প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

আ.লীগে একাধিক সম্ভাব্য প্রার্থী, বিএনপির একক

ডেস্ক রিপোর্ট : বছরের শেষপ্রান্তে জাতীয় নির্বাচন। এরই মধ্যে সারা দেশে বইছে ভোটের হাওয়া। দলগুলোতে প্রস্তুতির তোড়জোড়। সম্ভাব্য প্রার্থীদের দৌড়ঝাঁপ তুঙ্গে। নির্বাচনী এলাকায় ঘন ঘন ছুটছেন বিভিন্ন দলের সম্ভাব্য প্রার্থীরা। কেমন তাদের প্রস্তুতি, মাঠের অবস্থাইবা কি? এ নিয়ে ধারাবাহিক প্রতিবেদন

প্রীতম দাশ, চট্টগ্রাম অফিস : নগরীর উত্তর কাট্টলী ও উত্তর পাহাড়তলী ওয়ার্ড এবং সীতাকুণ্ড উপজেলা নিয়ে গঠিত চট্টগ্রাম-৪ সংসদীয় আসন। ২০১৪ সালের সংসদ নির্বাচনে এ আসনে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন পেয়ে নির্বাচিত হন ব্যবসায়ী দিদারুল আলম। গত নির্বাচনের আগে-পরে এবং যুদ্ধাপরাধীর ফাঁসির রায়কে কেন্দ্র করে বিএনপি-জামায়াত কর্তৃক এ অঞ্চলে ব্যাপক তাণ্ডব চালানো হয়। কিন্তু সাংগঠনিক শক্ত অবস্থান গড়ে তোলার পরিবর্তে এই উপজেলায় আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা দ্ব›দ্ব-কোন্দল এবং সংঘাত-সংঘর্ষে ব্যস্ত রয়েছেন। কয়েকটি গ্রুপে বিভক্ত এই উপজেলার আওয়ামী রাজনীতি। এ নিয়ে এলাকার তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভ রয়েছে। এবারের নির্বাচনে সম্ভাব্য প্রার্থীর তালিকায় আওয়ামী লীগের বেশ কয়েক জন নেতা মনোনয়ন দৌড়ে রয়েছেন। অন্যদিকে বিএনপির মনোনয়ন পেতে সম্ভাব্য প্রার্থী রয়েছেন মাত্র একজন।

আগামী সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সারা দেশে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় টিমের সফর ও পথসভার অংশ হিসেবে গত শনিবার বিকেলে সীতাকুণ্ড উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে পথসভা হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সব ধরনের প্রস্তুতি থাকলেও উপজেলা আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে সম্ভাব্য সংঘাত আর সংঘর্ষের আশঙ্কায় কেন্দ্র থেকে এ কর্মসূচি বাতিল করতে বাধ্য হয়। মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে সংঘাতের আশঙ্কায় মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে এই পথসভাটি বাতিল করা হয়। চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের তৃণমূলের কয়েক জন নেতাকর্মী বলেন, স্থানীয় আওয়ামী লীগের গ্রুপিং-কোন্দলের কারণে সীতাকুণ্ডে সংঘাত-সংঘর্ষ লেগেই থাকে। সীতাকুণ্ডের আওয়ামী লীগ কয়েকটি ধারায় বিভক্ত। বর্তমান সংসদ সদস্য দিদারুল আলমের রয়েছে একটি গ্রুপ, অন্যদিকে উপজেলা চেয়ারম্যান এস এম

আল মামুনের গ্রুপ সমাবেশকে ঘিরে শোডাউনের প্রস্তুতি নিচ্ছিল। এ নিয়ে উত্তেজনা দেখা দেয়। পাশাপাশি উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বাকের ভূঁইয়ার নেতৃত্বে আরেকটি গ্রুপও সক্রিয়। এ ছাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি মোস্তফা কামাল চৌধুরীর নেতৃত্বে রয়েছে আরেক গ্রুপ। যে কোনো মুহূর্তে বড় ধরনের সংঘর্ষে রূপ নিতে পারে- এই আশঙ্কা থেকে পথসভা বাতিল করা হয়।

একাদশ সংসদ নির্বাচনে দুই প্রধান দলের নেতাদের মনোনয়ন প্রত্যাশা ও সম্ভাবনা নিয়ে চলছে নানা বিশ্লেষণ। মনোনয়ন পেতে ইতোমধ্যে মাঠপর্যায়ে কাজও শুরু করেছেন সম্ভাব্য প্রার্থীরা। নির্বাচনকে ঘিরে ভোটারদের মাঝে কৌত‚হল ও উৎসাহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। হাটবাজার ও দোকানপাট, মাঠে ঘাটে সর্বত্র আলোচনায় রয়েছে ক্ষমতাসীন দল আ.লীগ ও বিএনপি। আগামী সংসদ নির্বাচনে ক্ষমতাসীন আ.লীগের একাধিক প্রার্থী থাকলেও বিএনপি, জামায়াত ও জাতীয় পার্টির রয়েছে একক প্রার্থী। দলীয় টিকেট পেতে ইতোমধ্যে অনেকেই ঢাকায় কেন্দ্রে ও নিজ জেলায় যোগাযোগ ও চেষ্টা-তদবির চালিয়ে যাচ্ছেন।

এ আসনে আওয়ামী লীগ-বিএনপি উভয় দলেই গ্রুপিং-কোন্দল রয়েছে। সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকায় থাকা অধিকাংশ প্রার্থীই শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ড ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। এই শিপ ব্রেকিং শিল্প পরিবেশ দূষণ ও উপক‚লীয় বন ধ্বংসকারী শিল্প হিসেবে বিভিন্ন সময় অভিযোগ করে আসছেন পরিবেশবিদরা। সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন সরকারি খাস জায়গা দখলকারীরাও।

এ আসনে আওয়ামী লীগ সমর্থিত বর্তমান এমপি দিদারুল আলম ছাড়াও মনোনোয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে রয়েছেন আরো ৪ জন। এর মধ্যে সীতাকুণ্ডের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে সীতাকুণ্ড উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে থাকা আবদুল্লাহ আল বাকের ভূঁইয়া এলাকায় ত্যাগী রাজনীতিক হিসেবে পরিচিত। ১৯৭৮ সালে ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়ে আবদুল্লাহ আল বাকের ভূঁইয়া ১৯৯৩ সালের ১১ ডিসেম্বর সম্মেলনের মাধ্যমে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচিত হন।

বাকের ভূঁইয়া বলেন, সীতাকুণ্ডের জনপদে সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করার চেষ্টা করি। সাধারণ মানুষের কাছাকাছি যাওয়ার চেষ্টা করি। সারা জীবন স্বচ্ছভাবে রাজনীতি করেছি ত্যাগ, শ্রম ও মেধায় জনকল্যাণে মানবতার মানচিত্রে। অসাম্প্রদায়িক ও বৈষম্যহীন সমাজ গড়ার স্বপ্ন নিয়ে রাজনীতি করি। সীতাকুণ্ডবাসীর ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটাতে আগামী নির্বাচনে প্রতিদ্ব›িদ্বতা করার জন্য আমি প্রস্তুত। আশা করি, দলীয় হাইকমান্ড আমাকে মনোনয়ন দেবেন।

এ ছাড়াও রয়েছেন সাবেক এমপি আবুল কাশেম মাস্টারের ছেলে সীতাকুণ্ড উপজেলা চেয়ারম্যান ও চট্টগ্রাম উত্তর জেলা যুবলীগের সভাপতি এস এম আল মামুন, মুক্তিযোদ্ধা বখতেয়ার চৌধুরী ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি মোস্তাফা কামাল চৌধুরী।

বর্তমান এমপি দিদারুল আলম বলেন, নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে আমি চেষ্টা করছি মানুষের সেবা করতে। ব্যবসায়ী হলেও আমি রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান। আমার সামাজিক দায়বদ্ধতা রয়েছে। যেসব প্রতিশ্রæতি দিয়েছি তা পূরণ করতে পেরেছি। তারই প্রচেষ্টায় সীতাকুণ্ডে জামায়াত-শিবিরের আস্তানা গুঁড়িয়ে দেয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। এমপি দিদারুল আলম আরো বলেন, আওয়ামী লীগে আগে নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন ছিল না। আমি মূল্যায়ন করার চেষ্টা করেছি। আগামী নির্বাচনে মনোনোয়ন পেয়ে নির্বাচিত হলে সীতাকুণ্ডবাসীর সেবক হয়ে অসমাপ্ত কাজগুলো শেষ করব।

তবে আরেক সম্ভাব্য প্রার্থী উপজেলা চেয়ারম্যান এস এম আল মামুন বর্তমান এমপি দিদারুল আলমের কর্মকাণ্ড আইওয়াশ ছাড়া কিছুই নয় উল্লেখ করে বলেন, প্রত্যেক এমপির এলাকার উন্নয়নের জন্য ২০ কোটি টাকা সরকারি অনুদানের বাইরে আমাদের এমপি আর কোনো উন্নয়ন করতে পারেননি। আমি এলাকার জন্য দিন-রাত কাজ করছি। আমার বাবা আবুল কাশেম মাস্টার একজন জনপ্রিয় এমপি ছিলেন। বাবার নাম রাখতে আমি সব সময়ই তৎপর। আমি এলাকার আনাচে-কানাচে উন্নয়ন করেছি। প্রধানমন্ত্রী মনোনোয়ন দিলে ও নির্বাচিত হলে বাবার অসমাপ্ত কাজগুলো সম্পন্ন করব।

এদিকে ধানের শীষের একক প্রার্থী হিসেবে অনেকটা নিশ্চিত রয়েছেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব আসলাম চৌধুরী। সীতাকুণ্ডসহ আশপাশের এলাকায় বিএনপি-জামায়াত কর্তৃক পরিচালিত নাশকতার অর্থ জোগানদাতা হিসেবে আসলাম পরিচিত। তার বিরুদ্ধে রয়েছে নাশকতার একাধিক মামলা। ২০০৮ সালের সংসদ নির্বাচনে আসলাম চৌধরী সীতাকুণ্ড আসন থেকে বিএনপির প্রার্থী হয়ে পরাজিত হন। তবে দলে তার প্রভাব দ্রুত বাড়তে থাকে। তিনি চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হন। এরপর কয়েক বছর যেতে না যেতেই ২০১৪ সালের ২৬ এপ্রিল তিনি উত্তর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হন। পরে বিএনপির কেন্দ্রীয় সম্মেলন শেষে হন দলের যুগ্ম মহাসচিব।

আসলাম চৌধুরীকে নিয়ে আবারো সমালোচনার ঝড় ওঠে বিএনপির ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ কানেকশন নিয়ে। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ছেলে তারেক রহমানের হাত ধরে উত্থান আসলাম চৌধুরীর। বর্তমানে কারাগারে থাকলেও তার জায়গা অন্য কেউ নিতে পারবে না বলেই অভিমত সমর্থকদের।

এদিকে প্রচারণায় রয়েছেন জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব দিদারুল কবির দিদার। তিনি মহাজোট থেকে এ আসনে প্রার্থী হওয়ার আশা প্রকাশ করে প্রতিনিয়ত গণসংযোগে ব্যস্ত সময় পার করছেন। দিদারুল কবির দিদার বলেন, হুসেন মুহম্মদ এরশাদ আমার বিষয়ে আন্তরিক। সীতাকুণ্ডে যেহেতু আওয়ামী লীগের অধিক প্রার্থী রয়েছে তাই তাদের মনোনয়ন দিলে শৃঙ্খলা ভাঙার আশঙ্কা রয়েছে। তাই মহাজোট থেকে আমাকে মনোনয়ন দেয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে মনোনয়ন না দিলেও জাপা থেকে একক প্রার্থী হিসেবে আমি নির্বাচন করব।

অপরদিকে জামায়াতে ইসলামীও মাঠ গোছাতে ব্যস্ত। জামায়াত এককভাবে আসনটি পেতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। সেখানে তাদের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন সাবেক শিবির নেতা আনোয়ার সিদ্দিকী চৌধুরী। সূত্র : ভোরের কাগজ

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত