প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

রেলপথ নির্মাণে ১১৯ গাড়ি!

ডেস্ক রিপোর্ট: নতুন করে রেলপথ নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়নে ১১৯টি গাড়ির প্রস্তাব করা হয়েছে। এর মধ্যে ৭টি জিপ, ১২টি ডাবল কেবিন পিকআপ এবং ৪টি মাইক্রোবাস ক্রয় এবং ৯৬টি গাড়ি ভাড়া নেয়ার কথা বলা হয়েছে।

ঘটনাটি ঘটেছে বাংলাদেশ রেলওয়ের জয়দেবপুর থেকে ঈশ্বরদী পর্যন্ত ডুয়েলগেজ ডাবল লাইন প্রকল্পে। এত গাড়ির বিষয়ে আপত্তি তুলেছে পরিকল্পনা কমিশন। এক্ষেত্রে গাড়ির সংখ্যা কমানো এবং প্রয়োজনে পরিবহন পুল থেকে অন্যান্য প্রকল্পের ফেরত দেয়া গাড়ি নেয়ার সুপারিশ করা হয়েছে কমিশনের পক্ষ থেকে।

এছাড়া আরও বিভিন্ন খাতের ব্যয়ের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। ১৭ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভায় এ আপত্তি তুলে সুপারিশ দেয়া হয়।

এ প্রসঙ্গে পরিকল্পনা কমিশনের একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, গাড়ির বিষয়টি নিয়ে নানা রকম যুক্তি উপস্থাপন করা হয় প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে। তাছাড়া পরিকল্পনা কমিশনও এ বিষয়ে খুব বেশি কঠোর অবস্থান নেয় না।

কারণ হচ্ছে, পরবর্তী সময়ে গাড়ি পাওয়া যায় না ফলে প্রকল্প বাস্তবায়ন দেরি হয়েছে এরকম নানা অজুহাত দিয়ে প্রকল্প সংশোধন করতে নিয়ে আসে। এসব এড়ানোর জন্যই তাদের সংখ্যা নির্ধারণ করে দেয়া হয়নি।

রেল সচিব মো. মোফাজ্জেল হোসেনের কাছে জানতে চাইলে তিনি প্রশ্ন করে বলেন, এগুলো কি মোটর ট্রান্সপোর্ট নাকি রেলের গাড়ি? মোটর ট্রান্সপোর্ট বলায় তিনি বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। এ নিয়ে রেলের মহাপরিচালকের সঙ্গে কথা বলেন।

সূত্র জানায়, রেলপথ মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবিত বাংলাদেশ রেলওয়ের জয়দেবপুর থেকে ঈশ্বরদী পর্যন্ত ডুয়েলগেজ ডাবল লাইন নির্মাণ প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ব্যয় ধরা হয়েছে ১৪ হাজার ২৮০ কোটি ৩৭ লাখ টাকা।

এর মধ্যে সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে ৫ হাজার ৫২৩ কোটি ৬২ লাখ টাকা এবং চীন সরকারের জি টু জি অর্থায়ন হিসেবে ৮ হাজার ৭৫৬ কোটি ৭৫ লাখ টাকা ব্যয় করা হবে। প্রক্রিয়াকরণ শেষে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় অনুমোদন পেলে আগামী অক্টোবর থেকে শুরু হয়ে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে বাংলাদেশ রেলওয়ে।

এটি গাজীপুর জেলার সদর ও কালিয়াকৈর উপজেলা, টাঙ্গাইল জেলার সদর, মির্জাপুর ও কালিহাতি উপজেলা, সিরাজগঞ্জ জেলার সদর, উল্লাপাড়া ও কামারখন্দ উপজেলা, পাবনা জেলার ঈশ্বরদী ও ভাঙ্গুরা উপজেলা এবং নাটোরের লালপুর উপজেলায় বাস্তবায়িত হবে। প্রকল্প প্রস্তাবে বলা হয়েছে, বর্তমানে জয়দেবপুর-ঈশ্বরদী সেকশনে প্রায় ১৭৪ কিলোমিটার দীর্ঘ সিঙ্গেল লাইন বিদ্যমান।

নতুন রেলওয়ে সেতুসহ বঙ্গবন্ধু সেতুর পূর্ব থেকে পশ্চিম স্টেশন পর্যন্ত ডাবল লাইন রেলওয়ের অন্য একটি প্রকল্পের মাধ্যমে সম্পন্ন হচ্ছে। তাই প্রস্তাবিত প্রকল্পে ওই এলাকা বাদ দিয়ে ১৬২ কিলোমিটার ডাবল লাইন নির্মাণ করা হবে।

পরিকল্পনা কমিশন সূত্র জানায়, পিইসি সভায় প্রকল্পের বিভিন্ন ব্যয় নিয়ে প্রশ্ন উত্থাপন করা হয়। এর মধ্যে ট্র্যাক নির্মাণের ক্ষেত্রে যে ব্যয় প্রস্তাব করা হয়েছে তা সমজাতীয় অনেক প্রকল্পের চেয়ে বেশি। তবে ব্যয় নির্ধারণের ভিত্তি হিসেবে বলা হয়েছে পদ্মা সেতুতে রেল সংযোগ প্রকল্পের আলোকে প্রস্তাবিত প্রকল্পটির ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে; কিন্তু পদ্মা সেতুতে রেল সংযোগ প্রকল্পের প্রেক্ষাপট ভিন্ন।

তাই প্রস্তাবিত জয়দেবপুর থেকে ঈশ্বরদী পর্যন্ত ডুয়েলগেজ ডাবল লাইন নির্মাণ প্রকল্পের বিভিন্ন নির্মাণসামগ্রীর ব্যয় নির্ধারণে এডিবি, জাইকা, ভারতীয় এলওসি এবং সরকারি অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন বা প্রস্তাবিত ৩-৪টি প্রকল্পের সঙ্গে তুলনা করে যৌক্তিকভাবে ব্যয় নির্ধারণ করা প্রয়োজন। অর্থাৎ প্রকল্পের ব্যয় নির্ধারণের ভিত্তি হিসেবে শুধু একটি বিশেষ প্রকল্প ধরা ঠিক নয় এক্ষেত্রে কয়েকটি প্রকল্পের উদাহরণ তুলে ধরা হয়।

এগুলো হচ্ছে, আখাউড়া থেকে লাকসাম পর্যন্ত ডুয়েলগেজ ডাবল রেললাইন নির্মাণ এবং বিদ্যমান রেললাইনকে ডুয়েলগেজে রূপান্তর প্রকল্পের ১৮৪ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যরে ট্রাক নির্মাণে ব্যয় ৪ হাজার ৫৭৮ কোটি টাকা।

ঈশ্বরদী থেকে পাবনা ঢালারচর পর্যন্ত নতুন রেলপথ নির্মাণ প্রকল্পে ৭৮ দশমিক ৮০ কিলোমিটার ট্র্যাক নির্মাণে ব্যয় হচ্ছে ৫৩৮ কোটি ৪৩ লাখ টাকা। মধুখালী থেকে কামারখালী হয়ে মাগুড়া শহর পর্যন্ত ব্রডগেজ রেলপথ নির্মাণ প্রকল্পে ২৩ দশমিক ৯০ কিলোমিটার ট্র্যাক নির্মাণে ব্যয় ৩৩৪ কোটি ৩১ লাখ টাকা এবং ঢাকা-নারাগঞ্জ সেকশনে বিদ্যমান মিটারগেজ রেললাইনের সমান্তরাল একটি ডুয়েলগেজ রেললাইন নির্মাণ প্রকল্পে ২১ দশমিক ৫৩ কিলোমিটার ট্র্যাক নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ১৮৮ কোটি ৪৪ লাখ টাকা। সেখানে প্রস্তাবিত প্রকল্পের অনেক বেশি ব্যয় ধরা হয়েছে।

এছাড়া প্রস্তাবিত প্রকল্পে মাটির একক দর ধরা হয়েছে প্রতি ঘনমিটার ৮১৩ টাকা; কিন্তু রেলওয়ের চলমান ঈশ্বরদী থেকে ঢালারচর পর্যন্ত রেলপথ নির্মাণ প্রকল্পে মাটির দর ধরা হয়েছে প্রতি ঘনমিটার ৩০৫ টাকা।

ব্যালাস্টের মূল্য সমজাতীয় প্রকল্পে ঘনমিটার প্রতি ৪ হাজার টাকা ধরা হলেও প্রস্তাবিত প্রকল্পে ধরা হয়েছে ৮ হাজার ৩৪৪ টাকা। কিন্তু চলমান খুলনা-মোংলা রেলপথ নির্মাণ প্রকল্পে ব্যালাস্টের মূল্য ঘনমিটার প্রতি সাড়ে ৪ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া শুধু প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন, উদ্বোধনসহ অন্যান্য কাজের জন্য ৭ কোটি টাকা সংস্থান রাখা হয়েছে। সূত্র: যুগান্তর

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত