প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

যুক্তফ্রন্ট নিয়ে পাঁচ ভবিষ্যদ্বাণী

আরিফ জেবতিক : ড. কামাল হোসেন-বি. চৌধুরী-মান্না-রব সমন্বয়ে গঠিত যুক্তফ্রন্টের প্রথম নাগরিক সভা শনিবার অনুষ্ঠিত হলো। এই প্রসঙ্গে আমার কিছু বিচ্ছিন্ন প্রেডিকশন তুলে ধরছি। আপনারাও মুক্তভাবে নিজনিজ মতামত জানান। আগামীতে আমরা দেখব কোনটা কোনটা সত্যি হলো।

১. ড. কামাল হোসেনের অন্তর্ভুক্তি বিএনপির জন্য একটা লাইফলাইন। এই মুহুর্তে খালেদা জিয়া জেলে, তারেক রহমান পলাতক, বিএনপির জন্য নির্বাচনের মুখে একট‘ফেইস ভেলু’ দরকার। এখানে ড. কামাল ভালো চয়েস। বিএনপি সুশীল ভোটারদের মাঝে ড. কামাল হোসেনের মুখ ব্যবহার করে একটা সুশীল সুশীল ভাব প্রতিষ্ঠা করতে পারবে।

২. যুক্তফ্রন্টের বাকি নেতারা আসলে ধইন্যাপাতা। এই কম্বিনেশনে যুক্তফ্রন্ট ‘শেখ হাসিনা হঠাও’-এই কথার বাইরে নতুন কোনো স্বপ্ন, সম্ভাবনা, পরিকল্পনা হাজির করতে পারবেন বলে আমার মনে হয় না। আর এটা না পারলে খালি ‘হঠাও’ তে পাবলিক নড়েচড়ে বসবে না। ‘হঠাও’ গত ১০ বছর ধরেই হচ্ছে, জামাতের মতো বিধ্বংসী সংগঠনের নেতৃত্বেই হচ্ছে-হঠাতে পারেনি। এইখানে নূন্যতম কোনো আদর্শগত ঐক্য নাই। একদিকে প্রকৌশলী শহীদুল্লাহ, জোনায়েদ সাকি অন্যদিকে ববি হাজ্জাজ টু হেফাজতের ইউসুফী। এই জগাখিচুড়ি কম্বিনেশনের নেতৃত্ব সম্ভব যদি সেটা বড় দল (এক্ষেত্রে বিএনপি)’র হাতে থাকে। কিন্তু এখানে ঘঠনা ঘটছে উল্টো। এরা চায় বিএনপি তার কর্মী সরবরাহ করবে আর বিএনপির কর্মীদের উনারা নেতৃত্ব দিবেন। একটু উচ্চাশাই বটে।

এরা বিবিধ ভাগাভাগি, মান-অভিমান নিয়ে নিজেদের মধ্যে ভজঘট পাকিয়ে বসে কী না সেটাই আগামী দিনে দেখার বিষয়।

৩. সবচাইতে ক্রিটিক্যাল ইস্যু হচ্ছে জামাত। বিএনপি জামাতকে ছাড়বে নাকি জামাত বিএনপিকে ছাড়বে? যেভাবে যুক্তফ্রন্ট নেতারা আবদার জানিয়েছেন, সেই আবদারে সাড়া দিয়ে এই বড় দুই দল ডিভোর্সে রাজি হবে কী-না সন্দেহ আছে। অতীতে এর চাইতে অনেক বড় চাপের মুখেও বিএনপির শীর্ষ নেতারা জামাতকে ছাড়ে নি। সুতরাং খালেদা জিয়া কি তারেক রহমানের এক বার্তায় যুক্তফ্রন্টওয়ালাদের প্রত্যাশার বেলুন ফুটো হয়ে যেতে পারে।

৪. আমার ধারনা সরকার এবং আওয়ামী লীগ এই যুক্তফ্রন্টকে একটা স্পেস দিবে। একেবারে মারমুখী হবে না। এরা যাতে ইলেকশনে আসে সেরকম একটা প্যাম্পারিং সিচুয়েশন রাখবে। কারণ আওয়ামী লীগ এইবার সবাইকে নিয়েই ইলেকশনে আসতে চাইবে। সবচাইতে ট্র্যাজিক হতে পারে ইলেকশনের ফলাফল। দেখা গেল মান্না-রব-বিচৌধুরী-সাকি-ইউসুফ-ববি হাজ্জাজরা সবাই বিএনপির ভোটে সিট নিয়ে আসলেন আর বিএনপির জাঁদরেল নেতারা হেরে বসে থাকলেন। এটা খুবই সম্ভব। একেবারে ডার্ক পলিটিক্স অথবা ডার্ক কৌতুক ঘটতে পারে।

৫. যুক্তফ্রন্টের এই আড়ম্বরে এখানে যুক্ত কারো লসের কিছু নেই। এরা এমনিতে গুরুত্বপূর্ণ কিছু না, এখন পাইলে পাইলেন না পাইলে হারানোর কিছু নেই। একমাত্র হারালেন প্রকৌশলী শহীদুল্লাহ। ‘তেল-গ্যাস-বিদ্যুৎ-বন্দর’’ আন্দোলনকে আওয়ামী লীগ দীর্ঘদিন ধরেই বিএনপি-জামাতের পেট্রোনাইজ করা আন্দোলন বলে আসতে চায়। আমাদের মতো আমজনতা বারবারই বলে আসছিলাম যে এটা বামদের আন্দোলন। শনিবারের ঘটনার পর আওয়ামী লীগ তাদের দাবির একটা লেজিটিমেসি পেয়ে গেল মনে হচ্ছে। ফেসবুক থেকে। সম্পাদনা : রেজাউল আহসান

লেখক : সাংবাদিক ও ব্লগার

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত