ও স্থানীয়ভাবে সাংঘাতিকভাবে বিপর্যস্ত ও চরম দুর্নীতিগ্রস্ত বলে পরিচিত, সেসব এলাকায় অধিবাসী তরুণ, গ্রহণযোগ্য, আলোকিত ও ক্লিন ইমেজের প্রার্থী খোঁজা জরুরি। সকলের জন্য শুভ কামনা।

পরিচিতি: উন্নয়ন ও রাজনৈতিক অর্থনীতি বিষয়ক গবেষক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক।

ইমেইলঃ [email protected]

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত