প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

জমজমের পানি পানের উপকারিতা

সুফিয়ান ফারাবী

পৃথীবির সবচেয়ে বরকতময় এবং পবিত্রপানি হলো জমজমের পানি। হযরত ঈসমাইল (আ.) এর পদাঘাতে সৃষ্টি এই পানি নিয়ে বর্ণিত আছে, আল্লাহ তাআলা জমজমকূপের পানি পানকারীকে শারীরিক অসুস্থতা থেকে হিফাজত করেন এবং শরীরিক ও মানসিক সতেজতা দান করেন।

দুনিয়ায় সকল খাবার ও পানীয় খাওয়া ও পান করার সময় বসে খাওয়ার নিয়ম। কিন্তু ব্যাতিক্রম শুধু জমজমের পানি পান করার বেলায়। এ বরকতময় পানি পান করার সময় দাঁড়িয়ে ক্বিবলামুখী হয়ে পান করতে হয়। হযরত ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলকে (সা.) জমজমের পানি পান করিয়েছি। তিনি তা দাঁড়িয়ে পান করেছেন। (বুখারি-১৬৩৭)

এইপানির প্রধান ফজিলত দুটি:
১. জমজমের পানির বরকতে আল্লাহ তাআলা পানকারীর মনের সকল চাওয়া পূরণ করে দেন। হজরত জাবির (রা.) হতে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, জমজমের পানি যে উদ্দেশ্য নিয়ে পান করবে তা পূরণ হবে। (মুনসাদে আহমদ)
২. জমজমের পানি মানুষের ক্ষুধা নিবারণকারী এবং অসুস্থ ব্যক্তির জন্য শেফা( ওষুধ)। হাদিসে এসেছে, হজরত আবু যর (রা.) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন ,রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, জমজমের পানি বরকতময়, স্বাদ অন্বেষণকারীর (সুস্বাদু) খাদ্য এবং রোগীর ঔষধ। (তবরানি)
একারণেই বিশ্বনবি সবসময় জমজমের পানি সঙ্গে রাখতেন। যার প্রমাণ পাওয়া যায় হজরত আয়িশার রাদি. হাদিসে। রাসুলুল্লাহ (সা.) নিজের সাথে পাত্রে এবং মশকে করে জমজমের পানি বহন করতেন। তা অসুস্থদের ওপর ছিটিয়ে দিতেন এবং তাদের পান করাতেন। (তিরমিজি, তারিখুল কবির, বাইহাকি)

হজ্বের সময় হাজিগণ যখন তাওয়াফ করতে করতে ক্লান্ত হয়ে পড়েন, তখন জমজমের পনি মুখে দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তাঁদের দীর্ঘসময়ের ক্লান্তি হারিয়ে যায়। এবং ভেতর থেকে অন্যরকম তৃপ্তির ঢেকুর আসে। জমজমের পানি পান করে খুব আরামে সায়ী করা যায়। তাইতো সাফা-মারওয়া পাহাড়ের মাঝে মাঝে জমজমের পানি পানের ব্যবস্থা করেছেন হজ্ব পরিচালনা কর্তৃপক্ষ। হাজিগণ সেখান থেকে পানি পান করে শরীরের সকল অলসতা ও ক্লান্তি দূর করেন।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত