প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

adv 468x65

পদ্মা সেতুতে বসল রেলের প্রথম বক্স স্ল্যাব

ডেস্ক রিপোর্ট : এই প্রথম পদ্মা সেতু প্রকল্পের জাজিরা প্রান্তে ৪১ ও ৪২ নম্বর খুঁটিতে থাকা ‘৭ এফ’ নম্বর স্প্যানের ওপর বসানো হলো রেলওয়ের বক্স স্ল্যাব। গতকাল মঙ্গলবার সকাল থেকে কর্মযজ্ঞ শুরুর পর স্প্যানের ওপর রেলওয়ে বক্স স্ল্যাব বসানোর কাজ সম্পন্ন হতে বিকেল গড়িয়ে যায়। প্রতিটি স্প্যানে চারটি সেকশনে আটটি করে মোট ৩২টি বক্স স্ল্যাব বসানো হবে। গতকাল মঙ্গলবার প্রথম স্ল্যাবটি বসানো হলো। পর্যায়ক্রমে আরও ৩১টি বক্স স্ল্যাব বসানোর কাজ চলমান থাকবে বলে জানিয়েছেন পদ্মা সেতু প্রকল্পের দায়িত্বশীল এক নির্বাহী প্রকৌশলী। তিনি জানান, প্রতিটি বক্স স্ল্যাবের ওজন আট টন এবং এর দৈর্ঘ্য ২ মিটার ও প্রস্থ ৫ দশমিক ১৫ মিটার। পদ্মা সেতুর ৪২টি খুঁটিতে থাকা ৪১টি স্প্যানের ওপর মোট এক হাজার ৩১২টি রেলওয়ে স্ল্যাব বসবে।

স্ল্যাব বসানোর লক্ষ্যে সোমবার মুন্সীগঞ্জের লৌহজংয়ের কুমারভোগ কনস্ট্রাকশন ইয়ার্ড থেকে ভাসমান ক্রেনে করে আটটি রেলওয়ে স্ল্যাব জাজিরা প্রান্তে নিয়ে যাওয়া হয়। গতকাল সকাল থেকে দেশি-বিদেশি প্রকৌশলী ও শ্রমিকরা প্রথম রেলওয়ে স্ল্যাব বসানোর কাজ শুরু করেন।

দায়িত্বশীল নির্বাহী প্রকৌশলী জানান, এই প্রথম স্প্যানের ওপর রেলওয়ে স্ল্যাব বসানোর কাজ শুরু করা হলো। গত সোমবার সকালে ভাসমান ক্রেনের মাধ্যমে মাওয়া থেকে জাজিরা প্রান্তের খুঁটির কাছে আটটি স্ল্যাব নেওয়া হয়। এরপর স্ল্যাবগুলো সেখানে সুবিধাজনক উচ্চতায় উঠিয়ে স্ট্রিংগার বিমসহ খুঁটির ওপর রাখা হয়। মঙ্গলবার সকাল থেকে শুরু হয় স্প্যানের ওপর রেলওয়ে স্ল্যাব বসানোর কাজ। জাজিরা প্রান্তের ৪১ ও ৪২ নম্বর খুঁটিতে থাকা স্প্যানের ওপর ২ মিটার দৈর্ঘ্যের ও ৫ দশমিক ১৫ মিটার প্রস্থের এবং আট টন ওজনের প্রথম স্ল্যাবটি বসানো হয়। এখন স্ল্যাবের মধ্যে কংক্রিট ঢালাই কাজের প্রক্রিয়া চলছে।

ভায়াডাক্টের কাজ চলছে

নদীর দু’পারে তিন হাজার ১৪৮ কিলোমিটার ভায়াডাক্ট বা সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা হচ্ছে। প্রায় তিন কিলোমিটার দীর্ঘ সংযোগ সড়কের (ভায়াডাক্ট) কাজেও এখন বেশ গতি। এর ৩৬৫টি পাইলই বসে গেছে। এ পাইলের ওপর হচ্ছে ক্যাপ। ক্যাপের ওপরে বসছে খুঁটি। দিন-রাত এ কাজ চলছে এখন। এর মধ্যে চারটি খুঁটি নির্মাণ করা হয়ে গেছে।

অ্যাপ্রোচ সড়ক সম্পন্ন

পদ্মা সেতুর দু’পারের অ্যাপ্রোচ সড়ক সম্পন্ন হয়ে গেছে। মাওয়া প্রান্তে মূল অ্যাপ্রোচ সড়ক রয়েছে ১ দশমিক ৬৭ কিলোমিটার এবং জাজিরা প্রান্তে রয়েছে ১০ দশমিক ৫৭ মিটার। অ্যাপ্রোচ সড়ক এখন হস্তান্তরের অপেক্ষায়। এ ছাড়া সেতুর দুই প্রান্তে দুটি টোল প্লাজার কাজও সম্পন্ন হয়েছে। এখন সংরক্ষণে ঠিকাদার নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। সংশ্নিষ্ট নির্বাহী প্রকৌশলী রজব আলী জানান, এ অ্যাপ্রোচ সড়ক আগামী দুই বছর পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য ঠিকাদার নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে এখন। তিনি জানান, এ ছাড়া দু’পারে রয়েছে প্রায় ১২ কিলোমিটার সার্ভিস এবং কানেক্টিং রোড। এগুলো সবই সম্পন্ন এখন। এ ছাড়া দু’পারে তিনটি সার্ভিস এরিয়ার কাজও সম্পন্ন হয়েছে অনেক আগেই।

নদীশাসন কাজের অগ্রগতি ৪৪ ভাগ

দু’প্রান্তে নদীশাসন কাজে উভয় প্রান্তে ১৪ কিলোমিটার এলাকা নিয়ে চলছে কার্যক্রম। এর মধ্যে মাওয়া প্রান্তে রয়েছে এক দশমিক ১৬ কিলোমিটার ও জাজিরা প্রান্তে ১২ দশমিক ৪ কিলোমিটার। নদীশাসনের অগ্রগতি এখন ৪৪ শতাংশ। পদ্মা সেতুর নির্বাহী প্রকৌশলী শরফুল ইসলাম বলেন, বর্ষা মৌসুমে তিনটি উচ্চক্ষমতার ড্রেজার জাজিরা প্রান্তে কাজ করছে।

এদিকে, সেতুর নিরাপত্তার জন্য দুই প্রান্তে দুটি অত্যাধুনিক থানার কাজ আগেই শেষ হয়েছে। বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার পর তা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হবে। সূত্র : সমকাল

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত