প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

মার্কিন অনুমোদনে যুদ্ধাপরাধ করছে মিত্র সৌদি ও আমিরাত জোট

নূর মাজিদ : মার্কিন সরকারের ইন্ধনেই ইয়েমেনে নির্দ্বিধায় যুদ্ধাপরাধ চালিয়ে যেতে পারছে সৌদি আরব ও আরব আমিরাত। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতির একনিষ্ঠ পর্যবেক্ষক ক্যাটো ইনস্টিটিউটের প্রতিরক্ষা এবং পররাষ্ট্রনীতি বিশেষজ্ঞ টেড গ্যালেন কারপেন্টারের বরাত দিয়ে একথা জানিয়েছে ন্যাশনাল ইন্টারেস্ট। অনলাইনে পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক এই পত্রিকায় প্রকাশিত বিশ্লেষণে কারপেন্টার জানান, চলতি বছর মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইয়েমেনে মার্কিন মিত্রদের আগাসনের পক্ষে সরাসরি সাফাই গেয়েছেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও বলেছিলেন, সৌদি জোট ইয়েমেনে বেসামরিক প্রাণহানি এড়াতে যথাসম্ভব সতর্কতা অবলম্বন করছে। যদিও বাস্তবতা হলো সংযুক্ত আরব আমিরাত ও তার সিনিয়র সহযোগী সৌদি আরব ইয়েমেনে নির্বিচারে বেসামরিক জনগণ হত্যা করছে। নিজ বক্তব্যের মাধ্যমে পম্পেও এই অন্যায় যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি সমর্থন দিয়েছেন। তার বক্তব্য যুক্তরাষ্ট্রের আরব মিত্র দেশদুটিকে নির্বিচার গণহত্যার লাইসেন্স দিয়েছে বলেও মন্তব্য করেন কারপেন্টার।

তিনি বলেন, ইয়েমেনে অবরোধ আরোপ করে স¤পূর্ণ একটি জাতিকে দুর্ভিক্ষের মুখে ঠেলে দিয়েছে। শুধু তাই নয় নির্বিচার বোমা হামলা করে নারী এবং শিশুদের হত্যার পাশাপাশি, জরুরি চিকিৎসা সাহায্য বন্ধ করে দেশটিতে কলেরা মহামারি সৃষ্টি করেছে তারা। অন্যদিকে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এই সব মানবতাবিরোধী অপরাধে সরাসরি নিজেকে সম্পৃক্ত করেছে। মার্কিন বিমান বাহিনী সৌদি জোটের যুদ্ধবিমানগুলোকে জ্বালানি সরবরাহ করছে। এই বিষয়ে মার্কিন আইনপ্রণেতারাও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণে ব্যর্থ হয়েছেন। মূলত, ইরানকে মোকাবেলার নামে এই অন্যায় আগ্রাসনে জ্যেষ্ঠ মার্কিন কর্মকর্তারা সরাসরি সহযোগীর ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন।

এই বিশেষজ্ঞ আরও বলেন, চলতি মাসেই ইয়েমেনে একটি স্কুলবাসে হামলা চালিয়ে ৪০ জন শিশুকে হত্যা করায় যখন সারাবিশ্ব সৌদি জোটের নিন্দা করেছে তখন মাইক পম্পেও’র অনুমোদন মার্কিন পররাষ্ট্রনীতির অমানবিকতার ইতিহাসে নতুন রেকর্ড সৃষ্টি করেছে। সৌদি আরবের ইয়েমেন যুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধে যুক্ত থাকা নিয়ে জাতিসংঘের প্রতিবেদন প্রকাশের পরও পম্পেও মিসরের জন্য ১২০ কোটি ডলারের সামরিক সাহায্যের অনুমোদন দেন। এসময় তিনি, মিসরে গণতন্ত্রের অনুপস্থিতি এবং দেশটির আভ্যন্তরীণ মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়গুলো মোটেও আমলে নেননি। ইয়েমেন যুদ্ধে মিসরের সিসি সরকারও সৌদি জোটের গুরুত্বপূর্ণ সহযোগী।

তবে শুধু মধ্যপ্রাচ্যেই নয় লাতিন আমেরিকাতেও মিত্র কলম্বিয়াকে মানবাধিকার লঙ্ঘনের খোলা ছাড়পত্র দিয়ে রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির মানবাধিকার কর্মীরা ২০০২ সাল থেকেই দেশটির সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে অসংখ্য মানুষকে অপহরণ ও বিচার বহির্ভূত হত্যার কথা বললেও তাতে কর্ণপাত করেনি যুক্তরাষ্ট্র। ন্যাশনাল ইন্টারেস্ট

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত