প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

adv 468x65

ঐক্যের চাপে বিএনপি

ডেস্ক রিপোর্ট : সব দলের অংশগ্রহণে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবিতে ‘বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য’ গড়ে তুলতে চাপের মুখে পড়েছে বিএনপি। শনিবার জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার নাগরিক সমাবেশের মাধ্যমে এর সূচনা হওয়ার পর এটিকে ‘চূড়ান্ত রূপ’ দিতে দলটিকে ভেবেচিন্তে এগোতে হচ্ছে। বিএনপিকে এখন তিনটি বড় চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হবে। এগুলো হলো- সংসদ নির্বাচনে আসন বণ্টন করা, রাজনীতিতে গুণগত পরিবর্তন আনা এবং জামায়াতে ইসলামী-সংক্রান্ত জটিলতার ইতিবাচক সমাধান করা, যাতে জাতীয় ঐক্যের ক্ষতি না হয়। অবশ্য ঐক্য গড়ার অভিপ্রায়ে বড় ধরনের ‘ছাড়’ দিয়ে হলেও সংকট সমাধানের চেষ্টা করছেন দলটির নীতিনির্ধারকরা। এ লক্ষ্যে দফায় দফায় বৈঠকও করছেন তারা।

ঐক্যের পথে প্রথম সমস্যা সমাধানে শীর্ষ নেতাদের নির্বাচনী আসন ছাড় দেওয়া নিয়ে আলোচনা করছেন নেতারা। আসন বণ্টনের একটি খসড়া তালিকাও প্রস্তুত করছেন তারা। একই সঙ্গে কাজ করছেন ভবিষ্যতে রাজনীতির গুণগত পরিবর্তন আনতে রাষ্ট্রের শীর্ষ পদে ক্ষমতার ভারসাম্য আনার বিষয় নিয়ে। ঐক্য গড়তে দলের কারাবন্দি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও লন্ডনে অবস্থানরত ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সম্মতি নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে যাচ্ছে দলটি।

দলীয় সূত্র জানায়, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবিতে ২৭ সেপ্টেম্বর সোহরাওয়ার্দী বা নয়াপল্টনে আহূত সমাবেশে দাবি-দাওয়া ও লক্ষ্য-উদ্দেশ্য উপস্থাপনের মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান পরিস্কার করবে বিএনপি। বৃহত্তর ঐক্য গড়ার লক্ষ্যে ওই সমাবেশে ঐক্য প্রক্রিয়ার শীর্ষ নেতাদেরও আমন্ত্রণ জানাবে তারা। অবশ্য জামায়াতের সঙ্গে দৃশ্যমান দূরত্ব প্রমাণ করতে সমাবেশে জামায়াতের নেতাদের আমন্ত্রণ জানানো হবে না। তবে গতকাল রাতে সমাবেশের তারিখ পরিবর্তন নিয়ে দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। পরিবর্তিত তারিখ ২৯ সেপ্টেম্বর হতে পারে।

এ বিষয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করতে একটি অংশগ্রহণমূলক অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলার চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছেন তারা। দেশ ও গণতন্ত্রের স্বার্থে তারা দল ও নিজেদের ব্যক্তি-স্বার্থের ঊর্ধ্বে চিন্তা করছেন। তিনি আশা করেন, খুব শিগগির সব চ্যালেঞ্জ ও ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করে বৃহত্তর ঐক্য গড়তে সক্ষম হবেন তারা। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বৃহত্তর ঐক্য গড়তে প্রয়োজনে বড় ধরনের ছাড় দিতে প্রস্তুত। আগামী একাদশ সংসদ নির্বাচনের আগে সরকারকে চাপে ফেলে সুষ্ঠু নির্বাচনের লক্ষ্যে নির্দলীয় সরকারের দাবি আদায় করতে চায় বিএনপি। এ লক্ষ্যে নিজেদের শক্তির সঙ্গে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন জোটের বাইরের উদারপন্থি ও বামপন্থি দলগুলোকে নিয়ে বৃহত্তর ঐক্য গড়তে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাচ্ছে দলটি। শনিবার ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার নাগরিক সমাবেশে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দলের স্থায়ী কমিটির তিন সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ ও ড. আবদুল মঈন খানকে নিয়ে যোগ দেন।

সূত্র জানায়, এ সমাবেশে যোগদানের মাধ্যমে ঐক্যের প্রক্রিয়ার আনুষ্ঠানিক সূচনা শুরু হলেও জাতীয় ঐক্যের পথে মৌলিক ইস্যুগুলোর এখনও সুরাহা হয়নি। ঐক্য প্রক্রিয়াকে সফল করতে বড় দল হিসেবে বিএনপির দায়িত্বই সবচেয়ে বেশি বলে মনে করেন উদ্যোগী নেতারা। বিএনপিকে দ্রুত তাদের ‘ছাড়’ দেওয়া বা না দেওয়ার ক্ষেত্রগুলো এবং দাবি ও লক্ষ্যগুলো উপস্থাপন করতে চাপ দিচ্ছেন ঐক্য প্রক্রিয়ার নেতারা। এ পরিস্থিতিতে ঐক্য প্রক্রিয়া সফল করতে শনিবারের সমাবেশের পর থেকে বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্যরা রবি ও সোমবার দু’দফা বৈঠকে মিলিত হন।

আসন বণ্টন নিয়ে জটিলতা :বিএনপি নীতিনির্ধারক সূত্র জানায়, বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য গড়ার পথে বিএনপি সবচেয়ে বড় সমস্যায় পড়েছে আসন বণ্টন নিয়ে। এরই মধ্যে গণমাধ্যমে সংবাদ বেরিয়েছে, ঐক্য প্রক্রিয়ার নেতাদের পক্ষ থেকে দেড়শ’ আসন চাওয়া হয়েছে। যদিও এটি আনুষ্ঠানিক কোনো বৈঠকে তারা উপস্থাপন করেননি। তবে বিকল্পধারার যুগ্ম সম্পাদক মাহী বি. চৌধুরীর গণমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যকে সমর্থন করেছেন তার বাবা পার্টির চেয়ারম্যান অধ্যাপক বদরুদ্দোজা চৌধুরীও। যদিও বিএনপির মতো একটি বড় দলের পক্ষে জোটের শরিকদের একশ’ আসন ছাড়াও কঠিন বিষয়। এ পরিস্থিতিতে বিএনপির নীতিনির্ধারক নেতারা কয়েকদিন ধরে জাতীয় ঐক্যের নেতাদের আসন ছাড় দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে মতবিনিময় করছেন। সারাদেশে তিনশ’ আসনের তালিকা ধরে বিএনপি ও ২০ দলীয় জোটের শরিক দলের চূড়ান্ত ও সম্ভাব্য প্রার্থীদের নামের তালিকা সামনে রেখে জাতীয় ঐক্যের বিভিন্ন দলের গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের মধ্যে বণ্টনের খসড়া তালিকা তৈরি করছেন তারা।

সূত্র জানায়, এরই মধ্যে জাতীয় ঐক্য এবং ২০ দলীয় জোটের নেতাদের জন্য অর্ধশত আসনের একটি খসড়া তালিকা তৈরি করছে বিএনপি। ঐক্য জোটের নেতাদের সন্তুষ্ট করতে বিএনপির অনেক গুরুত্বপূর্ণ নেতাকে আসনবঞ্চিত হতে হবে। তার পরও বৃহত্তর স্বার্থে বিএনপি নীতিনির্ধারকরা দলের প্রভাবশালী ওইসব নেতাকে দেশের ও গণতন্ত্রের স্বার্থে ছাড় দেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে ভবিষ্যতে তাদের মূল্যায়ন করার সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন।

নাম প্রকাশ না করে বিএনপির একজন সিনিয়র নেতা বলেন, ঐক্য প্রক্রিয়ার যেসব নেতার নিজের সুনির্দিষ্ট নির্বাচনী এলাকা আছে, সেগুলোতে বিএনপি ছাড় দেবে। একই সঙ্গে যেসব জাতীয় পর্যায়ের নেতার সুনির্দিষ্ট কোনো আসন নেই, তাদের জন্য আসন খুঁজে বের করা হচ্ছে। এতে তাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। নানা হিসাব-নিকাশ করতে হচ্ছে। মোকাবেলা করতে হচ্ছে নানা তদবির-লবিং। তার পরও ঐক্য সফল করতে সর্বোচ্চ ছাড় দেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন তারা।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, দেশের প্রয়োজনে বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য গড়তে তুলতে তারা জোর চেষ্টা চালাচ্ছেন। এরই মধ্যে এই ঐক্যের পক্ষে দেশের জনগণ ও সুশীল সমাজ ইতিবাচক সাড়া দিয়েছেন। তারা আশা করেন, জনগণের চাওয়া অনুযায়ী তারা বৃহত্তর ঐক্য গড়তে দলভাবে যাবতীয় প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

রাজনীতিতে গুণগত পরিবর্তন আনার চ্যালেঞ্জ :আগামী দিনে বিএনপির রাজনৈতিক গুণগত পরিবর্তন আনা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। বিশেষ করে রাষ্ট্রের শাসনক্ষমতার ভারসাম্য আনা ঐক্য প্রক্রিয়ার শীর্ষ নেতা যুক্তফ্রন্টের চেয়ারম্যান সাবেক রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক ডা. বদরুদ্দোজা চৌধুরী এবং গণফোরামের সভাপতি ড. কামালের অন্যতম দাবি। এ দাবি বাস্তবায়ন করতে হলে আগামীতে বিএনপি ক্ষমতায় এলে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী পদের মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য আনতে হবে। পাশাপাশি সুশাসন প্রতিষ্ঠায় দুর্নীতিমুক্ত দেশ গড়তে আরও কিছু গুণগত পরিবর্তন আনার বিষয়ও ভাবছেন তারা।

সূত্র জানায়, সময়ের প্রয়োজনে বিএনপি এ দাবি পূরণের আশ্বাস দিচ্ছে। বিএনপির লক্ষ্যগুলোর মধ্যে রয়েছে রাষ্ট্রের সর্বস্তরে সুশাসন প্রতিষ্ঠা নিশ্চিত করা; সব প্রতিহিংসার রাজনীতির অবসানে জাতীয় ঐকমত্য গঠন; রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে দলীয়করণের ধারার বদলে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা; রাষ্ট্রক্ষমতায় গ্রহণযোগ্য ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা; স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিচারক নিয়োগ এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও ক্ষমতা নিশ্চিত করা; স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের রক্ষাকবচ দেশপ্রেমিক সশস্ত্র বাহিনীকে আরও আধুনিক, শক্তিশালী ও কার্যকর করা; গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা; দুর্নীতি প্রতিরোধে দায়িত্বরত প্রতিষ্ঠানগুলোকে যথাযথভাবে সংস্কার ও কার্যকর করা এবং সব নাগরিকের মৌলিক মানবাধিকারের নিশ্চয়তা বিধান করা।

একইসঙ্গে সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব এবং কারও সঙ্গে বৈরিতা নয়- এ মূলনীতিকে অনুসরণ করে জাতীয় মর্যাদা এবং স্বার্থ সংরক্ষণ করে স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করা; প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সৎ পারস্পরিক, সৎ প্রতিবেশীসুলভ বন্ধুত্ব ও সমতার ভিত্তিতে ব্যবসা-বাণিজ্য, যোগাযোগ, বিনিয়োগ ইত্যাদি ক্ষেত্রে আন্তরিকতাপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলার কার্যকর উদ্যোগ ও পদক্ষেপ গ্রহণ করা; কোনো ধরনের সন্ত্রাসবাদকে মদদ না দেওয়া এবং কোনো জঙ্গিগোষ্ঠীকে বাংলাদেশের ভূখণ্ড ব্যবহার করতে না দেওয়া; সর্বনিম্ন আয়ের নাগরিকদের মানবিক জীবন নিশ্চিত করে, আয়ের বৈষম্যের অবসানকল্পে অর্থনৈতিক নীতি গ্রহণ এবং শ্রমজীবী জনগণের জীবনযাত্রার মানের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ জাতীয় নূ্যনতম মজুরি নির্ধারণ করা বিএনপির অন্যতম লক্ষ্য।

সূত্র জানায়, সুষ্ঠু নির্বাচনের লক্ষ্যে পাঁচ দফা দাবি তুলছে বিএনপি। অবশ্য এ দাবিগুলো ঐক্য প্রক্রিয়ার সব দলেরই মূল দাবি হিসেবে থাকছে। দাবিগুলো হলো- অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনে নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন, সংসদ ভেঙে দেওয়া, নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন, নির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েন এবং নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার না করা।

জামায়াত নিয়ে জটিলতা :২০ দলীয় জোটের অন্যতম শরিক জামায়াতে ইসলামীকে নিয়ে বেকায়দায় আছে বিএনপি। মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধে অভিযুক্ত জামায়াত ইসির নিবন্ধন হারালেও জোটের শরিক হিসেবে দলটি বিএনপির সঙ্গে রয়েছে। ইতিমধ্যে বিকল্পধারার চেয়ারম্যান বি. চৌধুরী বলেছেন, যারা স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে না, তাদের সঙ্গে কোনো ঐক্য হতে পারে না। জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার আহ্বায়ক ড. কামাল হোসেনও বলেছেন, যুদ্ধাপরাধীদের সঙ্গে কোনো ঐক্য হতে পারে না। জামায়াতকে ঐক্য প্রক্রিয়ায় নেওয়া হবে না। এ পরিস্থিতিতে বিএনপি কৌশলী ভূমিকা নিয়ে এগোচ্ছে। ২০ দলীয় জোটের মতামত নিয়ে শুধু বিএনপি বৃহত্তর ঐক্যে যোগ দেওয়ার কৌশল নিয়েছে। শনিবারের জাতীয় ঐক্যের নাগরিক সমাবেশেও জামায়াতে ইসলামীকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। তবে জোটের কয়েকটি শরিক দলের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

সূত্র জানায়, বিএনপি কোনোভাবেই জামায়াতকে ছাড়তে রাজি নয়। দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া জামায়াতের ভোট ব্যাংকের হিসাব-নিকাশ করে নির্বাচনের আগে জামায়াত হাতছাড়া করতে রাজি নন। জাতীয় ঐক্যের নেতারা জামায়াত ইস্যুতে বিএনপির কাছ থেকে সুস্পষ্ট ঘোষণার আগে জাতীয় ঐক্য গড়া সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেছেন। ঐক্য প্রক্রিয়ার নেতাদের চাপের মুখে আপাতত জামায়াতকে কিছুটা এড়িয়ে চলার কৌশল নিয়েছে বিএনপি। আগামীতে কী করবে বিএনপি- এ প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে রাজনৈতিক অঙ্গনে।

এ বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য হবে বিএনপির সঙ্গে। জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে নয়। কাজেই জামায়াত বৃহত্তর ঐক্যের পথে কোনো সমস্যা হওয়ার কথা নয় বলে মনে করেন তিনি। সূত্র : সমকাল

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত