প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

চীনের সঙ্গে ভ্যাটিকানের সমঝোতা ‘অবিশ্বাস্য বিশ্বাসঘাতকতা’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : চীনা ক্যাথলিকদের খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের জন্য ধর্মযাজক নিয়োগের বিষয়ে ভ্যাটিকান ও চীনের সরকারের মধ্যে শনিবার (২২ সেপ্টেম্বর) একটি সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। চুক্তিতে চীনের খ্রিস্ট ধর্মীয় নেতার পদে অভিষিক্ত হওয়ার জন্য নির্ধারিত প্রার্থীদের প্রার্থিতা বাতিল করার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ভ্যাটিকানকে। চুক্তির বিষয়ে ভ্যাটিকান বিবৃতিতে বলেছে, ‘সমৃদ্ধির এক নবযুগের সূচনা হতে যাচ্ছে যা পুরাতন ক্ষতকে ভুলিয়ে দিয়ে সব চীনা খ্রিস্টানের সম্মিলন সম্ভব করে তুলবে।’ সমালোচকরা বলেছেন, এই চুক্তি অনেকটা চীনের কাছে ভ্যাটিকানের বিক্রি হয়ে যাওয়ার মতো এবং এতে চীন আরও বেশি নিপীড়নের সুযোগ পাবে। হংকংয়ের আর্চবিশপ এই চুক্তিকে ‘অবিশ্বাস্য বিশ্বাসঘাতকতা’ আখ্যা দিয়ে বলেছেন, এর পরিণতি হবে বিপর্যয়কর এবং সুদূরপ্রসারী। বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, চীনের সঙ্গে ভ্যাটিকানের আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের ক্ষেত্রে এই চুক্তি বিশেষ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্ট কূটনীতিকরা।

চীনের খ্রিস্টানরা দুই ভাগে বিভক্ত। একদল গোপনে ভ্যাটিকানের নেতৃত্ব মেনে চলে। অপর অংশ চীনের রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত ‘ক্যাথলিক প্যাট্রিয়টিক এসোসিয়েশনের’ অনুগত। এমন বিভক্তি দূর করার জন্য বেইজিংয়ে দুই পক্ষের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীরা চুক্তি স্বাক্ষর করেছেন। এতে চীনের এক কোটি ২০ লাখ ক্যাথলিক খ্রিস্টানদের ধর্মীয় নেতা নির্বাচনে ভ্যাটিকান প্রকাশ্যে ভূমিকা রাখতে পারবে। ভ্যাটিকানের ভাষ্য, এই চুক্তি দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টার মাধ্যমে অর্জিত এক সাফল্য, যা রাজনৈতিক নয় বরং ধর্মীয়।

চুক্তির আওতায় বর্তমানে চীনের সরকার দ্বারা নিয়োগকৃত ধর্মযাজকদের স্বীকৃতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভ্যাটিকান। তাদের নিয়োগের সময় পোপের অনুমোদন ছিল না। এই চুক্তির অন্যতম প্রধান উদ্যোক্তা ও ভ্যাটিকানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী কার্ডিনাল পিয়েত্রো পারোলিন বলেছেন, ‘আজ থেকে চীনের সব বিশপ রোমের বিশপের সঙ্গে ঐক্যবদ্ধ হলেন।’ ভবিষ্যতে বিশপ নিয়োগের সময় স্থানীয় খ্রিস্টান ও চীনের সরকার উভয় পক্ষই প্রার্থীদের নাম প্রস্তাব করতে পারবে। পোপ তাদের মধ্যে থেকে চীনের জন্য নতুন বিশপদের নিয়োগে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবেন।

সংশ্লিষ্ট কূটনীতিকরা মনে করেন, এই চুক্তি ৭০ বছর পর ভ্যাটিকানের সঙ্গে চীনের আবার কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের জন্য একটি প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ। কারণ যারা তাইওয়ানকে স্বীকৃতি দেয় তাদের সঙ্গে চীন কূটনৈতিক সম্পর্ক রাখে না। তাইওয়ানের সঙ্গে যে ১৭ দেশের আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে তাদের মধ্যে ভ্যাটিকান একমাত্র ইউরোপীয় দেশ। রয়টার্স উল্লেখ করেছে, ভ্যাটিকানের বিবৃতিতে তাইওয়ানের কথা নেই। ভ্যাটিকানের সঙ্গে তাইওয়ানের কূটনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে, চীন তাইওয়ানকে তার বিদ্রোহী প্রদেশ হিসেবে দেখে।

সমালোচকরা মনে করেন, এই চুক্তির মাধ্যমে ভ্যাটিকান চীনের কাছে নিজেকে বিক্রি করে দিয়েছে এবং এর মাধ্যমে চীন আরও বেশি নিপীড়ন চালানোর সুযোগ পাবে। হংকংয়ের ৭৬ বছর বয়সী আর্চবিশপ জোসেফ জেন মন্তব্য করেছেন, ‘তারা পাখির ছানাদের নেকড়ের মুখে তুলে দিচ্ছে। এটা এক অবিশ্বাস্য বিশ্বাসঘাতকতা। শুধু চীনের সব চার্চ নয়, সমগ্র চার্চ ব্যবস্থাপনার জন্য এর পরিণতি হবে বিপর্যয়কর এবং সুদূরপ্রসারী। কারণ এটা আস্থা নষ্ট করেছে। হয়তো সে জন্যই তারা চুক্তির বিস্তারিত গোপন রাখতে চাইবে।’ ভ্যাটিকান জানিয়েছে, আসলেই চুক্তিটির বিস্তারিত এখন প্রকাশ করা হবে না। প্রয়োজনে পুনর্মূল্যায়ন ও সংশোধন করা হবে ভবিষ্যতে।’ সূত্র : বাংলা ট্রিবিউন

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত