প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

বোরখা, নেকাব, হিজাব শুধু পর্দাই নয়. . . .

আশরাফুজ্জামান বাবুল : বন্ধু সুলতান, পাথরের ব্যবসা করে। সিলেটের জাফলং, তামাবিল থেকে পাথর এনে বিভিন্ন ডেভেলপার কোম্পানি ও ঠিকাদারদের কাছে ঢাকা সহ বড় বড় শহর গুলোতে সাপ্লাই দেয়। মাসের বেশীরভাগ সময় বাইরে বাইরে থাকে। বাসায় এলেই সিলেটের চা বাগান ও জাফলংয়ের ঝর্ণার গল্প করে।

ওর স্ত্রী প্রায়ই বলে, আফছোস! জীবনে চা বগান আর ঝর্ণা দেখা হলো না। একদিন উভয়েরই কমন বন্ধু জহির তার গ্রামের বাড়ি মুন্সী গঞ্জের লৌহজং এ ছেলের সুন্নতে খতনা অনুষ্ঠানে সপরিবারে দাওয়াত দেয়। সুলতান তার স্ত্রী আর আমি একা মাইক্রোতে করে যাচ্ছি। সুলতানের বউকে জানানো হয়নি আমরা কোথায় যাচ্ছি। রাস্তার দু’ধারে আলু ক্ষেত। বাহারী সবুজ পাতা। এক জায়গায় উপর থেকে বৃষ্টিতে জমে থাকা পানি মোটামুটি বেগে নিচে পড়ছিল।

ভাবী মানে মিসেস সুলতান বলে উঠলো, আহারে, ঝর্ণা এতো সুন্দর! দিগন্ত জোড়া সবুজ উঁচা উঁচা আলু গাছ দেখে বলছে, চা বাগান এতো বড় আর এতো সুন্দর!

আমি কিছু না বুঝে বেকুব বনে গেলাম। সুলতান আমাকে চোখ টিপ মারতে বুঝলাম, না চিনলে ক্ষেতে চুয়াইন্যা পানিই ঝর্ণা আর আলু ক্ষেতই চা বাগান। অতি কষ্টে হাসি চেপে রাখলাম।

ইসলামে পর্দার বিধান ফরয। কিন্তু পর্দার আরো অনেক সামাজিক ও স্বাস্থ্যগত সুবিধা রয়েছে।আমার এক বান্ধবীকে কলেজে পড়াকালীন আধুনিক পোশাক, হেয়ার স্টাইল, পলিশ পালিশ কতো কি করতে দেখতাম।দীর্ঘ বছর পর গিন্নির জন্য থ্রী পিস কিনতে মার্কেটে গিয়ে ওর সঙ্গে দেখা। বোরখা, হিজাব, নেকাবে আপাদ মস্তক ঢাকা।

ওর আমুল পরিবর্তন দেখে খটকা লাগল। ইতস্তত করে হাসির ছলে বললাম, শেষ পর্যন্ত তুমিও তাহলে হুজুর অইছ! তাবলীগ করো নাকি! সে কোন জবাব না দিয়ে আমাকে ওর বাসায় নিয়ে গেল। আমাকে ড্রয়িং রুমে বসিয়ে ভেতরে গেল। মিনিট পাঁচেকের মধ্যে সরবত হাতে হাজীর। দেখি আগের মতোই আধুনিক। অবাক হয়ে তাকিয়ে আছি। একটু আগের বোরখা ওয়ালী আর বর্তমান ওর মধ্যে কোনই মিল নেই।

এবার সে মুখ খুলল। বোরখা পরলেই কেউ হুজুর, তাবলীগ, জামাত, মৌলবাদী, সেকেলে হয়ে যায় না। সাজ সজ্জা লোক দেখানোর জন্যে নয়। সেটা ঘরের জন্যে। বোরখায় পর্দা ছাড়াও বাহিরে যেতে বার বার পোশাক পরিবর্তন, মেক আপ করা, দামী পোশাক পরার ঝামেলা কমায়। কাপড় চোপর মোটামুটি মানের হলেও চলে যায়।

মুখ মন্ডল সহ গায়ে বাহিরের রোদ ও ধুলাবালি কম লাগে। মুখে মেস্তা, ব্রণ, স্কীন ডিজিজ কম হয়। ফেইস ওয়াশ, স্নো-ক্রীম, পাউডার এসব কম লাগে। কাপড় কম ময়লা হয়। খরচ বাঁচে। ফাজিলদের লুলুপ চোখ পড়েনা।গায়ে গহনা থাকলে ছিনতাইকারী দের নজর এড়ানো যায়। আর পর্দাতো হয়ই। এক কথায় সব দিক দিয়ে নিরাপদ।

আমি তার কথায় যুক্তি খুঁজে পেলাম। বললাম, কিন্তু যারা কালারফুল, ফ্যাশনেবল, টিকেন দেয়া, স্কিন টাইট বোরখা পরে ওদের দিকেতো মানুষের নজর আরো বেশী পড়ে।

সে বলল, ওটা আরেক ভ্রান্তি। বোরখায় যদি পর্দা না হয়ে ফ্যাশন হয়, তবে উদোম থাকাই ওদের জন্যে শ্রেয় কারণ, ওরা মানুষকে গতর দেখাতে চায়! ওরা ইসলামের মূল আদর্শ বুঝেই না। ফরয পালনের পরিবর্তে বরং গুণাহ করে, দোযখের খড়ি হয়।

আমি লা জবাব। এটুকু বুঝলাম ফ্যাশন ওয়ালা বোরখাওয়ালী গনের অবস্থা সুলতানের বউয়ের মতো! চুয়াইন্যা পানি ঝর্ণা আর আলু ক্ষেতই ওদের কাছেও চা বাগান কারণ পর্দা সম্পর্কে ওদের সম্যক ধারণা না থাকা।

আসার সময় মনে মনে ভাবলাম, হাফ ডজন থ্রী পিছ না কিনে ডিজাইন বিহীন এক জোড়া বোরখা কিনে নিয়ে তবেই বাসায় ফিরব। তাতে পর্দাও হবে, মিতব্যয়ীও হওয়া যাবে কারণ ইসলামী শরীয়া অপচয়কেও পারমিট করেনা। আপনারা কি বলেন?

[লেখাটি লেখ কের ফেসবুক থেকে নেয়া]

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত