প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

১ অক্টোবর থেকে আন্দোলনের প্রস্তুতি নেওয়ার আহবান মওদুদের

শিমুল মাহমুদ : নেতা কর্মীদের ১লা অক্টোবর থেকে আন্দোলন সংগ্রামের প্রস্তুতি নেওয়ার আহবান জানিয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ বলেন, আমাদের হাতে তিন মাসেরও কম সময় রয়েছে। এই সময়ের মধ্যে সরকারকে পতিহত করে, সকল নেতাকর্মীদের মুক্তি নিশ্চিত করতে হবে, একই সাথে দেশে একটি নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে। তাই সকলকে এই সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন সংগ্রামের প্রস্তুতি নিতে হবে।

মঙ্গলবার (২৫সেপ্টেম্বর) সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবে জাতীয়তাবাদী প্রজন্ম ৭১ কেন্দ্রীয় কমিটি আয়োজিত বিএনপি’র চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তি ও নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধারক সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবীতে যুব সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

মওদুদ বলেন, জাতীয় ঐক্যে বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী অশালীন বক্তব্য প্রমাণ করে এই সরকার আতংকিত ও বিচলিত হয়েছে।

তিনি বলেন, জনগণ আজকে সবি জানে এবং বুঝে। এধরনের বক্তব্যে জনপ্রিয়তা কমবে না। বরং জাতীয় ঐক্যের আরো জনপ্রিয়তা বাড়বে। তাই প্রধানমন্ত্রীকে বলবো আপনি আপনার বক্তব্য প্রত্যাহার করেন।

সাবেক এ মন্ত্রি বলেন, সরকার জানে জাতীয় ঐক্য যদি গঠন হয় তাহলে যে কোন স্বৈরাচার সরকারের পতন ঘটানো সম্ভব। তাই দেশে যখন কোন আন্দোলন হয় সরকার প্রথমে স্বাগত জানায়। দু’দিন অথবা তিন দিন পর সরকার এবং সরকারের লোকেরা আন্দোলনকে অসহ্য করে তুলে এবং নানা তালবাহানায় আন্দোলনকে দমিয়ে রাখেন।

তিনি আরো বলেন, এই সরকার হল নীতি নৈতিকতা বিহীন। তাদের নীতি নৈতিকতা বলে কিছু নেই। আওয়ামী লীগ হল মিথ্যাচারের চ্যাম্পিয়ন। কেউ তাদের সাথে মিথ্যাচারে কন্টেস্ট করে পারবেনা।’

বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলার বিষয়ে মওদুদ বলেন, আগে কয়েক বছর আগের কোন ঘটনায় শ্যোন অ্যারেস্ট দেখাতো। আর এখন ভৌতিক মামলা ও গায়েবী মামলা দেয়। কোন ঘটনা ঘটার প্রয়োজন নেই। এমনিতেই মামলা দেয়।’

তিনি বলেন, গত ২১ দিনে ৪ হাজার মামলা দিয়েছে। আর এসব মামলায় আসামী করা হয়েছে ৩ লাখ ৩১ হাজার জনকে। তিনি বলেন, এই মামলা করতে আওয়ামী লীগ তাদের স্থানীয় নেতাদের ব্যবহার করেছে। তারা তালিকা পাঠিয়েছে। আর পুলিশ মামলা করেছে। মামলার আসামীদের সবগুলো নামের ঠিকানা ও পিতার নাম সঠিক আছে। মৃত ব্যক্তির নামে মামলা হয়েছে এটা হয়তো ভুল হয়েছে। সুতরাং এটা একটি ফ্যাসিস্ট রাষ্ট্রেই এটা সম্ভব।
জাতীয় ঐক্যের বিষয়ে তিনি বলেন, প্রথমে তারা স্বাগত জানায় পরে তারা আক্রমণ করে। ছাত্রদের কোটা আন্দোলনে স্বাগত জানিয়ে পরে তাদের আক্রমণ করেছে।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী ঐক্য প্রক্রিয়াকে প্রথমে স্বাগত জানিয়েছেন আবার বললেন এখানে সবাই দুর্নীতিবাজ, সুদখোর ও ঘুষখোররা মিলে ঐক্য করেছে। ঐক্য হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রীর সহ্য হচ্ছে না। কারণ তারা জানে জাতী যদি ঐক্যবদ্ধ হয় তাহলে যে কোন স্বৈরাচারী সরকারের পতন ঘটানো সম্ভব। আইয়ুব খান পর্যন্ত মামলা প্রত্যাহার করতে বাধ্য হয়েছিল।

এসময় তিনি প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে বলেন, আপনার এই কথা আপনি প্রত্যাহার করুন। তা না হলে রাজনীতিতে কোন শালীনতা আর থাকবে না।

মওদুদ আহমদ বলেন, নতুন খবর বেরিয়েছে বিশ্বের ভেতর সবচেয়ে বড় স্বৈরাচার হচ্ছে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী। বিশ্ব আপনাকে স্বীকৃতি দিচ্ছে। আমরা না। ‘

যুব সমাবেশে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেন, আজ দেশে বিদেশে আওয়ামী লীগের নেতারা কাউকে বাসায় দাওয়াত দিলে মানুষ যেতে চায় না। সবাই ভাবে দুর্নীতিবাজের বাসায় কেউ বাইরে বের হলে বাসায় পরিজনরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ে সে কি আর বাসায় ফিরে আসবে। জীবীত আছে।

তিনি বলেন, দেশে আজ নিকশ কালো অন্ধকার নেমে এসেছে। পাকিস্তান আমলেও মানুষ ভোট দিয়েছে। এখন সেটা দিতে পারেনা। আমাদের রাস্তায় নামতেই হবে।

সংগঠনের সভাপতি ঢালী আমিনুল ইসলাম রিপনের সভাপতিত্বে আরো উপস্থিত ছিলেন – বিএনপির সহ সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবদুস সালাম আজাদ, চিত্র নায়িকা শায়লা প্রমুখ।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত