প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

খানাখন্দে ভরা সড়ক

ডেস্ক রিপোর্ট : বাঞ্ছারামপুর-হোমনা-গৌরীপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের সাড়ে ৭ কিলোমিটারজুড়ে খানাখন্দ সৃষ্টি হওয়ায় চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এতে হাজারো মানুষ প্রতিনিয়ত ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। পাঁচ বছর ধরে সড়কটি সংস্কার না হওয়ায় এমন অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বলে সংশ্নিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। এলাকাবাসী সড়ক সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, বাঞ্ছারামপুর-হোমনা-গৌরীপুর সড়কের বাঞ্ছারামপুর উপজেলায় ১৩ কিলোমিটার সড়ক রয়েছে। ১৮ ফুট পাকা সড়কটির সাড়ে ছয় কিলোমিটার বাঞ্ছারামপুর-হোমনা সেতুর উত্তর প্রান্ত থেকে কৃষ্ণনগর কালভার্ট পর্যন্ত পুনর্নির্মাণ কাজ বাস্তবায়ন করছে সওজ কর্তৃপক্ষ। তবে কৃষ্ণনগর কালভার্ট থেকে জগন্নাথপুর মোড় এলাকা পর্যন্ত সাড়ে ছয় কিলোমিটার এবং কালিকাপুর বাজারে আড়ইশ’ মিটার, রাধানগর মাদ্রাসা মোড় এলাকায় ৭৫০ মিটার সড়ক টেন্ডার প্রক্রিয়া শুরু না হওয়ায় সংস্কার কাজ হচ্ছে না। পাঁচ বছর আগে সড়কের এ অংশটি সংস্কার করা হয়েছিল বলে জানিয়েছেন সংশ্নিষ্টরা। রাধানগর মাদ্রাসা মোড় ও কালিকাপুর বাজার এলাকায় প্রায় এক কিলোমিটার সড়কে নির্মাণে দরপত্র হয়েও তা পরে বাতিল হয়ে যায়।

সরেজমিনে গত শনিবার ওই সড়কে দেখা যায়, কৃষ্ণনগর কালভার্ট থেকে উত্তর দিকে প্রায় ১০০ মিটার সড়কে পিচ ও ম্যাকাডম উঠে ছোট-বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। তারও প্রায় ২০০ মিটার দূর থেকে উজানচর খাদ্যগুদাম পর্যন্ত প্রায় ৫০০ মিটারজুড়ে আরও নাজুক অবস্থায় রয়েছে। এসব স্থানে রয়েছে ছোট-বড় অসংখ্য গর্ত। কোথাও কোথাও পাকা সড়কের দু’পাশ থেকে পিচ উঠে রাস্তা সরু হয়ে গেছে। উজানচর ইউছুফ মার্কেটের সামনে প্রায় এক ফুট গভীর গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। উজানচর থেকে বাঞ্ছারামপুর ব্র্যাক সেন্টার পর্যন্ত অন্তত চার কিলোমিটারজুড়ে কোথাও গর্ত কোথাও উঁচু-নিচু হয়ে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। মাত্র সাত কিলোমিটার যেতে অন্তত ৩০ মিনিট সময় লাগে বলে জানিয়েছেন বিভিন্ন যানের চালকরা। অন্যদিকে কালিকাপুর বাজার ও রাধানগর মাদ্রাসা মোড় এলাকায় বড় বড় গর্ত রয়েছে।

অটোরিকশা চালক স্বাধীন মিয়া বলেন, ‘বাঞ্ছারামপুর থেকে হোমনা যাইতে সময় যেমন বেশি লাগে তেমনি গাড়িরও সমস্যা হয়। রাস্তা ভাঙনের কারণে শরীর ব্যথা হইয়া যায়।’

ট্রাকচালক সোলাইমান হোসেন বলেন, ‘পিঁপড়ার গতিতে গাড়ি চালাতে হয় বাঞ্ছারামপুর-হোমনা সড়কে। মালামাল লইয়া গাড়ি চালানো অনেক কষ্টের। রাস্তা ভাঙার কারণে গাড়ি হেলেদুলে চলে আর বুকটা ধড়ফড় কইরা কাঁপে, কোন সময় যেন গাড়ি উল্টাইয়া যায়। কবে যে রাস্তাডা ঠিক করবে আল্লাহই জানেন।’

সওজ বাঞ্ছারামপুর অঞ্চলের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী এম এ কাইয়ুম বলেন, সড়কটি পুনর্নির্মাণের জন্য অনেক আগে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছিল সওজ মন্ত্রণালয়ে। কিন্তু তাতে সমস্যা দেখা দেওয়ায় দুই সপ্তাহ আগে আবারও প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। প্রস্তাব অনুমোদন হলেই দরপত্র দিয়ে ঠিকাদার নিয়োগ দেওয়া হবে। বুধাইরকান্দি এলাকার সেতু নির্মাণ প্রকল্প থেকে বাদ দেওয়ায় আরসিসির সড়কটিও বাদ পড়ে যায়। আর তার প্রস্তাব একই সঙ্গে দেওয়া হয়েছে।
সূত্র : সমকাল

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত