প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

বিচার বিভাগের প্রতি জনগণের প্রত্যাশা

অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকার: প্রবাদ আছে, ‘মানুষের বিবেকই শ্রেষ্ঠ আদালত’। এবং একইসঙ্গে এটিও মানুষ দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে, ‘আদালতই মানুষের শেষ আশ্রয়স্থল’। বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থায় আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগ সমন্বয়ে গঠিত বাংলাদেশ সুপ্রিমকোর্টই রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আদালত। সংবিধানের ৯৪(২) অনুচ্ছেদ মোতাবেক সর্বোচ্চ আদালতের যিনি প্রধান তিনি শুধু সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি নন, বরং তিনি বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি অর্থাৎ বাংলাদেশের যেখানেই মানুষের অধিকার শাসক (রাজা, বাদশা, রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, রাষ্ট্রীয় বেতনভুক্ত নির্বাহী প্রভৃতি) কর্তৃক গণমানুষের বা ব্যক্তির অধিকার ক্ষুণ্ন হয়েছে সেখানেই প্রধান বিচারপতির হাত সম্প্রসারিত হওয়ার ক্ষমতায় সাংবিধানিকভাবে তিনি ক্ষমতাবান। তবে কেউ শত প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবেলা করেই বিচারিক ক্ষমতা মানুষের জন্য প্রয়োগ করেন, কেউ নিজের ও পরিবারের সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য ও নিরাপদ জীবনকে বেশি প্রাধান্য দেন। কেউ ঝুঁকি গ্রহণ করেন, কেউ তাবেদারীতে তুষ্ট থাকেন। কারও নাম ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকে, কেউ দালালির খাতায় নাম লেখান, অথবা ‘যেমনি চালাও তেমনি চলি’-এ মনোভাব নিয়ে গা ভাসিয়ে দেখে না দেখার ভান করে সুখে-স্বাচ্ছন্দে, আরাম-আয়েশ দিন কাটিয়ে নিজেকে ধন্য ধন্য মনে করেন। কেউ চোখ বোঝে অন্যায়-অবিচার হজম করেন, কেউ প্রতিবন্ধক হয়ে দাঁড়ান। শত প্রতিকূলতার মধ্যেও কারও মেরুদ- সোজা রাখেন, আবার কোনোপ্রকার প্রতিবন্ধকতা ছাড়াই কারও মেরুদণ্ড এমনিতে নেতিয়ে যায়, এটা নির্ভর করে নির্দিষ্ট ব্যক্তির মানসিকতা, প্রজ্ঞা ও ব্যক্তিত্বের ওপর। কাকের মতো কেউ চোখ বুঝে নিজেকে আড়াল করে, কেউ বাঘের মতো তিক্ষè দৃষ্টিতে অতন্দ্র প্রহরীর মতো নিজ কর্তব্য ও দায়িত্বের প্রতি সজাগ থাকে।

বাংলাদেশ সৃষ্টির ইতিহাসে ৯/৩/১৯৭১ এই তারিখটি বিচার বিভাগের জন্য গৌরব্বজল মাইলফলক হয়ে থাকবে। কারণ তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি পরম শ্রদ্ধাশীল ব্যক্তিত্ব বিচারপতি বি.এ. সিদ্দিকী যদি পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর হিসাবে কুখ্যাত জেনারেল টিক্কা খানের শপথ গ্রহণ প্রত্যাখান না করতেন তবে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস লিখতে আরও বেশি রক্তের প্রয়োজন হতো। তৎকালীন প্রধান বিচারপতির ভূমিকা স্বাধীনতা আন্দোলনকে যেমন ত্বরান্বিত করেছে তেমনি বিচার বিভাগের সম্মানকেও করেছে গৌরব-উজ্জল। তবে বিচার বিভাগের কলঙ্কজনক ইতিহাসও রয়েছে, যার গণিত পরিমাণ কম নয়। আইনজীবীরা বিচারপতিদের প্রতি মাথা ঝুঁকিয়ে গণ খঙজউ বলে সম্মোধন করেন। বাংলা একাডেমী কর্তৃক সম্পাদিত অভিধানে “খঙজউ” শব্দের অর্থ করা হয়েছে (১) স্রষ্টা বা সৃষ্টিকর্তা, (২) সম্ভ্রান্ত ব্যক্তি ও (৩) সর্বময় কর্তা প্রভৃতি (সূত্র: পৃষ্ঠা ৪৫২)।

বিরোধী দলের বিরুদ্ধে গণহারে প্রতি থানায় থানায় সিরিজ আকারে গায়েবী মামলা হচ্ছে। সেপ্টেম্বর ২০১৮, প্রথম দিন থেকেই যার মধ্যে মৃত, হজ্ব বা বিদেশে অবস্থানকারী মানুষও বাদ যায়নি। বিকৃত রুচির ধর্ষকেরা যেমন বয়সের বাছবিচার করে না, তেমনি ৮৫/৯০ বৎসরের বৃদ্ধ যারা দীর্ঘ দিন রোগ শয্যায় মৃত্যুর দিন গুনছে তারাও গায়েবী বোমা মামলার আসামী থেকে বাদ পড়েনি। দৃশ্যত মনে হচ্ছে যে, মৃত ব্যক্তি যাদের কেউ কঙ্কালে পরিণত হয়েছে তারাও গোরস্তান থেকে শেখ হাসিনা সরকারের পদত্যাগ-অপসারণ চায়, মক্কা শরীফে গিয়েও সরকারের পতন কামনা করেছে অথবা তারা কেন নাশকতার পরিকল্পনা মামলার আসামী হবে?

লেখক : কলামিস্ট ও আইনজীবী (অ্যাপিলেট ডিভিশন)

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত