প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

‘বিএনপির সঙ্গে জামায়াত ছিল এবং আছে’

বিভুরঞ্জন সরকার : বিএনপির সঙ্গে যদি জামায়াত থাকে তাহলে গণফোরাম নেতা ড. কামাল হোসেন তাদের সঙ্গে কোনো ঐক্য করবেন না- এমনটাই এতদিন শোনা গিয়েছিল। জামায়াতের সঙ্গ ছেড়েও বৃহত্তর ঐক্য প্রক্রিয়ায় বিএনপি থাকবে, এমন খবরও গণমাধ্যমে এসেছে। খালেদা জিয়া এবং তারেক রহমানের কাছ থেকে নাকি এ ব্যাপারে ‘নো অবজেকশন সার্টিফিকেট’ও নিয়েছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। খালেদা -তারেক নাকি যেকোনো শর্তে বৃহত্তর ঐক্য গড়ার পক্ষে। ডক্টর এবং ডাক্তারের ঐক্যমঞ্চে দলেবলে হাজির হয়েছিলেন মির্জা আলমগীর। গণমাধ্যমে ব্রেকিং নিউজ, সংবাদ শিরোনাম- মনে হচ্ছিল বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ঘটনা বুঝি ২২ সেপ্টেম্বর ঘটে গেছে। ঐক্য প্রক্রিয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত একজন তরুণ নেতাকে জিজ্ঞেস করলাম, ভাই কি করতে যাচ্ছেন আপনারা? কি ঘটতে যাচ্ছে দেশে?

উৎফুল্ল নেতাটি আকীর্ণ বিস্তৃতহাসি দিয়ে বললেন, ‘অপেক্ষা করুন এবং দেখুন’!

আমি ধৈর্য্য ধরতে পারি না। বলি, ভাই একটু যদি ইঙ্গিত দিতেন, একটা লেখা লিখতে পারতাম।

নেতাটি একটু ভাব নিয়ে বললেন, লিখে দেন শেখ হাসিনা আর ক্ষমতায় থাকতে পারছেন না এবং তার অধীনে দেশে নির্বাচনও হবে না। দেশের পরবর্তী সরকার প্রধান হবেন ড. কামাল হোসেন।

ওই রাজনৈতিক নেতার কথা শুনে তো আমার মাথা চক্কর দিয়ে উঠলো। দেশে দুই মাসের মধ্যে এত বড় একটি ঘটনা ঘটবে অথচ তার কিছুই আমি আঁচ-অনুমান করতে পারছি না, কেমন যেন অসহায় লাগে।

রাজনৈতিক নেতা বললেন, দেশে এমন একটি জোট বা ঐক্য গড়ে উঠবে যার পেছনে বিদেশিদেরও মদদ থাকবে। একদিকে দেশের মানুষ ফুঁশে উঠবে, অন্যদিকে বিদেশিদের চাপ। সব মিলিয়ে বাপরে বাপ! শেখ হাসিনা পদত্যাগে বাধ্য হবেন এবং তখন ড. কামাল হোসেনকে নির্বাচনকালীন সরকারের প্রধান করা হতে পারে।

আমার মাথা গুলিয়ে যায়। এত সব কা- ঘটবে দেশে? সরকার বসে বসে তামাক সেবন করবে? তবে কিছু একটা ঘটানোর পরিকল্পনা যে চলছে, সেটা ধারণা করতে পারি। ভেতরে ভেতরে কিছুটা আতঙ্কও বোধ করি। তবে সঙ্গে সঙ্গে সঙ্কট মোকাবেলায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দক্ষতা ও দৃঢ়তার কথাটাও মনে আসে। দেশে সরকারবিরোধী জোট গঠনের নামে যে ঘোট পাকানোর চেষ্টা হচ্ছে তা সফল না হওয়ার অনেক উপাদান-উপকরণ ঐক্যচেষ্টাকারীরা এরমধ্যেই ছড়িয়েছিটিয়ে দিতে শুরু করেছেন।

বিএনপির জামায়াত ছাড়ার কথাটাই প্রথমে বিবেচনায় নেওয়া যায়। স্বাধীন বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধবিরোধী ভূমিকা পালনকারী জামায়াতকে রাজনীতিতে সমাজে প্রতিষ্ঠিত করার দায়িত্ব পালন করেছেন জিয়াউর রহমান। তাই বিএনপি-জামায়াতের সম্পর্কের গভীরতা অন্য কারো পক্ষে পরিমাপ করা কিংবা অনুমান করা সহজ না। বিএনপি এবং জামায়াতকে রাজনৈতিকভাবে বিচ্ছিন্ন করা এখন একটি প্রায়অসম্ভব ব্যাপার। সোনার হাতে সোনার কাকন, কে কার অলঙ্কার!

জামায়াতের যেমন বিএনপিকে লাগবে, তেমনি বিএনপিরও এখন জামায়াতকে ছাড়া চলবে না। জামায়াত-বিএনপি সম্পর্ক নিয়ে গণমাধ্যমে মাঝেমাঝে গসিপ ছাপিয়ে কিছু সাংবাদিক মজা পান। কিন্তু বিএনপি-জামায়াতের সঙ্গ ত্যাগের কথা যারা ভাবেন তারা এই দুই দলের সম্পর্কের গভীরতার কথা বিবেচনায় নিতে ব্যর্থ হন। বিএনপি বৃহত্তর ঐক্যের ছাতার নিচে আশ্রয় নেওয়ার জন্য বিশেষ এক কায়দা করেছে। কামাল হোসেনকে বলেছে, আমরা আর জামায়াতকে নিয়ে চলছি না। আর জামায়াতকে বলছে, আমাদের বন্ধন চিরদিনের। বিএনপি নেতা ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ যেমন বলেছেন, ‘ বৃহত্তর ঐক্য প্রক্রিয়ায় জামায়াত নেই। কিন্তু ১৯৯০ সাল থেকেই তারা ২০দলীয় জোটে ছিল এবং আছে’।

নজরুল ইসলাম খান বলেছেন, ‘বিকল্প চিন্তা করে লাভ নেই। আমরা জাতীয় ঐক্যে আছি। আর জামায়াত আমাদের জোট সঙ্গী’।

ব্যাপারটা তাহলে কি দাঁড়ালো? বিএনপি এখন বৃহত্তর ঐক্যেও আছে আবার জামায়াতকে নিয়ে জোটেও আছে। এখন কামাল হোসেন কি করবেন? তিনি কি গর্ব করে বলবেন, আমাদের মঞ্চে জামায়াতকে উঠতে দেইনি। জামায়াত বিএনপিকে ছাড়ছে না এটা তো আমাদের কোনো ব্যাপার না। আমরা সরকারের পতন চাই। জামায়াতও তাই চায়। আমরা তো আর জামায়াতকে বলতে পারি না যে তোমরা সরকারের পতন চাইতে পারবে না! পরীক্ষায় প্রশ্ন কমন পড়লে সবাই খুশি হয়। বৃহত্তর ঐক্যকামীরা এখন সেই খুশির আমেজে আছে। জামায়াত ভাবছে, কেমন ভেল্কি দেখালাম!

পরিচিতি: গ্রুপ যুগ্ন-সম্পাদক, আমাদের নতুন সময়

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ