প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

বৈরী আবহাওয়ায় খাদ্য উৎপাদন ঝুঁকিতে বাংলাদেশ: এফএও

সাজিয়া আক্তার : বাংলাদেশে সারা বছরে বেশির ভাগ সময়েই প্রাকৃতিক দূর্যোগের মধ্যে দিয়ে যায়। আর এই বৈরী আবহাওয়ার কারণে খাদ্য উৎপাদন ব্যাহত হতে পারে বলে আশঙ্কা করেছে বিশ্ব খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও)। সূত্র : বাংলা ট্রিবিউন

জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে জানা যায়, বাংলাদেশের ঘূর্ণিঝড়কে শস্য ক্ষতির সবচেয়ে বড় হুমকি বিবেচনা করেছে তারা। এছাড়া খরা ও বন্যার কথাও তো আছেই। মূলত উপকূলীয় অঞ্চলে ঘূর্ণিঝড় বেশি হয়। এতে করে সমুদ্রের পানির লবণাক্ততা মিঠা পানিতে জমা হচ্ছে। ফলে বিশুদ্ধ পানির অভাবে খাদ্য উৎপাদন অনেকটা ব্যাহত হচ্ছে।

স্টেট অব ফুড সিকিউরিটি অ্যান্ড নিউট্রিশন প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, বাংলাদেশের জনসংখ্যার বিশাল অংশ কৃষিক্ষেত্রের ওপর নির্ভরশীল। প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে পর্যাপ্ত পরিমাণ ফসল উৎপাদন করতে না পারায় এখানে পুষ্টিহীনতা দেখা যায়।

ঘূর্ণিঝড় সিডর ও আইলার আঘাতে বাংলাদেশে ভয়াবহ ক্ষতি হয়েছে। এতে করে দক্ষিণপশ্চিমাঞ্চলীয় উপকূল চাষাবাদের অনুপযুক্ত হয়ে পড়েছিলো। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশে ধান উৎপাদন কম হলে চালের দাম বেড়ে যায়।

ঘূর্ণিঝড়ের কারণে লবণাক্ত পানি উপকূল পেরিয়ে আসে। হঠাৎ বন্যার কারণে অক্সিজেনের অভাব দেখা দেয়, বাতাসে ক্ষতিগ্রস্ত হয় গাছ। সবকিছু একইসাথে হতে পারে। বিরূপ জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে কৃষিব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত এবং সবাই অন্য কোথাও জীবিকার খোঁজ করতে পারে। দেখা দিতে পারে অনাহার ও মৃত্যুরও।

বিশ্বের জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ইতোমধ্যে শস্য উৎপাদনের হার কমে গেছে। বিশেষ করে গম ও চাল। জলবায়ু পরিস্থিতির উন্নতি না হলে এটি আর ভয়াবহ রূপ ধারণ করতে পারে। বিগত কয়েকবছরে শস্য উৎপাদন হয়ে এমন অঞ্চলে উষ্ণতা বৃদ্ধি এবং শস্য উৎপাদনের হার হ্রাস পেয়েছে। এছাড়া বৃষ্টিপাতেও অনেক পরিবর্তন এসেছে।

বাংলাদেশ সেন্টার ফর অ্যাডভান্সড স্টাডিস (বিসিএএস) বলেছেন, মাটিতে লবনের পরিমাণ বেড়ে যাওয়ার মূল কারণই হচ্ছে জলবায়ু পরিবর্তন। বিশেষ করে ঘূর্ণিঝড় ও সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি পাওয়ায় উপকূলীয় অঞ্চলে চাল উৎপাদন কমে গেছে। দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সাতক্ষীরা জেলাই সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মুখে রয়েছে। এখানকার মাটিতে লবন ও দারিদ্রতা বেশি হওয়ার তাদের ঝুঁকি বেশি। গত ২০ বছরে সাতক্ষীরার মাটিতে লবন অনেক বেড়েছে।

জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি একটি পৃথক প্রতিবেদনে জানায়, বাংলাদেশে প্রতি বর্গকিলোমিটারে ৯৪০ জন মানুষ বসবাস করে। আর মোট জনসংখ্যার ৭০ শতাংশ মানুষ যেখানে বসবাস করে তারা সবাই সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে মাত্র ৫ মিটার উঁচুতে রয়েছেন। ফলে এই মানুষেরা বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, লবণ পানি ও নদীভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে।

দেশের ৩০ থেকে ৫০ শতাংশ মানুষ প্রতিবছর প্রাকৃতিক দুর্যোগের শিকার হয়।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ