প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

‘শেহের ছেরি কথা রাখছে’

ডেস্ক রিপোর্ট : ‘শেহের ছেরি কথা রাখছে। ১০ ট্যাহা কেজিতে চাল দিছে। আমরা এইডাতেই খুশি। বেশি কিছু চাওয়া নাই। গরীব মানুষ, দুই বিলা দুইডা খাওন পাইলেই খুশি। সেইডাই শেহের ছেরি ব্যবস্থা করছে। ভোট তারেই দিব।’
কথাগুলো বলছিলেন কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলার কুটি বেগম। সরকারের পক্ষ থেকে হতদরিদ্র মানুষের জন্য ১০ টাকা কেজি দরে চাল বিক্রিতে খুশি তিনি।

ভৈরব খাদ্য অফিসের মতে, উপজেলার আগানগর, শিমুলকান্দি, শ্রীনগর, গজারিয়া, সাদেকপুর, কালিকাপ্রসাদ ও শিবপুরসহ সাতটি ইউনিয়নে মোট ১৪জন ডিলারের মাধ্যমে হতদরিদ্রদের মধ্যে এই চাল বিক্রি করা হচ্ছে। সপ্তাহে তিন দিন সকাল থেকে বিকাল পাঁচটা পর্যন্ত এবং মাসে ১২ দিন এই চাল বিক্রি করছেন তারা। জন প্রতি ৩০ কেজি করে, মাসে একবার এই চাল নিচ্ছেন কার্ডধারীরা। উপজেলার প্রায় ৫২০০জন কার্ডধারী এই সুবিধার আওতায় রয়েছেন।

গজারিয়া ইউনিয়নের বাশঁগাড়ী গ্রামের হারুন মিয়া বলেন, ‘খেটে খাওয়া মানুষ আমরা। শেখ হাসিনার কথা মতো অসময়ে নাম মাত্র মূল্যে চাল পেয়ে আমরা খুবই খুশি।’

গজারিয়া ইউনিয়নের ডিলার আব্দুস সালাম শাহারিয়ার বলেন, তার অধিনে ৩ শতাধিক কার্ডধারী মাসে একবার ৩০কেজি করে চাল নিচ্ছেন। তার দাবি, গ্রামে হতদরিদ্র লোকের সংখ্যা অনেক বেশি। সে তুলানায় তালিকায় নামের সংখ্যা সীমিত। তাই নামের সংখ্যা বাড়ানো খুবই প্রয়োজন।

শ্রীনগর ইউনিয়নের বধুনগর গ্রামের রহিমা বেগম বলেন, হাসিনা সরকার, তার কথা রাখছেন। বছরে ৫মাস আমরা ১০ টাকা কেজিতে চাল খেতে পারছি। তাই, তিনি আগামী নির্বাচনে নৌকায় ভোট দেবেন।

অনিয়মের অভিযোগে সংশ্লিষ্ট কর্র্তৃপক্ষ জুনে শিবপুর ইউনিয়নের মো. সাদেক মিয়া নামে একজনের ডিলারশীপ বাতিল ও মিজানুর রহমান নামে অপর ডিলারকে চলতি মাসের ১৩ সেপ্টেম্বর আটক করেছে আইন শৃংখলা বাহিনীর সদস্যরা। ফলে এই এলাকাটিতে বর্তমানে চাল বিক্রির কার্যক্রম কিছুটা গতি হারিয়েছে। অধিকাংশ ডিলারদের বিরোদ্ধে কেউ কেউ ওজনে কম দেয়ার অভিযোগও করেন।

শিমুলকান্দি ইউপি ডিলার আব্দুল্লাহ মিয়ার সহকারী বলেন, এক দাঁড়িপাল্লা থেকে আরেক দাঁড়িপাল্লায় মাপলে ওজনে কিছুটা এদিক- সেদিক হতেই পারে।

এছাড়াও তালিকায় অনেক স্বচ্ছল পরিবারের নাম রয়েছে। আবার অস্বচ্ছল অনেকের নাম বাদ পড়েছে। বাদ পড়া এমন একজন উপজেলার রাজনগর গ্রামের বাসিন্দা বিধবা রিনা বেগম।

এক কন্যা সন্তানের জননী রিনা বেগম বলেন, গত ১৫ বছর আগে তার স্বামী মারা গেছেন। খুব কষ্ঠে তিনি দিনাতিপাত করছেন। যখন শুনেছেন ১০ টাকা কেজিতে চাল পাবেন। তখনই ছুটে যান ডিলারের কাছে। কিন্তু তালিকায় নাম না থাকায়, চাল পাননি তিনি।

তালিকায় নাম বাদ পড়তেই পারে বলে মনে করেন শিমুলকান্দি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান যোবায়ের আলম দানিস। তার মতে, গ্রামে হতদরিদ্র লোকের সংখ্যা বেশি। তাই, সবার নাম তালিকায় দেয়া সম্ভব হয়নি। আগামীতে সুযোগ পেলে অবশ্যই বাদ পড়াদের নাম তালিকায় অর্ন্তভূক্ত করা হবে।

ভৈরব উপজেলায় প্রায় ৫২০০জন কার্ডধারীর মধ্যে ১৫৩ টন চাল বিতরণের কার্যক্রম চলেছে বলে নিশ্চিত করেন উপজেলা খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ খোরশেদ আলম।

তিনি আরও বলেন, কোথা যেনো কোনো ধরনের অনিয়ম না হয়। এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সজাগ রয়েছেন। এছাড়াও অনিয়মের অভিযোগে এরইমধ্যে একজনের ডিলারশীপ বাতিল করা হয়েছে।
সূত্র : ডেইলি বাংলাদেশ

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত