প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

adv 468x65

মাদক কারবারিকে ‘ধরিয়ে দেওয়া’ যুবক নিখোঁজ

কালের কন্ঠ : রাজধানীর মোহাম্মদপুরের জেনেভা ক্যাম্প থেকে কামরান হোসেন (২৫) নামের এক যুবক ২৮ দিন ধরে নিখোঁজ। এ ঘটনায় মোহাম্মদপুর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছে তাঁর স্বজনরা।

কামরানের পরিবার এখন পুলিশ, র‌্যাবসহ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দ্বারে দ্বারে ঘুরছে। স্বজনরা দাবি করছে, জেনেভা ক্যাম্পে মাদকবিরোধী কর্মকাণ্ডে সোচ্চার ছিল কামরান ও তাঁর পরিবার। সাজ্জাদ নামের এক তালিকাভুক্ত মাদক কারবারি গ্রেপ্তার হওয়ার পর তার স্বজনরা কামরানকে হুমকি দিয়েছিল। সাজ্জাদের ভগ্নিপতি সোহাগ মিয়া ওরফে জয় খান পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) সোর্স বলে নিজেকে পরিচয় দেয়। এ ছাড়া কামরানকে র‌্যাব ডেকেছিল বলে স্বজনরা দাবি করে। এসব কারণে কামরানের নিখোঁজ হওয়ার বিষয়ে সাজ্জাদ বা কোনো মাদক কারবারিচক্রকে সন্দেহ করছে তারা।

কামরানের ব্যাপারে জানতে চাইলে মোহাম্মদপুর থানার ওসি মীর জামাল উদ্দিন বলেন, ‘কামরান একেবারে ভালো—এটা বলা যাবে না। ভালো-খারাপ মিলিয়ে। পুলিশের নাম বেচে ক্রাইম করে বলে অভিযোগ আছে। সে নিখোঁজ, এটা জেনেছি আমরা। খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে।’

কামরান মোহাম্মদপুর আজিজ মহল্লা এলাকার জেনেভা ক্যাম্পের মৃত আক্তার হোসেনের ছেলে। ক্যাম্পের ভেতরেই তাঁদের বিরিয়ানির দোকান এবং এর পাশে একটি ডিপার্টমেন্টাল শপ আছে। কামরান ও তাঁর ভাইয়েরা এসব প্রতিষ্ঠান চালান।

নিখোঁজ কামরানের স্ত্রী পলি আক্তার কালের কণ্ঠকে বলেন, ২৯ আগস্ট দুপুরে নিখোঁজ হন কামরান। পরদিন মোহাম্মদপুর থানায় জিডি করেন তিনি। ঘটনার দিন সকাল থেকে কামরান তাঁদের দোকানে ছিলেন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন বন্ধু শাকিল।

পলি বলেন, “এর আগের রাতে আমাকে বলেছিল, র‌্যাবের একজন কর্মকর্তা তাকে (কামরানকে) ডেকেছেন। তাঁর সঙ্গে দেখা করতে উত্তরায় যাবে। বলেছিল, ‘যদি আমি কোনো মুসিবতে পড়ি তাহলে তুমি র‌্যাবে গিয়ে যোগাযোগ করবে।’”

জানতে চাইলে পলি দাবি করেন, ‘পুলিশ প্রশাসনকে সহায়তা করত সে (কামরান)। র‌্যাব নাকি তাকে বলেছে এলাকার অপরাধীদের ধরিয়ে দিতে। সে বলেছিল, সবাইকে চেনে না। ঘটনার দিন দুপুর দেড়টায় কথা হয়। সে বলল, বাসায় এসে খেয়ে এরপর উত্তরায় যাবে। শাকিলকে বলেছে, র‌্যাবের একজন ফোন দিয়েছে। কলেজ গেট এলাকায় দেখা করে চলে আসবে। ২টার পর ফোন করলে ফোন বন্ধ পাই। এরপর আর তার খোঁজ নেই।’

তাঁদের পাঁচ বছর বয়সী সন্তান বাবার জন্য শুধুই কাঁদে, খাওয়াদাওয়া ছেড়ে দিয়েছে—এ কথা জানিয়ে কাঁদতে কাঁদতে পলি বলেন, ‘আমি র‌্যাব অফিস, ডিবি অফিস—সবখানে ঘুরতাছি। থানায় জিডি করলাম। কেউ কিছু বলে না। তার কী অপরাধ? কে তারে কেন নিয়ে যাবে? আমাদের একটু খোঁজ দিক।’

কামরানের ভাই মাহতাব হোসেন ও আফতাব হোসেন বলেন, তাঁরা ব্যবসা করে সংসার চালান। এলাকার সবাই জানে তাঁরা মাদকের বিরুদ্ধে সোচ্চার। কয়েক বছর আগে নূর বাবুর্চির ছেলে সাজ্জাদের সঙ্গে কামরানের ঝগড়া হয়। সাজ্জাদ জেনেভা ক্যাম্পের শীর্ষ মাদক কারবারি পাচু ও পাপিয়া দম্পতির সহযোগী। কয়েক মাস আগে সাজ্জাদকে মাদকদ্রব্যসহ গ্রেপ্তার করে পুলিশ। সাজ্জাদের ভগ্নিপতি সোহাগ ওরফে জয় এ ঘটনায় কামরানকে সন্দেহ করে হুমকি দেয়। ‘ডিবি দিয়ে অবস্থা খারাপ’ করে দেবে বলেছিল। এ ঘটনায়ও কামরানের স্ত্রী গত ৭ জুলাই মোহাম্মদপুর থানায় একটি জিডি করেছিলেন। তাঁরা কামরানকে ফিরে পেতে প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ের সহায়তা চান।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত