প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

adv 468x65

প্লিজ, তোমরা আমাকে ধ্বংস করো না

প্রকৌশলী নওশাদুল হক : আল্লাহর এমন একটি নিয়ামত, যা মানব জীবনের প্রতিমুহূর্তেই দরকার এবং যার  অভাবে মিনিটের মধ্যেই এ পৃথিবী ত্যাগে বাধ্য হয় প্রাণীজগৎ, আর সেটি হলো অক্সিজেন। যার একমাত্র যোগানদাতা উদ্ভিদ জগৎ তথা বৃক্ষ। বৃক্ষ শুধু আমাদের অক্সিজেনের যোগান দিয়েই ক্ষান্ত হয় না। উপর্যুপরি তারা গ্রহণ করে আমাদের ত্যাগকৃত অপরিশোধিত বর্জ্য অর্থাৎ কার্বন ডাই অক্সাইড। প্রাণিকুলের সেবায় দুনিয়াতে উদ্ভিদের চেয়ে নিঃস্বার্থ আর কিছুই হয়ত নেই। অথচ স্বার্থহীন ও পরোপকারী একমাত্র জাতিটিকে প্রয়োজনে কিংবা অপ্রয়োজনে নিধন করা এ সমাজের কিছু কিছু মানুষের নেশায় পরিণত হয়েছে। এছাড়াও শহরায়ন, আধুনিকতার আগ্রাসন, জ্বালানি হিসাবে ব্যবহার, রাস্তাঘাটের বিস্তৃতি, জনসংখ্যার বৃদ্ধিজনিত কারণে খাদ্য ঘাটতি মিটানো ও আবাসন সংকট নিরসনে কৃত্রিমভাবে প্রতিনিয়ত গাছ কেটে উজাড় করা হচ্ছে।

সাথে সাথে তাদের অস্তিত্ব বিলিনে ঝড়, তুফান, ভূমিকম্প, খরা,  জলোচ্ছাস, নদী ভাঙ্গন, বন্যা ইত্যাদি প্রাকৃতিক দুর্যোগ সদা ব্যস্ত। তাতেই বিরান হয়ে যাচ্ছে ভূমি। আর তারই ফলশ্রুতিতে আধুনিক পৃথিবী আজ গ্রীন হাউজ ইফেক্টে ধরাশায়ী। অতি গরম, অতি বৃষ্টি এবং অতি ঠান্ডা তারই প্রভাব। বিশেষ করে জলবায়ুর পরিবর্তে, প্রভাবে অস্থিতিশীল আধুনিক বিশ্ব। প্রাকৃতিক এবং কৃত্রিম দু’কারণেই উদ্ভিদ জগৎ আজ দিশেহারা। মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকতে তারা ব্যর্থ হচ্ছে। বিশেষ করে শহর পর্যায়ে। তন্মধ্যে রাজধানী ঢাকায় তাদের অস্তিত্ব প্রায় বিলীন হওয়ার পথে। রাজধানী ঢাকার আয়তনের তুলনায় জনসংখ্যা দ্বিগুণেরও উপরে। অথচ এই অধিক জনসংখ্যার সবচেয়ে প্রয়োজনীয় খাদ্যটির একমাত্র যোগানদারের পরিমান সর্বনিম্ন পর্যায়ে। রাজধানীতে মাত্র কয়েকটি স্পটে তাদের অবস্থান লক্ষ্যনীয়। তন্মধ্যে হাতেগুনা কয়েকটি উদ্যান, বোটানিক্যাল গার্ডেন, চিড়িয়াখানা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস, গণভবন, বঙ্গ ভবন ও সংসদ ভবনের কথা উল্লেখ করার মত।

সংসদ ভবন ক্যাম্পাসে বেশকিছু বৃক্ষরাজি অতন্দ্র প্রহরীর ন্যায় সারিতে সারিতে দাঁড়ানো ছিল প্রাণি জগতকে নানামুখী স্বস্তি দেয়ার লক্ষ্যে। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, গত বৈশাখ জ্যৈষ্ঠ মাসে এক ধমকা ঝড়ে প্রাণি জগতকে নিঃশ্বাস, ছায়া ও মায়াদানকারী এই প্রহরীদের অনেকেই আজ কারও ঘরে ফার্নিচার হয়ে কিংবা কারও ঘরে চুলায় জ্বলে ছাইয়ে রূপান্তরিত হয়ে গেছে। আর যে ক’জনা এখনও  বেঁচে আছে তাদের মধ্যে অন্যতম একটিমাত্র ঐতিহাসিক বৃক্ষের কথাই আমি বলছি।

জাতীয় সংসদ ভবনস্থ দক্ষিন পাশের মধ্যমাঠ সংলগ্ন মানিক মিয়া এভিনিউ এর ফুটপাতে এই বৃক্ষটির অবস্থান। প্রতিদিন অনেক দর্শনার্থী  এর পাশ দিয়ে হেঁটে যায়।

আবার অনেক কপোত-কপোতী এর ছায়াতলে ইটের পিঁড়িতে বসে প্রেম ভালবাসায় মগ্ন থাকে। কিন্তু তাদের অনেকেরই হয়তো জানা নেই, যার ছায়াতলে এত ভালবাসা এত প্রেম তার নামটি কি? কপোত-কপোতীদের অনেকেরই  হয়ত জানা নেই, তাদের শারীরিক রোমাঞ্চে অন্যের দৃষ্টি আড়ালকারী এই বৃক্ষটি আরও কতদিন তাদেরকে এহেন রোমাঞ্চে সহযোগীতা করতে পারবে। কিংবা এই বৃক্ষটির বংশধরদের অবস্থান কি? লোকমুখে শুনা যায়, বাংলাদেশে এ জাতীয় দ্বিতীয়টি আর নেই। অর্থাৎ নির্বংশ। আর স্বাভাবিক অবস্থায় এই বৃক্ষটি  দীর্ঘায়ুর অধিকারী। অর্থাৎ হাজার বছর বেঁচে থাকার অধিকার রাখে সে। যদি না কোন প্রাকৃতিক কিংবা কৃত্রিম হিংস্র থাবায় কখনও আক্রান্ত না হয়।

যেহেতু হাজার বছরের আয়ু নিয়ে তুমি দুনিয়াতে এসেছো! তার চেয়ে আরও বেশি সময় ধরে ছায়া দিয়ে যাও কপোত-কপোতীদের প্রেম ও রোমাঞ্চে। আর মায়া দিয়ে যাও পথচারীদের। সাথে সাথে মাথা উঁচু করে দেশবাসীকে জানিয়ে দাও—

“আমি অচিন বৃক্ষ। এদেশে তোমরা ছাড়া আমার কোন বংশধর নেই। তোমরা ছাড়া আমার আর কোন আপনজনও নেই। তাইতো তোমাদের আমি আমার বুকে জড়িয়ে রাখতে চাই সবসময়ই। তোমরা আমাকে কখনও ধ্বংস করোনা প্লিজ।”

লেখক: সভাপতি, ঢাবি সমাজকল্যাণ এ্যালামনাই ফোরাম/সম্পাদনা: মোহাম্মদ আবদুল অদুদ

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত