প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

প্রশাসনে নির্বাচনী রদবদল

ডেস্ক রিপোর্ট : আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রশাসন সাজানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত কর্মকর্তাদের বসাতে প্রতিটি পদের বিপরীতে একাধিক বিকল্প তালিকা তৈরি হচ্ছে। নির্বাচনকালীন সরকারের সময় প্রশাসনে নানা রদবদল হলেও প্রত্যাশিত কর্মকর্তারাই যাতে এসব পদে থাকেন, এমন পরিকল্পনা থেকেই এটি করা হচ্ছে।

এ পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই গত রোববার ১০ জেলায় নতুন জেলা প্রশাসক দেওয়া হয়েছে। আগামীকাল বৃহস্পতিবার আরও ১০ জেলা প্রশাসক বদলির আদেশ জারির সম্ভাবনা রয়েছে বলে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে। এ ছাড়া কয়েকটি মন্ত্রণালয়ের সচিব পদেও আসছে পরিবর্তন। নতুন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দেওয়া হচ্ছে ৯০ উপজেলায়।

নির্বাচনের আগে প্রশাসনে রদবদল নতুন কিছু নয়। অতীতেও নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রশাসন পুনর্বিন্যস্ত হয়েছে। কিন্তু বর্তমান সরকার কৌশলগত দিক দিয়ে এগিয়ে রয়েছে। প্রশাসনের একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, নির্বাচনের বাকি রয়েছে মাত্র তিন মাস। এর মধ্যে সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে নানা ধরনের ফাঁদ পাতার আশঙ্কা রয়েছে। একদিকে বিরোধীদের রাজপথের আন্দোলন, অন্যদিকে প্রশাসনের ভেতরের একটি অংশের ষড়যন্ত্র সরকারকে চাপে ফেলতে পারে। এ ধরনের ষড়যন্ত্র যাতে সফল হতে না পারে, সে জন্য সরকার যথেষ্ট সচেতন রয়েছে এবং প্রশাসনের কয়েকটি পর্যায়ে রদবদলের উদ্যোগ নিয়ে চাপমুক্ত হওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে।

সূত্র জানায়, আগামী দিনের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় দক্ষ ও শক্তিশালী প্রশাসন গড়ে তোলার অংশ হিসেবে বেশ কয়েকটি মন্ত্রণালয়ের সচিব পদেও আসছে পরিবর্তন। এমনকি প্রশাসনের শীর্ষ পদেও পরিবর্তন ঘটতে পারে। পরিবর্তনের সম্ভাবনা রয়েছে স্থানীয় সরকার, নির্বাচন কমিশন, শিক্ষা ও ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সচিব পদেও। এ ছাড়া অতীতে প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ে যারা কাজকর্মে দক্ষতা দেখাতে ব্যর্থ হয়েছেন এবং যাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে, এমন কয়েক কর্মকর্তাকে ডাম্পিং পোস্টে পদায়ন করা হতে পারে।

এদিকে মাঠ প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এডিসি) ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পদেও পরিবর্তন আনা হচ্ছে। আগামী মাসের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে এসব পদে নতুন কর্মকর্তাদের পদায়ন শুরু হবে। এডিসি ও ইউএনও পদে নিয়োগে সরকার বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছে। কারণ এসব কর্মকর্তাই নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্ব পালন করবেন। এ কারণে ডিসি, এডিসি এবং ইউএনও হিসেবে যাদের নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে, তাদের অতীত বা ছাত্রজীবন থেকে শুরু করে কর্মজীবনে প্রবেশের পর বিভিন্ন পর্যায়ের কার্যক্রমও পর্যালোচনা করে দেখছে সরকার।

অবশ্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিব ফয়েজ আহমেদ সমকালকে বলেন, প্রশাসন সাজানোর কিছু নেই। এখানে নিয়োগ, পদায়ন ও পদোন্নতি চলমান প্রক্রিয়া। কোনো উদ্দেশ্যকে কেন্দ্র করে প্রশাসন সাজানোর ব্যাপারটি ঠিক নয়। কারণ ধারাবাহিক প্রক্রিয়াতেই মাঠ প্রশাসনে কর্মকর্তা নিয়োগের তালিকা হয়, তালিকাভুক্ত কর্মকর্তাদের পর্যায়ক্রমে পদায়ন হয়। এটিকে অন্যভাবে দেখার কিছু নেই। আর সচিব পদ খালি হলে নতুন কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়। এক্ষেত্রে নিয়োগে মেধাবী ও দক্ষদের বিবেচনা করা হয়।

তবে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অন্য একটি সূত্রে জানা গেছে, সচিবদের গত দুই বছরের আমলনামা তৈরি করা হয়েছে। এতে যাদের অদক্ষতার সাক্ষ্য মিলেছে, তাদের ডাম্পিং পোস্টিং করা হচ্ছে। আর যারা যোগ্যতার পরিচয় দিয়েছেন, তাদের মূল্যায়ন করে আরও গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ ধরনের পাঁচটি মন্ত্রণালয়ের সচিব পদে পরিবর্তনের সম্ভাবনা রয়েছে। দায়িত্ব পালনকালে সফলতা দেখাতে পারেননি, এমন সচিবদের কম গুরুত্বপূর্ণ পদে পদায়ন করা হতে পারে। অসফল সচিবদের জায়গায় পদোন্নতি দিয়ে কয়েকজন দক্ষ অতিরিক্ত সচিবকে বসানো হতে পারে। একই সঙ্গে যারা তিন বছর ডিসি এবং ইউএনও হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন, তাদের প্রত্যাহার করা হবে। তাদের জায়গায় সরকার সমর্থিত মেধাবী কয়েকজন কর্মকর্তাকে পদায়ন করা হবে। আপাতত ২১ ব্যাচের কয়েকজন কর্মকর্তাকে ডিসি হিসেবে পদায়নের কাজ চলছে। আগামী নির্বাচনের সময়ে ২০ ও ২১ ব্যাচের কর্মকর্তারা ডিসি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। এ ছাড়া অতিরিক্ত সচিব ও যুগ্ম সচিব পর্যায়ের কয়েকজন দপ্তর প্রধানকেও সরিয়ে দেওয়া হতে পারে।

সূত্র জানায়, শুধু ডিসি নয়, মাঠ প্রশাসনের সব পদেই বড় ধরনের রদবদল আসছে। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগে মাঠ প্রশাসনের এডিসি ও ইউএনও পদে প্রায় দেড়শ’ কর্মকর্তার দপ্তর বদল করা হচ্ছে। মাঠ পর্যায়ে ইউএনও পদে যাদের মেয়াদ তিন বছর পার হয়েছে এবং যারা এ পদে কর্মরত থাকা অবস্থায় অদক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন, এমন ৯০ কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার করা হচ্ছে।

এ ব্যাপারে বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ও সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. আকবর আলি খান সমকালকে বলেন, নির্বাচনে জনরায়ের প্রতিফলন ঘটে। আর এ নির্বাচন সম্পন্ন করেন প্রশাসনের কর্মকর্তারা। তাদের দলমতের ঊর্ধ্বে উঠে কাজ করতে হয়। কিন্তু কেউ যদি নির্বাচনকে প্রভাবিত করতে তাদের দলীয় মনোভাব পোষণকারী কাউকে দায়িত্বে রাখার পরিকল্পনা করে, সে উদ্দেশ্য কখনই সফল হয় না। অতীতেও বিভিন্ন সরকার এ রকম করেছে। কিন্তু তাতে কোনো ফল আসেনি। সূত্র : সমকাল

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত