প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

১৫ বছর বিনা বেতনে খাটছেন ৬৮ কর্মচারী

ডেস্ক রিপোর্ট : ‘বখশিশটাই খালি দেখলেন। বিনা বেতনে যে ১৫টা বছর খাটলাম, খেয়ে না-খেয়ে থাকলাম, টাকার অভাবে ছেলে দুইটারে পড়াইতেও পারলাম না, তিন মাসের যে বাসা ভাড়া বাকিÑ এইগুলা তো দেখলেন না।’ ক্ষোভের সুরে শরীয়তপুর জাজিরার আঞ্চলিক ভাষায় কথাগুলো বলছিলেন ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের অস্থায়ী কর্মচারী মনি আক্তার। তার অভিযোগ, স্থায়ী চাকরির আশ্বাসে দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে তিনি কাজ করছেন। কিন্তু দীর্ঘ এ সময়ে তার আশা পূরণ হয়নি। উল্টো স্থায়ী চাকরির বদলে এখন বয়সের দোহাই দিয়ে তাকে চাকরি থেকেই বাদ দেওয়ার পাঁয়তারা চলছে।
শুধু মনি আক্তারই নয়, ঢামেক বার্ন ইউনিটে তার মতো আরও ৬৮ জন কর্মচারী আছেন, যারা স্থায়ী চাকরির আশ্বাসে কোনো প্রকার বেতন-ভাতা ছাড়াই ১০ থেকে ১৫ বছর ধরে রোগীদের সেবা দিয়ে আসছেন। তাদের কেউ কেউ হাসপাতাল পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থেকে শুরু করে ওটি কমপ্লেক্স, এইচডিইউ, আইসিইউ, অফিস ও চিকিৎসকদের রুমে দায়িত্ব পালন করে থাকেন। আবার কিছু কর্মচারী আছেন যারা ওয়ার্ড বয়, এমএলএসএস, ইলেকট্রিশিয়ান, ড্রেসার এবং অটোকেভ অপারেটর হিসেবে কর্মরত। প্রতিটি কাজেই তাদের সরকারি কর্মচারীদের মতো আদেশ দেওয়া হয়। সেই আদেশে তারা শিফট ভাগ করে রুটিন কাজ, প্রশিক্ষণ, এমনকী বিশেষ ক্যাম্পেইনেও কাজ করছেন। কিন্তু সরকারি সুবিধাদি কিছুই পাচ্ছেন না তারা। ফলে বাধ্য হয়েই রোগীদের কাছ থেকে চেয়ে-চিন্তে ‘বখশিশ’ নিয়ে কোনোরকমে সংসার চালাতে হচ্ছে তাদের। বখশিশ চাইতে গেলে অনেক সময় রোগী ও তার স্বজনরা বিরক্ত হন, ঘটে অপ্রীতিকর ঘটনাও। কিন্তু বাঁচার তাগিদে তারা সব লাঞ্ছনা-গঞ্জনা সহ্য করেই

দিন পার করছেন। এদিকে রোগীদের পোড়া ক্ষত ড্রেসিং করে বঞ্চিত ৬৮ জনের বেশ কয়েক জন এখন এইচ-বি পজেটিভ ভাইরাসজনিত অসুখে ধুঁকছেন। রোগীকে তুলতে গিয়ে কোমরের হাড় ভেঙে মানবেতর জীবনযাপন করছেনÑ এমন কর্মচারীও রয়েছেন এ তালিকায়। গতকাল এ প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে এসব তথ্য জানিয়েছেন ভুক্তভোগী কর্মচারীরা।
এ ব্যাপারে ঢামেক হাসপাতালের জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের প্রকল্প পরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. আবুল কালাম আমাদের সময়কে বলেন, কর্মচারীদের দাবির বিষয়টি সম্পর্কে আমরা অবগত। বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী ও স্বাস্থ্যমন্ত্রীকেও অবহিত করা হয়েছে। আউট সোর্সিংয়ের মাধ্যমে এ কর্মচারীদের রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে মন্ত্রিপরিষদে। কিন্তু কর্মচারীরা চাচ্ছেন স্থায়ী চাকরি। এ নিয়ে আলাপ-আলোচনা চলছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে বিষয়টির সমাধান হবে বলে আশা করেন তিনি।
সূত্র : আমাদের সময়

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত