প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

তৃণমূলের জনপ্রিয়তাকেই প্রার্থিতার মানদণ্ড হিসেবে দেখছে আ.লীগ

রফিক আহমেদ : তৃণমূলের জনপ্রিয়তাকেই একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থিতার প্রধান মানদণ্ড হিসেবে দেখছে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ। নবীন ও প্রবীণ সমন্বয়ে জনবান্ধব ব্যক্তিদেরই নৌকার টিকিট দেয়া হবে। আওয়ামী লীগের একাধিক কেন্দ্রীয় নেতাদের সাথে আলাপকালে এমন তথ্য জানা গেছে।

সব পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রার্থী চূড়ান্ত প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা জানিয়েছেন, বিএনপি নির্বাচনে আসবে না এমনটি মাথায় রেখে আপাতত তারা তালিকা করছেন। বিএনপি নির্বাচনে না এলে ১৪ দলীয় জোটের শরিকরা স্বতন্ত্র দল হিসেবেই নির্বাচনে অংশ নেবে সেটা নিশ্চিত। আর বিএনপি বা ২০ দলীয় জোট নির্বাচনে এলে বেশ কিছু আসনেই দলীয় মনোনয়নে আসবে রদবদল। সেক্ষেত্রে শরিকদের জন্য আসন ছাড়ের প্রশ্নও থাকবে।

সূত্রমতে, সরকারি-বেসরকারি একাধিক জরিপের মাধ্যমে প্রার্থী হিসেবে ১৭৪ আসনে নাম চূড়ান্ত করা হয়েছে। বিএনপি অংশ নিলে অর্থাৎ নির্বাচন প্রতিযোগিতামূলক হলে এরাই মনোনয়ন পাবেন। অন্য আসনগুলোতে শরিকদের জন্য বোঝাপড়ার ভিত্তিতে ৭৩টি পর্যন্ত আসন ছাড়া হতে পারে। কিন্তু বিএনপি নির্বাচন থেকে বিরত থাকলে এসব আসনেও প্রার্থী পরিবর্তন হতে পারে। আর জোট শরিকদের বেলায় আসবে প্রতিযোগিতা করে জয়ী হওয়ার হিসাব।

আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বোর্ড ও সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কাজী জাফর উল্লাহ বলেন, বিভিন্ন জরিপের ভিত্তিতে আওয়ামী লীগের প্রার্থী বাছাই করা হচ্ছে। বেশ কিছু আসনে প্রার্থী চূড়ান্ত। অন্যগুলোতেও চূড়ান্তকরণের কাজ চলছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, যোগ্যতার মাপকাঠি অর্জনে এরই মধ্যে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ছুটছেন অনেকেই। প্রবীণ প্রার্থীর বয়সের প্রতিবন্ধকতা আর ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা পুঁজি করে প্রথমবারের মতো নৌকার টিকিট পেতে তৎপর শতাধিক নবীন প্রার্থী।

জানা গেছে, তারুণ্য নির্ভর রাজনীতি গড়ে তুলতে সবসময়ই সোচ্চার আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। যার প্রমাণ ২০১৪ সালের মন্ত্রিসভা ও ২০তম জাতীয় কাউন্সিলে কমিটিতে তরুণদের প্রাধান্য। সেই বিষয়টিকে খেয়াল রেখে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে একঝাক নবীন প্রার্থী শুরু করেছেন জনসংযোগ। জনপ্রিয়তাকেই প্রধান যোগ্যতা বিবেচনায় একালাবাসীর মন জয় করতে এরই মধ্যে কাজ শুরু করেছেন মনোনয়ন প্রত্যাশী শতাধিক তরুণ প্রার্থী। সরকারের উন্নয়ন তুলে ধরার পাশাপাশি তারা দিচ্ছেন, নানা প্রতিশ্রুতিও। প্রার্থিতার বিষয়ে শতভাগ আশাবাদী থাকলেও দলের সভাপতি যাকেই নৌকা প্রতীক তুলে দেবেন, তার পক্ষেই কাজ করার অঙ্গিকার এসব মনোনয়ন প্রত্যাশীদের। শতবছরের যে উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে হাঁটছে আওয়ামী লীগ, তা বাস্তবায়নে তরুণ ও নবীন প্রার্থীরাই সভানেত্রী শেখ হাসিনার প্রথম পছন্দ এমন, আশা এসব মনোনয়ন প্রত্যাশীদের।

মনোনয়ন প্রত্যাশী ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি বদিউজ্জামান সোহাগ। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ প্রার্থী মনোনয়নের ক্ষেত্রে যে মাপকাঠিগুলো বেছে নিয়েছে। সেটা আমি পূরণ করেছি। সব মিলিয়ে আমি মনে করছি আমাকেই মনোনয়ন দেবে। তিনি বলেন, তবে দলের সভাপতি যাকেই নৌকা প্রতীক তুলে দেবেন, তার পক্ষেই কাজ করবো। একইসুরে কথা বলেছেন, ঢাকা-৫ আসন থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী ডেমরা থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও এমপি পুত্র আলহাজ্ব মশিউর রহমান মোল্লা সজল। চাঁদপুর-৩ আসনের আলহাজ্ব রেদওয়ান খান বোরহান, কিশোরগঞ্জ-২ আসনের ড. জায়েদ মোহাম্মদ হাবিবুল্লাহ, ওয়ারী থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ঢাকা-৬ আসনে চৌধুরী আশিকুর রহমান লাভলু, নেত্রকোনা-৫ আসন থেকে ইঞ্জিনিয়ার তুহিন আহাম্মদ।

বিভিন্ন সূত্রে আওয়ামী লীগের যেসব প্রার্থীর নাম জানা গেছে তারা হলেন: কামরুল ইসলাম, ঢাকা-২; নসরুল হামিদ, ঢাকা-৩; সাবের হোসেন চৌধুরী, ঢাকা-৯; শেখ ফজলে নূর তাপস, ঢাকা-১০; একেএম রহমতউল্লাহ, ঢাকা-১১; আসাদুজ্জামান খান, ঢাকা-১২; জাহাঙ্গীর কবির নানক, ঢাকা-১৩; কামাল আহমেদ মজুমদার, ঢাকা-১৫; সাহারা খাতুন, ঢাকা-১৮; এনামুর রহমান, ঢাকা-১৯; বেনজীর আহমেদ, ঢাকা-২০। আ. ক. ম. মোজাম্মেল হক, গাজীপুর-১; জাহিদ আহসান রাসেল, গাজীপুর-২; জামিল হাসান দুর্জয়, গাজীপুর-৩; সিমিন হোসেন রিমি, গাজীপুর-৪; আক্তারুজ্জামান, গাজীপুর-৫। নজরুল ইসলাম, নরসিংদী-১; কামরুল আশরাফ খান, নরসিংদী-২; সিরাজুল ইসলাম মোল্লা, নরসিংদী-৩; নুরুল মজিদ হুমায়ুন, নরসিংদী-৪; এবিএম রিয়াজুল কবীর কাওছার, নরসিংদী-৫। গোলাম দস্তগীর গাজী, নরায়ণগঞ্জ-১; নজরুল ইসলাম বাবু, নারায়ণগঞ্জ-২; কায়সার হাসনাত, নারায়ণগঞ্জ-৩; শামীম ওসমান, নারায়ণগঞ্জ-৪। কাজী কেরামত আলী, রাজবাড়ী-১; জিল্লাল হাকিম, রাজবাড়ী-২; আবদুর রহমান, ফরিদপুর-১; খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ফরিদপুর-৩; কাজী জাফরুল্লাহ, ফরিদপুর-৪। মুহাম্মদ ফারুক খান, গোপালগঞ্জ-১; শেখ ফজলুল করিম সেলিম, গোপালগঞ্জ-২; শেখ হাসিনা, গোপালগঞ্জ-৩। নুর ই আলম চৌধুরী লিটন, মাদারীপুর-১; শাজাহান খান, মাদারীপুর-২; একেএম এনামুল হক শামীম, শরীয়তপুর-২; নাহিম রাজ্জাক, শরীয়তপুর-৩; জয়া সেনগুপ্ত, সুনামগঞ্জ-২; এমএ মান্নান, সুনামগঞ্জ-৩; মুহিবুর রহমান মানিক, সুনামগঞ্জ-৫।

এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, প্রধানমন্ত্রী চাইছেন, তরুণদের প্রাধান্য দিতে। সেভাবেই ভাবা হচ্ছে। আগামী নির্বাচনে তরুণদের প্রাধান্য দেয়া হবে। এজন্য যোগ্য প্রার্থী খুঁজে বের করা হয়েছে। তিনি বলেন, তরুণদের প্রাধান্য দেয়া হচ্ছে মানে এমন নয় যে প্রবীণদের আগ্রাহ্য করা হবে। এটা করা হচ্ছে জনগণের কাছের জবাবদিহিতা, গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতেই।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ