প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

adv 468x65

আওয়ামী কু-রাজনীতির মধ্যে নিপতিত দেশ : বিএনপি

শাহানুজ্জামান টিটু : দেশ এখন আওয়ামী কু-রাজনীতির ঘোঁট পাকানো অবস্থার মধ্যে নিপতিত হয়েছে। এখন সরকারের ইচ্ছা অনিচ্ছা অনুযায়ী আইনী প্রক্রিয়া ও বিচারিক কার্যক্রম চলে। ২১ শে আগষ্টের বোমা হামলা মামলা এটির একটি প্রকৃষ্ট উদাহরণ।

দলটি বলছে, আওয়ামী লীগের সুশাসনের বোধ কখনোই ছিল না। নানা ফন্দিফিকির করে ক্ষমতায় এসে সন্ত্রাস বিতরণের কেন্দ্রে পরিণত হয়। আওয়ামী ক্ষমতাসীনরা ব্যাংক-বীমা, শেয়ার বাজার, বিদ্যুৎ, জ্বালানী, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য সেক্টর সবই আত্মসাৎ করেছে। এখন বেওয়ারিশ লাশ দাফনের সেবা দানকারী প্রতিষ্ঠান আঞ্জুমানে মফিদুল ইসলাম এর উপরেও এদের নেক নজর পড়েছে। যুবলীগের মহানগরীর নেতারা আঞ্জুমান মফিদুল ইসলাম এর উপরে চড়াও হয়েছে বিপুল অংকের চাঁদা আদায়ের জন্য। এই ঘটনা জনমনে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে। আর কিছুদিন পর হয়তো আওয়ামী সন্ত্রাসীরা লাশের কাছ থেকেও চাঁদা চাইবে।

সোমবার দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির মুখপাত্র রহুল কবির রিজভী এসব কথা বলেন। সাবেক প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহা’র প্রতি সরকারের আচরণের ঘটনাগুলো প্রকাশ হওয়ায় দেশবাসীসহ বিশ্ববাসী বিমূঢ় বিস্ময়ে হতবাক হয়েছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, দেশের প্রধান বিচারপতিকে যেভাবে সরকার প্রধান থেকে শুরু করে অন্যান্য মন্ত্রীরা হুমকি, গালিগালাজ ও লাঞ্ছিত করেছেন তাতে আওয়ামী রাজনীতির বিকৃত সংস্কৃতি আবারও জনগণের কাছে সুষ্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে।

তিনি বলেন, কিভাবে বিচার বিভাগের স্বাধীনতার ওপর সরাসরি আগ্রাসন চালিয়ে প্রধান বিচারপতিকে দেশ থেকে বিতাড়িত করা হয়। মানুষের শেষ আশয়স্থলকেও দখলে নিয়েছেন শেখ হাসিনা বলে জনগণ বিশ^াস করে। ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা প্রসঙ্গে বিএনপির এই নেতা প্রশ্ন তুলে বলেন, আমরা এ বিষয়ে ইতোপূর্বে বেশ কিছু কথা আপনাদের সামনে উপস্থাপন করেছি। কাহার আকন্দের দাখিলকৃত চার্জশিটের বর্ণনায় বলা হয়েছে যে, ২১শে আগষ্ট ২০০৪ হামলাকারি আসামীরা উপমন্ত্রী আব্দুস সালাম পিন্টুর বাসা হতে গ্রেনেডগুলো সংগ্রহ করে তা পশ্চিম মেরুল বাড্ডায় মুফতি হান্নানের অফিসে নিয়ে আসে। অত:পর সেখানে অপারেশনের খুঁটিনাটি বিষয় নিয়ে চূড়ান্ত মিটিং করে। পরদিন ২১শে আগষ্ট ২০০৪ সকালেই তারা অপারেশনস্থলের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়ে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সভাস্থলে পৌঁছে যায়।

রিজভী বলেন, দেশী-বিদেশী (এফবিআই) তদন্ত সংস্থা তথা এমন অপরাধ সম্পর্কিত সামরিক বিশেষজ্ঞরাও ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে মন্তব্য করেছিলেন যে, এমন নিখুঁত টাইমিং ও টার্গেট (ট্রাক-মঞ্চ পরিহার করে পরিচালিত) সফল হামলা অবশ্যই এ বিষয়ে প্রফেশনাল লোক তথা যথাযথ পূর্ব রিহার্সেল ছাড়া এককথায় অসম্ভব। সংগত কারণেই যদি বিশেষজ্ঞদের এই মতামত আমলে নেয়া হয় তাহলে বিষয়টা কি দাঁড়ায় ?

দাঁড়ায় এটাই যে, সভাস্থলের নিরাপত্তা বিধানকারী পুলিশ না জানলেও পূর্ব রিহার্সেল করার মতো পর্যাপ্ত সময় আগে থেকেই হামলাকারীরা জানতো যে. মিটিংটা মুক্তাঙ্গনে নয়, বঙ্গবন্ধু এভিনিউ পার্টি অফিসের সামনেই হবে। সেইভাবেই তারা নিখুঁত প্রস্তুতি, অত:পর কার্য সম্পন্ন করে।

রিজভী বলেন, ঘটনা সংঘটনের পর শেখ হাসিনার স্থান ত্যাগ এবং তৎপরবর্তী প্রায় ঘন্টাকালব্যাপী হতাহতদের উদ্ধারপূর্বক হাসপাতালে প্রেরণ-এসময়কালে একমাত্র গ্রেনেড হামলা ছাড়া কোন গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে, এমন কিছু সেসময়ের তদন্তে, জরুরী সরকারের আমলে তদন্তে, এমনকি ‘রঙতুলি দিয়ে সাজানো-রাঙানো’ এই কাহারীও তদন্তেও কোন কর্মকর্তা দেখতে পাননি।

তিনি বলেন, টিয়ার শেল বা রাবার বুলেটের যে ফায়ার করেছিল তার সবই হয়েছিল হতাহতদের স্থানান্তরের পর যখন উত্তেজিত নেতাকর্মীরা গাড়ী বা বিভিন্ন ভবনসমূহ ভাঙচুর তথা অগ্নিসংযোগ শুরু করেছিল তারপর থেকে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে শেখ হাসিনার প্রাক্তন দেহরক্ষী প্রাক্তন সেনা হাবিলদার মাহবুব কার গুলিতে মারা গেলেন ? সেটা নিরুপণে এসপি কাহারের কোন আগ্রহ কিংবা তৎপরতা পরিলক্ষিত হয়নি কেন ?

বিএনপির এই নেতা বলেন, আওয়ামী লীগের একনিষ্ঠ কর্মী ও সমর্থক তদন্তকারী কর্মকর্তা কাহার আকন্দের পরিচয় ইতোমধ্যে খানিকটা দেয়া হয়েছে। তিনি ‘চার্জশিট মহাকাব্য’ রচনায় সিদ্ধহস্ত বলেই তাকে ২১শে আগষ্ট বোমা হামলা মামলার দায়িত্ব যে দেয়া হয়েছে, সে বিষয়ে সন্দেহের কোন অবকাশ নেই। তিনি রঙধনুর রঙ মিশিয়ে কাল্পনিক রিপোর্ট তৈরী করতে দক্ষ, এর প্রমানও সংবাদপত্রে প্রকাশিত হয়েছে। পিলখানা হত্যা মামলার মতো গুরুত্বপূর্ণ মামলাতে পক্ষপাতমূলক তদন্ত করার অভিযোগে আবুল কাহার আকন্দের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়ার আদেশ দিয়েছিলেন আদালত। বর্তমান আইনমন্ত্রী ও সেসময়ের রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলী আনিসুল হক এবং মোশাররফ হোসেন কাজল আদালতকে অসহযোগিতা করেছেন বলেও আদালত অভিযোগ করেন।

আদালতের আদেশে বলা হয়, অবসরপ্রাপ্ত সুবেদার তোরাব আলী বিডিআর বিদ্রোহের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তিনি বিদ্রোহে মদদও দিয়েছেন। তোরাব আলীকে জিজ্ঞাসা করে তদন্তকারী কর্মকর্তা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী আদায় করা ছাড়া আর কোন তথ্য বের করতে পারেনি। আদালতে জেরার জবাবে কাহার আকন্দ বলেন, তোরাব আলী’র বিরুদ্ধে আর কেউ সাক্ষ্য প্রদান করেনি। আদালত রায়ে প্রশ্ন করেন, কেউ সাক্ষ্য না দিলে কিসের ভিত্তিতে তদন্তকারী কর্মকর্তা তোরাব আলীকে পক্ষভুক্ত করলেন এবং তার বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিলেন। আদালত মনে করেন-কাহার আকন্দ পক্ষপাতদুষ্ট হয়েই তোরাব আলীর বিরুদ্ধে কোন সাক্ষ্য রেকর্ড করেননি। মূল ঘটনা হচ্ছে তোরাব আলী ছিলেন আওয়ামী লীগের নেতা। তাকে বাঁচাতেই কাহার আকন্দের এই প্রচেষ্টা।

রিজভী বলেন, সুতরাং এধরণের দলীয় সংকীর্ণতায় ভোগা একজন তদন্তকারী কর্মকর্তাকে দিয়ে ২১শে আগষ্ট বোমা হামলা মামলার তদন্তের দায়িত্বভার প্রদান করা একেবারেই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেপ্রণোদিত। নির্দোষ বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ অন্যান্য কর্মকর্তাদেরকে কাল্পনিক গল্প তৈরী করে ফাঁসানোই হচ্ছে মূল উদ্দেশ্য।

তিনি বলেন, কাহার আকন্দ শেখ হাসিনার ইচ্ছাপূরণে সেই কাজটিই নিষ্ঠার সাথে পালন করেছেন। ২১শে আগষ্ট বোমা হামলা মামলায় জনাব তারেক রহমানের নাম জড়ানো সম্পূর্ণরুপে চক্রান্তমূলক ও সরকারপ্রধানের ক্রোধ ও ঈর্ষার ঝাল মেটানোরই বর্ধিত প্রকাশ। জিয়া পরিবারের বিরুদ্ধে অবৈধ সরকারপ্রধানের প্রতিদিনই নানা প্রকাশের আক্রমণ নব নব রুপে স্ফুরিত হচ্ছে। আর কাহার আকন্দদেরকে দিয়ে সরকার সেই আক্রমণেরই প্রকাশ ঘটাচ্ছে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত