প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

‘বাংলাদেশ সম্পর্কে অমিত শাহ’র বক্তব্য অশোভনীয় ও অগ্রহণযোগ্য’

তরিকুল ইসলাম : ভারতে কতিথ বাংলাদেশি অভিবাসীদের উইপোকার সঙ্গে তুলনা করেছেন ভারতে ক্ষমতাসীন দল বিজেপির সভাপতি অমিত শাহ। একই সময়ে তিনি ভোটার তালিকা থেকে তাদের প্রত্যেকের নাম বাদ দেয়ারও ঘোষণা দিয়েছেন। শনিবার রাজস্থানের সাবাই মাধোপুরে এক জনসভায় এমন ঘোষণা দেবার পর এ নিয়ে ঢাকায় এক ধরনের প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। অমিতশাহ’র দেওয়া বক্তব্য অশোভনীয়, অত্যন্ত লজ্জাস্কর ও অগ্রহণযোগ্য বলেই মনে করেছেন ঢাকার কূটনীতিক ও সম্পর্ক বিশ্লেষকরা।

সোমবার আমাদের এ প্রতিবেদকের সাথে আলাপকালে ঢাকার কূটনীতিক ও সম্পর্ক বিশ্লেষকরা বলছেন, দেশটির রাজনীতিবিদ এবং আদলত বাংলাভাষীদের বাংলাদেশ থেকে যাওয়া অবৈধ অভিবাসী বলেই মনে করছেন। দেশটির এমন মনোভাবের ফলে শরণার্থী সংকট মোকাবেলায় নতুন করে ভাবতে হবে বাংলাদেশকে। রোহিঙ্গা সংকট মোকাবেলায় খুব একটা অগ্রগতি না হলেও বাংলাদেশ এ অবস্থায় যদি শরণার্থীদের আশ্রয় দেওয়া নিয়ে খুব একটা কৌশলি না হয় তার ভয়াবহ প্রভাব বাংলাদেশকে পেতে হতে পারে বলে মনে করছেন কূটনীতিকরা।

কূটনৈতিক বিশ্লেষক হুমায়ুন কবিরের মতে, অমিত শাহ তার ভুল ধারণা থেকেই এ ধরনের বক্তব্য দিয়েছেন। এ ধরনের মন্তব্য অশোভনীয়। ভারতে ক্ষমতাসীন দল বিজেপির সভাপতি হিসেবে অমিত শাহ যথেষ্ট যৌক্তিভাবে কথা বলছেন না। এতে করে যেমন বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কে বিরুপ প্রভাব তৈরি হতে পারে ঠিক তেমনি ভাবে এখানে এক ধরনের প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।

সাবেক কূটনীতিক মুহাম্মদ জমির বলছেন, অমিত শাহ যে বক্তব্য দিয়েছেন তা অত্যন্ত লজ্জাস্কর। দেশটির দ্বায়িত্বশীল ব্যাক্তি হয়ে তাদের এ ধরনের বক্তব্য দেওয়াটা অগ্রহণ যোগ্য। তাদের উচিৎ হবে আরও সংযত হয়ে কথা বলা। এ ধরনের বক্তব্য উভয় দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের জন্য সুখকর নয়। আন্তর্জাতিক রাজনীতি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. তারেক শামসুর রেহমানের মতে, অমিত শাহের এমন মন্তব্যের মূল কারণ হচ্ছে পশ্চিম বাংলায় মমতা ব্যানার্জীকে হটিয়ে বিজেপি সরকারকে ক্ষমতায় বসানো। মূলত মমতা ব্যাণার্জীকে টার্গেট করে এমন কথা বলছেন অমিত শাহ।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির হিন্দুত্ববাদী ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) এই ‘বহিরাগতবিরোধী’ প্রচারণাকে ব্যবহার করেই ২০০৬ সালে রাজ্যটিতে ক্ষমতাসীন হয়। তার প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী জাতীয় নাগরিকত্বের তালিকা হালনাগাদ করা হয়। তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন আসামের ৪৫ শতাংশ বাসিন্দা। যারা সবাই আসামে বসবাসকারী সব ধর্মের বাংলাভাষী মানুষ। যার মধ্যে প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, সাবেক সংসদ সদস্য, সরকারি চাকুরীজীবি, ব্যবসায়ী এবং ধর্মগুরু রয়েছেন। রাজ্য সরকারের মতে, নাগরিকত্বের তালিকার প্রথম ধাপে যাদের নাম উঠেনি তাদের উত্তরাধিকার সংক্রান্ত তথ্যে ‘অসামঞ্জস্যতা’ ছিলো। বাংলাভাষী এসব মানুষের মধ্যে অন্যান্য ধর্মের থেকে মুসলিম ধর্মের অনুসারী বেশি।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ