প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

adv 468x65

কবে ফালতু বাণী আর প্রতিশ্রুতির বেলুন ফাটবে?

অসীম সাহা : আজ সকালে আইএফআইসি ব্যাংকের সাহিত্যপুরস্কার এবং সাহিত্যসম্মাননা বিতরণ-অনুষ্ঠানে গিয়েছিলাম। এবারে পাঁচ লাখ টাকা করে পুরস্কার পেয়েছেন ‘সুন্দরবনের বাঘের পিছু পিছু’ গ্রন্থের জন্য খসরু চৌধুরী এবং ‘ফেরাউনের গ্রামে’ গ্রন্থের জন্য শাকুর মজিদ। আজীবন কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ দশ লাখ টাকার সাহিত্যরতœসম্মাননা পেয়েছেন বাংলা সাহিত্যের কিংবদন্তি কথাসাহিত্যিক হাসান আজিজুল হক। সন্দেহ নেই, তিনটি পুরস্কারই যোগ্য মানুষদের হাতে তুলে দেয়া হয়েছে।

আমি এই  সাহিত্যপুরস্কার-প্রক্রিয়ার প্রাথমিক পর্যায়ে জড়িত ছিলাম বলে জানি, এটি একমাত্র পুরস্কার, যেখানে কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ বা তদবির চলে না। আমি এই তিনজনকেই অভিনন্দন জানাই। কিন্তু আমার আজকের আলোচনার বিষয় এটি নয়। বিষয়টি কোনো গুরুতর কিছুও নয়। তবে একবারে গুরুত্বহীন তাও বলা চলে না। আইএফআইসি ব্যাংক সাহিত্যপুরস্কার ও সাহিত্যরতআন সম্মাননা অনুষ্ঠানের  পর আমি এবং আমার স্ত্রী কবি অঞ্জনা সাহা রিকশা নিয়ে ফিরছিলাম। বায়তুল মোাকাররম থেকে শিশুপার্ক পর্যন্ত যাবো। রাস্তায় জ্যাম ও প্রচ- গরমের কারণে বয়স্ক রিকশাওয়ালা অতি কষ্টে হাইকোর্টের কাছে এসে শিশুপার্কের দিকে যাওয়ার জন্য মোড় ঘুরতেই একজন আনসার সদস্য হাত নেড়ে দেখিয়ে দিলো, এদিক দিয়ে যাওয়া যাবে না। মুখে কিছু বললো না, শুধু হাত ইশরায় অন্যপথের নিশানা দেখিয়ে দিলো। বুকে নাম লেখা রয়েছে আলতাফ নয় আলতাব। নামটিও বেশ মজার। মুখে রাগত ভাব। ভাবলেশহীন। ইশারা দেখে মনে হয় বোবা। আমি রিকশা থেকে কষ্ট করে নামলাম। আমার ডায়াবেটিক রোগের কথা বললাম। জানালাম, এখান থেকে এই রোদের মধ্যে আমার পক্ষে এতোদূর হেজঁটে যাওয়া সম্ভব নয়। একটু ছাড়–ন। তিনি রাগত চোখেই আঙুল ইশরায় উল্টো পথ দেখিয়ে দিলেন। আমি একটু মৃদু বকা দিলাম। কিন্তু তাতেও কাজ হলোর না। পরে আমার রিকশা একটু ঘুরিয়ে নিতেই পেছন ফিরে দেখলাম, কিছু কিছু রিকশা ঐপথ দিয়ে দিব্যি চলে যাচ্ছে! তার মানে আলতাবের পকেটের সঙ্গে ৫ টাকায় দফারফা হয়েছে। তো, এরকম দফারফা তো ভিআইপি সড়কে নিয়মিতই হচ্ছে। কিন্তু দেখছে কে? আশপাশেই ট্রাফিক সার্জেন্টরা থাকেন। তারা দেখেও না দেখার ভান করেন। কারণ ভাগের মাল তো তাদের পকেটেও যায়। ছোটবেলায় একটি শ্লোক শুনেছিলাম, “ভাগের মা গঙ্গা পায় না।” কিন্তু ঢাকা শহরের রাস্তাঘাটে তো কলির গঙ্গাও মেলে। তাই গঙ্গার ভাগ পাবে জেনেই সার্জেন্ট সাহেবরাও চুপ করে থাকেন। অভিযোগ জানাতে গেলে তারা আকাশের দিক দেখিয়ে দেন। মানে তাদের কিছুৃই করার নেই—-উপরের নির্দেশ। কিন্তু ভিআইপি রোডে প্রবেশের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে যে পকেটে মাল ঢুকিয়ে কিছু কিছ রিকশাকে ছেড়ে দিচ্ছেন, এটা কোন্ উপরের নির্দেশ? ওসব প্রশ্নের উত্তর দেয়ার সময় আনসারসদস্যের যেমন নেই, তেমনি নেই তাদের বড় সাহেবদের। ‘মাল’ বলে কথা! দৃশ্যটা দেখতে হলো। কিন্তু নিরুপায়ভাবে রিকশা ঘুরিয়ে ফের শিল্পকলা একাডেমি ও মৎস্যভবনের পাশ দিয়ে ঘুরিয়ে অনেকটা জ্যাম অতিক্রম করে যখন শিশু পার্কের কাে ছ পৌঁছলাম, তখন আমার মাথার টলমল করে ঘুরছে। স্ত্রী সঙ্গে ছিলো বলে সে হাত ধরে কোনো রকমে টেনে নিতে নিতে শাহবাগের কাছে এলে সেখান থেকে রিকশা ঠিক করতে গিয়ে ফের ধাক্কা খেতে হলো। শাহবাগ থেকে হাতিরপুল বাজার যেতে একজন চাইলো ৬০ টাকা আর একজন ৪০ টাকা! মাথার চাঁদি গরম হলেও কিছু করার নেই। অনেক দামাদামি করে ২০ টাকার ভাড়া ৩০ টাকায় রফা হলো।

কিন্তু প্রশ্ন হলো, একটি স্বাধীন দেশের রাজধানীতে এমন চলতেই থাকবে? আনসাররা খেয়ালখুশি মতো রিকশা ঘুরিয়ে দেবেন আর টাকা পেলেই ছেড়ে দেবেন? ভিআইপিরা ঘোষণা ছাড়া রাস্তা বন্ধ রাখবেরন? রিকশাওয়ালারা ইচ্ছেমতন ভাড়া হাঁকাবেন? সিএনজির ড্রাইভাররা মিটার ছাড়া নির্বিঘেœ চলাচল করবেন, বাস ড্রাইভাররা চাপা দিয়ে মর্মান্তিকভাবে মানুষ হত্যা করবে, পিডুিব্লউডি-ওয়াসা অসময়ে রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি করে, পাইপ বসানোর কায়দা দেখিয়ে রাস্তায় চলাচলকারীদের পেটে ব্যথা তুলে হাসপাতালে পাঠিয়ে দিতেই থাকবেন? আর আমাদের মন্ত্রী, সচিব থেকে শুরু করে পুলিশ কর্মকর্তা এমনকি আনসার সদস্যরাও আমাদের মতো নিরীহদের ওপর দাপট দেখাতে ও হেনস্থা করতেই থাকবে? বেশ মজাতেই আছি আমরা। শুধু বাণী বাণী আর বাণী। শুনতে শুনতে কান ঝালপালা হয়ে গেলো। আর কতো খেসারত দিলে এসব ফালতু বাণী আর প্রতিশ্রুতির বেলুন ফাটবে? এটা কি একটা দেশ? এ-জন্যে কি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু দেশটাকে স্বাধীন করেছিলেন? হা হতোস্মি!!

লেখক : কবি ও সংযুক্ত সম্পাদক, দৈনিক আমাদের সময়

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত