প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

বৃহত্তর ঐক্য : অশ্বডিম্ব

বিভুরঞ্জন সরকার : ২২ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশের রাজনীতির জন্য একটি ‘রেড লেটার ডে’ হবে বলে কয়েকদিন ধরে কিছু গণমাধ্যমে এক ধরনের প্রচারণা চলছে। ড. কামাল হোসেন এবং ডা. বদরুদ্দোজা চৌধুরীর নেতৃত্বে একটি বৃহত্তর জাতীয় ঐক্যজোট গঠনের চেষ্টা গত কিছুদিন ধরে চলছে। আওয়ামী লীগ এবং বিএনপির বলয়ের বাইরে একটি তৃতীয় রাজনৈতিক ফ্রন্ট/জোট বা ধারা গড়ে তোলার আগ্রহ, আশা, প্রচেষ্টা অনেক দিনের। দেশের ভেতর সে রকম একটি রাজনৈতিক শক্তির শূন্যতা আছে এবং সেজন্যই তেমন একটি জোট গড়ে ওঠার বাস্তবতাও আছে। চাহিদা আছে, বাস্তবতা আছে কিন্তু তবু কেন তা হচ্ছে না, সেটাই হলো আসল প্রশ্ন। এবারের উদ্যোগ কি ফলপ্রসূ হবে? এই প্রশ্নের ইতিবাচক জবাব দিতে পারলে আমি বেশি খুশি হতাম। কিন্তু দুঃখের সঙ্গে বলতে হচ্ছে যে, এবারও পর্বত মুষিক প্রসব করবে। বৃহত্তর জাতীয় ঐক্যের হাকডাকের চূড়ান্ত পর্যায়ে যা হবে তা দেশের মানুষকে আশাবাদী করতে পারবে না। অশ্বডিম্ব বলে বাংলায় একটি শব্দ আছে। বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য অশ্বডিম্ব হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।

যারা ড. কামাল হোসেন এবং বি চৌধুরী বা আরো কারো জোটবদ্ধ হওয়াকে অনেক গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন, এবং স্বপ্নে রসগোল্লাা খাওয়া শুরু করেছেন তারা খুব তাড়াতাড়ি হতাশ হবেন। রাজনীতিটা স্বপ্নবিলাসের জায়গা নয়। যারা কারো হাত না ধরে রাজনীতি করতে পারেন না, তারা ব্যক্তিগতভাবে যত বড় মাপের মানুষই হন না কেন তারা জননন্দিত কিংবা জনপ্রিয় নেতা হতে পারেন না। সাধারণ মানুষকে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য নেতার মধ্যে সাহস থাকতে হয়, থাকতে হয় দৃঢ়চেতা মনোভাব। ড. কামাল হোসেন এবং বি চৌধুরী সৎ ও সজ্জন হলেও দৃঢ়চেতা ও সাহসী নন কোনোভাবেই। মানুষের কাছে তাদের ভালো মানুষ হিসেবে পরিচিতি থাকলেও সাহসী নেতা হিসাবে তাদের নাম উচ্চারিত হতে শোনা যায় না। তারা জীবনে জাতিকে নেতৃত্ব দেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন একাধিকবার এবং প্রতিবারই তারা তাদের ব্যর্থ হিসাবে প্রমাণ করেছেন।

কামাল হোসেন ও বি চৌধুরী ক্ষমতায় যাওয়ার স্বপ্ন দেখেন। কিন্তু তাদের যে জনসমর্থন বা সাংগঠনিক ক্ষমতা তাতে এটা নিশ্চিত করে বলা যায় যে ভোটে জিতে তারা ক্ষমতায় যেতে পারবেন না।

তা হলে?

হয় তাদের ভোটে জেতার মতো বড় দলের সঙ্গে নির্বাচনী জোট করতে হবে অথবা বিনাভোটে ক্ষমতায় যাওয়ার একটি পথ বের করতে হবে। বিনাভোটে ক্ষমতায় যাওয়ার একটি তৎপরতা কামাল হোসেনকে সামনে রেখে কারো কারো মাথায় আছে বলে বাজারে খবর আছে। তবে অসাংবিধানিক পথে হাঁটার বিপদ ও ঝুঁকি বিবেচনা করে তারা তেমন আত্মধ্বংসী কোনো সিদ্ধান্ত নেবেন না বলেই অনেক রাজনৈতিক বিশ্লেষক মনে করেন।

সেজন্যই আসছে বৃহত্তর জোটের ভাবনা। তবে এই ভাবুকদের এটা জানা আছে যে, বিএনপির সঙ্গে না থাকলে ভোটের বাক্স ফাঁকা থাকবে। তাই বিএনপিকে সঙ্গে নিয়ে বৃহত্তর ঐক্যের একটা চেষ্টা চলছে। বিএনপি এতে খুশি। বিএনপি দিল্লি-জাতিসংঘ-ওয়াশিংটন ইত্যাদি ঘুরে বাজারের অবস্থা বুঝতে পেরেছে। একটি বড় ঐক্য গড়ে না উঠলে আবাদ এবং ফলন ভালো হলেও ফসল  বিএনপির গোলায় তোলা সহজ কাজ হবে না। বিএনপি বড় ছাড় দিয়ে হলেও এ টু জেড ঐক্য চায়। তেমন ঐক্য হওয়া কঠিন। আওয়ামী লীগ ভুঁইফোড় দল নয়, দেশ জুড়ে দলের কর্মী-সমর্থক নেই তা-ও নয়। বিএনপি চাইলেই এখন কনুইয়ের গুঁতো দিয়ে আওয়ামী লীগকে ফেলে দিতে পারবে না।

কামাল হোসেনদের সঙ্গে জামায়াতকে বাদ দিয়ে ঐক্য করবে না বিএনপি। করবে কৌশল। এরশাদবিরোধী আন্দোলনে জামায়াতকে যেভাবে ‘যুগপৎ’ শব্দ দিয়ে সঙ্গে রাখা হয়েছিল, এবারও তাই করা হবে। তবে এতে সুফল পাওয়ার সম্ভাবনা কম। এক কৌশল বার বার ভালো ফল দেয় না।

সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, এই ‘বৃহত্তর’ ঐক্যের ভিত্তি কি? শুধু আওয়ামী লীগবিরোধিতা? গণতন্ত্রকে বিপদমুক্ত করা?

মুক্তিযুদ্ধ, বঙ্গবন্ধু, ১৫ আগস্ট, ২১ আগস্ট, সাম্প্রদায়িক রাজনীতি, জাতিগত ও ধর্মীয়  সংখ্যালঘুদের প্রশ্নে মনোভাব এসব বিষয়ে এড়িয়ে জাতীয় ঐক্য করতে গেলে সেটা না হবে জাতীয়, না হবে ঐক্য।

অতীত ভুলের জন্য বিএনপি নাকি বদরুদ্দোজা চৌধুরীর কাছে ক্ষমা চেয়েছে। বি চৌধুরী হয়তো রেললাইনে দৌঁড়ানোর স্মৃতি ভুলে বিএনপিকে ক্ষমা করে আরেক দফা দৌঁড়ানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন। কিন্তু অতীত ভুলের জন্য বিএনপিকে দেশবাসীর কাছে ক্ষমা চাইতে হবে না? দেশবাসীর কাছে বিএনপি কবে ক্ষমা চায় এবং পায় সেটা এখন আমরা দেখার আশায় আছি।

পরিচিতি: গ্রুপ যুগ্ন-সম্পাদক, আমাদের নতুন সময়

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত