প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

adv 468x65

জিন জাতির পরিচয়

মোস্তফা কামাল গাজী: মহান আল্লাহ তায়ালা যেমন বিশ্ব জগতের স্রষ্টা, তেমন সব জীবেরও স্রষ্টা। তিনি মানুষ ও জিনকে সৃষ্টি করেছেন তার ইবাদতের জন্য। পবিত্র কোরআনে সুরা জারিয়াতের ৫৬ নম্বর আয়াতে মানুষ ও জিন সৃষ্টির উদ্দেশ্য সম্পর্কে আল্লাহপাক ঘোষণা করেছেন, ‘আমি সৃষ্টি করেছি জিন এবং মানুষকে এ জন্য যে, তারা আমারই ইবাদত করবে।’

জিনের পরিচয়
আরবিতে ‘জিন্ন’ মানে আড়াল, অন্তরাল, পর্দা, গোপন ইত্যাদি। আর যেহেতু জিন জাতি মানুষের চক্ষুর অন্তরালে থাকে, তাই তাদেরকে জিন বলে।
জিন সৃষ্টির মূল উপাদান: জিন সৃষ্টি করা হয়েছে আগুন থেকে। মহান আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘এর পূর্বে আমি জিনকে সৃষ্টি করেছি ধূম্রহীন বিশুদ্ধ অগ্নি হতে।’ (সুরা হিজর: ২৭)

জিন আগুণের তৈরি হলেও মূলত আগুণ নয়। যেমন মানব সৃষ্টির মূল উপাদান কাদামাটি হলেও মানুষ কিন্তু প্রকৃতপক্ষে কাদামাটি নয়। এর প্রমাণ মুসনাদ আহমদে বর্ণিত রাসুলুল্লাহ (সা.) এর একটি হাদিস। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘শয়তান নামাজের মধ্যে আমার সঙ্গে মুকাবেলা করতে আসে তখন আমি তার গলা টিপে দিই। তখন আমি শয়তানের থুথুর শীতলতা নিজের হাতেও অনুভব করছি।’ সুতরাং বুঝা গেলো, শয়তান বা জিন যদি দাহ্য আগুণ হয় তাইলে তার থুথু ঠাণ্ডা হতে পারে না।

জিন জাতির সৃষ্টিকাল
জিন জাতিকে মানুষ সৃষ্টির প্রায় ২০০ বছর পূর্বে সৃষ্টি করা হয়েছে। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘নিশ্চয় আমি মানুষকে সৃষ্টি করেছি কালো পচা শুষ্ক ঠনঠনে মাটি হতে। আর এর পূর্বে জিনকে সৃষ্টি করেছি ধূ¤্রহীন বিশুদ্ধ অগ্নি হতে।’ (সুরা হিজর: ২৬-২৭)
জিনদের দৈহিক আকৃতি
এই ব্যাপারে আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘আমি তো বহু জিন ও মানুষকে জাহান্নামের জন্য সৃষ্টি করেছি, তাদের হৃদয় আছে কিন্তু তা দিয়ে উপলব্ধি করে না, তাদের কান আছে কিন্তু তা দিয়ে শুনে না, তারা জন্তু জানোয়ারের মত, বরং এর চেয়েও পথভ্রষ্ট, তারাই হল উদাসীন।’ (সুরা আরাফ: ১৭৯)

জিনদের প্রকারভেদ
নবি করিম (সা.) বলেন, ‘জিন তিন শ্রেণীর। এক শ্রেণির ডানা আছে, তারা এর সাহায্যে বাতাসে উড়ে বেড়ায়, এক শ্রেণী সাপ-কুকুরের আকারে বসবাস করে, আর এক শ্রেণী স্থায়ীভাবে বসবাস করে ও ভ্রমণ করে। (তবারানির কাবির: ৫৭৩)
জিন দর্শন: নবি করিম (সা:) জিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন, কথা বলেছেন, ধর্মীয় বিষয়াদি শিক্ষা দিয়েছেন, কুরআন তিলাওয়াত করেও শুনিয়েছেন। ইবনে মাসউদ (রা.) বলেন, একদা রাসুলুল্লাহ (সা.) কে আমরা খুঁজে পাচ্ছিলাম না। অতঃপর তাঁকে পাওয়া গেলে তার কারণ জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেন, ‘আমার কাছে জিনের এক আহ্বায়ক এসেছিলো। আমি তার সঙ্গে গিয়ে তাদের কাছে কুরআন পড়লাম। অতঃপর তিনি আমাদেরক সঙ্গে নিয়ে তাদের (জিনদের) বিভিন্ন চিহ্ন ও আগুনের চিহ্ন দেখালেন। তারা তাঁর নিকট খাদ্য চেয়েছিল। তিনি বলেছিলেন, ‘আল্লহর নাম উল্লেখ করে যে কোন হাড্ডির উপর তোমাদের হাত পড়বে, তা তোমাদের জন্য পর্যাপ্ত গোশতে পরিণত হবে। আর প্রত্যেক গোবর হবে তোমাদের পশু খাদ্য।’ (মুসলিম: ১০৩৫)

জিনদের বাসস্থান
এ নিয়ে অনেক ভ্রান্ত বিশ্বাসের সৃষ্টি হয়েছে। অনেকে মনে করেন, জিনদের দেশ ভিন্ন কোনো এক জায়গায়। অথচ তারা পৃথিবীরই বাসিন্দা। কুরআন মজিদে অনেকভাবেই উল্লেখ রয়েছে যে, মানুষ ও জিন একত্রে পৃথিবীতে বাস করে। জিনদের আলাদা কোন বাসস্থান নেই।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত