প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ভবের নাট্যশালায় মানুষ চেনা দায়

বিভুরঞ্জন সরকার : নাম মহানগর নাট্যমঞ্চ। তবে সেখানে নিয়মিত মঞ্চ নাটক অভিনীত না হলেও নানা ধরনের সভা-সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়, যেগুলোতে অনেক নাটকীয় উপাদান থাকে। গত ২২ সেপ্টেম্বর ওই নাট্যমঞ্চে একটি মোটামুটি কৌতূহলোদ্দীপক নাটক মঞ্চস্থ হয়েছে। ওটা ছিল একটি রাজনৈতিক সমাবেশ কিন্তু তাতে প্রকৃত মঞ্চনাটকের অনেক উপাদান ছিল। সেখানে বিএনপির উপস্থিতিতে সরকারবিরোধী একটি বড় ঐক্যের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়েছে। গণফোরামের ড. কামাল হোসেন এবং বিকল্প ধারার ডা. বদরুদ্দোজা চৌধুরীর নেতৃত্বে একটি বড় জোট গঠনের চেষ্টা বহুদিন ধরে চলছে। তাদের সঙ্গে আরো দুই নেতা আছেন, আ স ম আব্দুর রব এবং মাহমুদুর রহমান মান্না। এরা নামে যত ভারি দলে-বলে ততই দুর্বল।

(প্রথম পৃষ্ঠার পর)  আমাদের কিছু গণমাধ্যমের কাছে তারা সব বিশাল বিশাল ব্যক্তিত্ব। এমন প্রচার আছে, এরা এক হলে দেশের রাজনীতিতে একটা ওলটপালট হয়ে যাবে। অনেক মন তেল পুড়িয়ে অবশেষে তারা একটি ঐক্য চেষ্টায় কিছুটা সফল হয়েছেন বলে বলা হচ্ছে। মুখে আওয়ামী লীগ এবং বিএনপির বাইরে একটি বিকল্প শক্তির কথা বলা হলেও এটা আসলে বিএনপির একটি বি-টিম হতে যাচ্ছে। এরা বিএনপিকে মঞ্চে এনেছে। বিএনপি জানিয়েছে, তার এই বৃহত্তর ঐক্যের সঙ্গে আছে। থাকাটাই স্বভাবিক। বিএনপির গলায় এখন কাঁটা। কার কাছ থেকে কোন ওষুধ নিলে গলার কাটা নামবে তার খোঁজে আছে বিএনপি। আমাদের দেশে একটি কথা প্রচলিত আছে যে বিড়ালের পা ধরে কান্নাকাটি করলেও নাকি গলার কাটা নেমে যায়। বিএনপি এখন সে রকম ধন্বন্তরি ওষুধ খুঁজছে। একটা মোটামুটি গ্রুপ পেয়েও গেছে। কামাল হোসেন, বি চৌধুরী বিএনপিকে বৃহত্তর ঐক্যের গায়ে-হলুদের দাওয়াত দিয়েছেন, তারা তা কবুল করেছেন।

এই বৃহত্তর ঐক্য বিএনপিকে ফুলসিরাত পাড় হতে কতটুকু সাহায্য করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে একদিকে বন্ধু বাড়াতে হাত বাড়িয়ে অন্যদিকে বন্ধু হারানোর ঘটনা ঘটবে কি না সে প্রশ্নও উঠছে। ভোট নেই ( সু)নাম আছে, ( সু)নাম নেই ভোট আছে – নির্বাচনের বাজারে কার দর বেশি হবে?

বৃহত্তর ঐক্যের উদ্যোক্তারা যেমন আশা করেছিলেন, যে সব শক্তিকে সঙ্গে পাওয়ার আশা করেছিলেন, বাস্তবে তা হয়নি। কাদের সিদ্দিকী যাননি। যাননি কর্নেল ( অব) অলি আহমেদ। জামায়াতের উপস্থিতি কেউ কেউ চাননি বলে জামায়াত হয়তো যায়নি। কিন্তু গিয়েছে হেফাজতে ইসলাম। শোনা যাচ্ছিল হেফাজতে ইসলাম নাকি এখন আওয়ামী লীগের হেফাজতে আছে। হেফাজত কি দুইদিকে থেকে বাজারদর যাচাই করছে?

বাম গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট থেকে কেউ না গেলেও গণসংহতি আন্দোলনের ভয়ঙ্কর তাত্ত্বিক-বক্তা জুনায়েদ সাকি গিয়েছিলেন। এই উদ্যোগটা যে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির বিরোধী নয়, শুধুই আওয়ামী লীগবিরোধী এটা এখন স্পষ্ট। এই যে বৃহত্তর ঐক্য যাদের নিয়ে হচ্ছে, নেতা হিসাবে যাদের নাম শোনা যাচ্ছে তারা কি চায় বা চান? তাদের লক্ষ্য সরকার পতন। এই লক্ষ্যস্থিরের মধ্য দিয়ে তারা আসলে লক্ষ্যহীন হয়ে পড়েছেন। সরকার বদল হলে যে (অ)ব্যবস্থার বদল হয় না, এটা এখন আমাদের দেশের মানুষ খুব ভালো বোঝেন। তারপর বিরেধিতার নামে যে বিরোধিতা সেটাও এখন মানুষ ভালো বোঝেন। নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে সরকার বদল করতে হলে নির্বাচনের বিকল্প নেই। বৃহত্তর ঐক্য যারা গড়ছেন তাদের কারোই নির্বাচনে জিতে আসার সম্ভাবনা নেই। নির্বাচনে জিততে হলে তাদের বিএনপির ওপর নির্ভর করতে হবে। বিএনপির সহায়তা নিয়ে ভোটে জিতে তারা বিএনপিকে প্রভাবিত করবে, না বিএনপি তাদের প্রভাবিত করবে? বিএনপির নেতৃত্বে গঠিত সরকার দেশে সুশাসন ও গণতন্ত্র নিশ্চিত করবে, এটা যারা বিশ্বাস করে তাদের ওপর বিশ্বাস রাখা খুব ভালো হবে কি?

মানুষ পরিবর্তন চায় ভালোর জন্য, খারাপ অবস্থা থেকে ভালো অবস্থায় যাওয়ার জন্য। আওয়ামী লীগ হয়তো দেশ শাসনে শতভাগ সফল নয়, দেশ থেকে ঘুষ-দুর্নীতি দূর হয়নি, অপচয় হচ্ছে, দলবাজি চাঁদাবাজি আছে। প্রশ্ন হলো, বিএনপি ক্ষমতায় এলে এসব থাকবে না? বিএনপির অতীত শাসনের রেকর্ড কি?

বিএনপিকে ক্ষমতায় বসানোর জন্য বৃহত্তর ঐক্য কখনই শক্ত মাটি পাবে বলে মনে হয় না। কামাল হোসেন, বি চৌধুরী জাতিকে কোনো স্বপ্ন দেখাতে পারছেন না। পারবেনও না। তারা সে সক্ষমতা হারিয়েছেন। তারা এখন শেষ বিকেলের রঙধনু। অল্প সময়ের জন্য চোখ ধাঁধালেও স্থায়ী আলোর বিচ্ছুরণ হবে না।

নানা বরণ গাভী হলেও তার এক বরণ দুধ হয়। কিন্তু বৃহত্তর ঐক্যঅলাদের বাইরের রূপ আর ভেতরের রূপের ভিন্নতা কি কারো অজানা আছে? ঐক্যনাটকের কেবল প্রথম অঙ্কের প্রথম দৃশ্য অভিনীত হয়েছে। এখনও দেখার বাকি আরও অনেক।

পরিচিতি: গ্রুপ যুগ্ন-সম্পাদক, আমাদের নতুন সময়

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ