প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

adv 468x65

মন মাতানো উৎসবে ট্রফি উন্মোচন

স্পোর্টস ডেস্ক: সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে ব্যর্থতার ক্ষত এখনও শুকায়নি। তারই মাঝে বেজে উঠল বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপের আগমনী ঘণ্টা। গতকাল শনিবার রাজধানীর একটি পাঁচতারকা হোটেলে বর্ণাঢ্য আয়োজনে ট্রফি উন্মোচনের মধ্য দিয়ে শুরু হয়ে গেল টুর্নামেন্টের আনুষ্ঠানিকতা। জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনে ছিল প্রাণজুড়ানো সুরের মূর্ছনা আর অ্যাক্রোবেটিক শোর মনোমুগ্ধকর পরিবেশনা। জাতির পিতার নামাঙ্কিত দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম সেরা এই টুর্নামেন্টটির ট্রফি উন্মোচন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটনমন্ত্রী একেএম শাহজাহান কামাল।

অনুষ্ঠান শুরু হয় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে স্মরণের মধ্য দিয়ে। প্রতিযোগিতার থিম সং পরিবেশন করেন কণ্ঠশিল্পী ও সংসদ সদস্য মমতাজ বেগম। অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল রাশিয়া ও কাজাখাস্তানের দুই নারীর অ্যাক্রোবেটিক শো। একটি রিংয়ে তারা নানা শারীরিক কসরতে উপস্থিত অতিথিদের মুগ্ধ করেন। এক ফাঁকে জানানো হয় টুর্নামেন্টের বিস্তারিত তথ্য।

আগামী ১ থেকে ১২ অক্টোবর দেশের তিনটি ভেন্যুতে ছয় দেশ নিয়ে আয়োজিত হতে যাওয়া টুর্নামেন্টটি নিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমি নিজেও একজন খেলার মানুষ। খেলা বেশ পছন্দ করি। আমার মনে আছে, শিক্ষাজীবনে আমি সাব-ডিভিশন থেকে শুরু করে জেলার মধ্যেও সেরা হয়েছিলাম।’ খেলাধুলার পৃষ্ঠপোষকতায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অবদানের কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘যখনই বাংলাদেশ দল ভালো করে তিনি মাঠে চলে যান। ক্রিকেট বলেন আর ফুটবল বলেন উভয় দিকে খোঁজখবর রাখেন তিনি। আমি মনে করি, আজকের তরুণ সমাজ যদি বেশি বেশি খেলাধুলায় এগিয়ে আসে তাহলে দেশটা আরও সামনের দিকে এগিয়ে যাবে।’

পর্যটনমন্ত্রী একেএম শাহজাহান কামাল ফুটবলে আরও আধুনিকায়নের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘বাফুফের কাছে আমার অনুরোধ, ফুটবলকে আরও আধুনিক করার। এ জন্য যে কোনো প্রয়োজনে আমার মন্ত্রণালয় সব ধরনের সহযোগিতা করতে প্রস্তুত। অংশগ্রহণকারী ছয়টি দলের জন্য আমার শুভকামনা রইল।’

বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি কাজী মো. সালাউদ্দিন তার বক্তব্যে বলেন, ‘আগে ভারত, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড নিয়মিত আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট করত। এখন সময় বের করতে পারে না কেউ। আমরা গর্ব করতে পারি, ফিফা ও এএফসির ব্যস্ত সূচির মাঝেও বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ করতে পারছি। এখন থেকে প্রতি বছরই হবে এ টুর্নামেন্ট।’ ১৯৯৭ সালে প্রথম অনুষ্ঠিত হলেও ২১ বছরের মাথায় বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ আয়োজিত হতে যাচ্ছে পঞ্চমবারের মতো। গতকালের ট্রফি উন্মোচন অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বাফুফের সিনিয়র সহসভাপতি আবদুস সালাম মুর্শেদী এমপি, সহসভাপতি কাজী নাবিল আহমেদ এমপি। এবারের বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ আয়োজিত হবে ঢাকা, সিলেট ও কক্সবাজারে। চলতি মাসের শুরুর দিকে গ্রুপিং চূড়ান্ত হয়েছে। ‘এ’ গ্রুপে আছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন নেপাল, ফিলিস্তিন ও তাজিকিস্তান। ‘বি’ গ্রুপে স্বাগতিক বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ ফিলিপাইন ও লাওস। উদ্বোধনী দিন সিলেট স্টেডিয়ামে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় বাংলাদেশ খেলবে লাওসের বিপক্ষে।

৬ অক্টোবর পর্যন্ত সিলেটে হবে গ্রুপ পর্বের ম্যাচ। ৯ ও ১০ অক্টোবর কক্সবাজার জেলা স্টেডিয়ামে দুটি সেমিফাইনাল এবং ১২ অক্টোবর ঢাকার বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে ফাইনাল। পুরো টুর্নামেন্টের সব খেলা দেখাবে বিটিভি, মাছরাঙা টেলিভিশন ও নাগরিক টিভি।

বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপের এবারের আসরটির স্বত্বাধিকারী কে-স্পোর্টস। টুর্নামেন্টে দলগুলোর আসা-যাওয়া, থাকা-খাওয়াসহ যাবতীয় খরচ বহন করবে কে-স্পোর্টস। এ ছাড়া বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনকে এক কোটি টাকা দেবে তারা। অতীতের মতো এবারের আসরেরও কো-স্পন্সর হিসেবে থাকছে হা-মীম গ্রুপ। জাতির পিতার নামের টুর্নামেন্টটি সফল করার জন্য সবরকম সাহায্য করছে প্রতিষ্ঠানটি। সূত্র: সমকাল

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত