প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ঐক্য প্রক্রিয়ার সমালোচনায় ৮ মন্ত্রী

মহসীন কবির : ঐক্য প্রক্রিয়ার নেতারা বলেছেন, দেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে এনে গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের দাবিতেই ঐক্য প্রক্রিয়ার ডাক দেওয়া হয়েছে। আওয়ামী লীগের নেতারা বলেছেন, একাদশ সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন কিছু রাজনীতিককে নিয়ে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে নেমেছেন। তারা সরকারের বিরুদ্ধে, নির্বাচনের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত তা ধীরে ধীরে স্পষ্ট হতে শুরু করেছে।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বর্তমানে দেশে ৬৪ ভাগেরও বেশি জনপ্রিয়তা আওয়ামী লীগের। এ দলকে বাদ দিয়ে যারা দেশে ‘জাতীয় ঐক্যের’ স্বপ্ন দেখছেন, তারা বোকার স্বর্গে বসবাস করছেন। আওয়ামী লীগ ছাড়া জাতীয় ঐক্য হবে না। হবে বিএনপির তথাকথিত জাতীয়তাবাদী ঐক্য। সাম্প্রদায়িক ঐক্য। বাংলাদেশে ওই সাম্প্রদায়িক ঐক্যের গ্রহণযোগ্যতা নেই। তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেছেন, ড. কামাল হোসেন, বি চৌধুরীরা বিএনপি- জামায়াতের পুনর্বাসনের প্রকল্প হাতে নিয়েছে। তিনি ড. কামাল হোসেনকে উদ্দেশ্য করে বলেন, অবশেষে তিনি নতুন মক্কেল হিসেবে বিএনপিকে পেয়েছেন। তাকে বিএনপি-জামায়াতের মামলা রক্ষার ওকালতি না করার আহবান জানিয়ে বলেন, দেশে আর কখনো রাজাকারের সরকার হতে দেয়া হবে না।
সমাজকল্যাণমন্ত্রী ও বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন বলেছেন, ড. কামাল হোসেনের জাতীয় ঐক্যের মূলশক্তি থাকবে বিএনপি-জামায়াত। ড. কামাল হোসেন ও বদরুদ্দোজা চৌধুরী ওই ঐক্যে থাকবেন সাক্ষী গোপাল মাত্র। ষড়যন্ত্রের এই ঐক্য কোনো ফল দেবে না। আন্দোলন দূরে থাক, তারা একসঙ্গে কোনো কাজই করতে পারবেন না।

আওয়ামী লীগ প্রেসিডিয়াম সদস্য, কেন্দ্রীয় ১৪ দলের মুখপাত্র এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেছেন, জনবিচ্ছিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বরা আবারও তথাকথিত ঐক্যের মহড়া দিয়েছেন। তবে আগামী নির্বাচনে তারা খড়কুটার মতো উড়ে যাবে। তারা জোট করুক অসুবিধা নেই কিন্তু এবার নির্বাচনের নামে ষড়ষন্ত্র করলে জনগণ ছাড় দিবে না।  বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, ড. কামাল হোসেন ও বি. চৌধুরীর নেতৃত্বে গঠিত যুক্তফ্রন্ট যে প্রস্তাব দিয়েছে তা সংবিধান পরিপন্থী। বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘যুক্তফ্রন্ট জোটকে আমরা স্বাগত জানাই। বহুদলীয় গণতন্ত্রের বাংলাদেশে যে কেউ নির্বাচনি জোট করতে পারেন। তারা যে প্রস্তাবগুলো দিয়েছে, তা গ্রহণযোগ্য নয়। কারণ বাংলাদেশে নির্বাচন হবে সংবিধান অনুযায়ী। নির্বাচন কমিশন ঘোষিত তারিখ মোতাবেক। নির্বাচনের সময়ে নির্বাচনকালীন রুটিন দায়িত্ব পালন করবে কমিশন। আর সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের স্বার্থে কমিশনকে সব ধরনের সহযোগিতা করবে সরকার।
খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম বলেছেন, বিএনপি ও ড. কামাল হেসেনের জোট ১/১১ এর মতোই দেশে আরেকটি অসাংবিধানিক সরকার প্রতিষ্ঠার অশুভ লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। যদিও তারা সফল হবে না। তিনি বলেন, তাদের কোনো অযৌক্তিক দাবি মানা হবে না। বর্তমান সংসদ বহাল রেখেই আগামী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে এবং এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নির্বাচনকালীন সরকারের নেতৃত্ব দেবেন।

আওয়ামী লীগের সভাপতিমÐলীর সদস্য সাবেক মন্ত্রী ফারুক খান বলেন, জোট গঠন প্রক্রিয়াকে ইতিবাচকভাবেই দেখে আসছিল আওয়ামী লীগ। জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার ব্যানারে নাগরিক সমাবেশে বিএনপির নেতাদের উপস্থিতি ও তাদের দাবি পর্যালোচনা করলে ষড়যন্ত্রের গন্ধ পাওয়া যায়। তিনি বলেন, নির্বাচন বানচাল করার ষড়যন্ত্র কঠোরভাবে দমন করা হবে। আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক সাবেক মন্ত্রী হাছান মাহমুদ বলেছেন, জাতীয় ঐক্য গঠন প্রক্রিয়াকে জনপরিত্যক্ত আদর্শচ্যুত নেতাদের ঐক্য হিসেবে অভিহিত করেছেন। হাছান মাহমুদ বলেন, এটা জনগণের কোনো ঐক্য নয়। এটা রাজনীতিতে পরিত্যাক্ত নেতাদের ঐক্য ছাড়া অন্য কোন কিছু নয়। ড. কামাল হোসেন জনবিচ্ছিন্ন রাজনীতিতে পরিত্যক্ত। তিনি গণতন্ত্রের কথা বলেন কিন্তু তার নিজের দলেই কোন গণতন্ত্র নাই। প্রকৃতপক্ষে এই জোট হচ্ছে জনবিচ্ছিন্ন, ব্যক্তি সর্বস্ব, নামসর্বস্ব এবং রাজনীতিতে পরিত্যক্তদের একটি জোট। যাদের সাথে জনগণের কোন সম্পৃক্ততা নাই।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত