প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

কারবালার ইতিহাস সংক্রান্ত কিছু গুজব

আমিন মুনশি : মুসলিমদের আবেগ ও অনুভূতিকে জাগিয়ে তুলে তাদের বিভ্রান্ত করার জন্য বেশ কিছু গুজব-বানোয়াট ঘটনা বলা হয়ে থাকে। যেগুলোর কোনো সহীহ সনদ নেই। যেমন: হজরত হুসাইন রা. ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের মৃত্যুতে আকাশ থেকে রক্তের বৃষ্টি হওয়া, সেখানকার কোনো পাথর উঠালেই তার নিচ থেকে রক্ত প্রবাহিত হওয়া এবং কোনো উট জবাই করলেই তা রক্তে পরিণত হয়ে যাওয়ার ধারণা মিথ্যা ও বানোয়াট।

ইমাম ইবনে কাছীর রাহিমাহুল্লাহ বলেন, হুসাইন রা.- এর মৃত্যুর ঘটনায় লোকেরা উল্লেখ করে থাকে যে, সেদিন কোনো পাথর উল্টালেই রক্ত বের হতো, সেদিন সূর্যগ্রহণ হয়েছিল, আকাশের দিগন্ত লাল হয়ে গিয়েছিল এবং আকাশ থেকে পাথর বর্ষিত হয়েছিল। এসব কথা সন্দেহমূলক। প্রকৃতপক্ষে এগুলো বিশেষ একটি গোষ্ঠীর বানোয়াট ও মিথ্যা কাহিনী ছাড়া আর কিছুই নয়। তারা বিষয়টিকে বড় করার জন্য এগুলো রচনা করেছেন।

কোনো সন্দেহ নেই, কারবালার ময়দানে সপরিবারে হুসাইন রা.- এর শাহাদাৎবরণ একটি বিরাট ঘটনা। কিন্তু, তারা এটিকে কেন্দ্র করে যে মিথ্যা রচনা করেছেন, তার কোনোটিই সংঘটিত হয়নি।

ইসলামের ইতিহাসে হুসাইন রা.- এর মৃত্যুর চেয়ে অধিক ভয়াবহ ঘটনা সংঘটিত হয়েছে। সে সমস্ত ঘটনায় উপরোক্ত বিষয়গুলোর কোনোটিই সংঘটিত হয়নি।

হুসাইন রা.- এর পিতা আলী রা. আব্দুর রাহমান ইবন মুলজিম খারেজীর হাতে নির্মমভাবে নিহত হন। সকল আলেমের ঐকমত্যে হুসাইন রা.- এর চেয়ে আলী রা. অধিক শ্রেষ্ঠ ও সম্মানিত ছিলেন। তার শাহাদাতের দিন কোনো পাথর উল্টালেই রক্ত বের হয়নি, সেদিন সূর্যগ্রহণ হয়নি, আকাশের দিগন্ত লাল হয়ে যায়নি এবং আকাশ থেকে পাথর বর্ষিত হওয়ারও কোনো প্রমাণ নেই।

উসমান ইবন আফফান রা.- এর বাড়ি ঘেরাও করে বিদ্রোহীরা তাকে হত্যা করে। তিনি মজলুম অবস্থায় শাহাদাতবরণ করেন। তার মৃত্যুতে এসবের কোনোটিই সংঘটিত হয়নি।

উসমান রা.- এর পূর্বে খলিফাতুল মুসলিমীন উমর ইবনুল খাত্তাব রা. ফযরের নামায পড়ানোর সময় নির্মমভাবে নিহত হন। এই ঘটনায় মুসলমানরা এমন মুসিবতে পড়েছিলেন, যা ইতোপূর্বে এর চেয়ে বড় মুসিবতের সম্মুখীন হননি। সে সময় উপরোক্ত লক্ষণগুলো দেখা যায়নি।

আল্লাহর সর্বশ্রেষ্ঠ বান্দা, সমগ্র নবী-রাসূলের সরদার, রাহমাতুল লিল আলামীন সা. মৃত্যুবরণ করেছেন। তার মৃত্যুতেও এমন কিছু সংঘটিত হয়নি। যেদিন রাসূল সা.- এর শিশু পুত্র ইবরাহীম মৃত্যুবরণ করেন, সেদিন সূর্যগ্রহণ লেগেছিল। লোকেরা বলতে লাগল, ইবরাহীমের মৃত্যুতে আজ সূর্যগ্রহণ হয়েছে। রাসূলুল্লাহ সা. সূর্যগ্রহণের নামায আদায় করলেন এবং খুতবা প্রদান করলেন।

খুতবায় তিনি বর্ণনা করলেন, সূর্য এবং চন্দ্র কারও মৃত্যু বা জন্ম গ্রহণের কারণে আলোহীন হয় না। এগুলো আল্লাহর নিদর্শন। তিনি এগুলোর মাধ্যমে তাঁর বান্দাদের ভয় দেখিয়ে থাকেন।

মহান আল্লাহ আমাদের সমস্ত ভ্রান্ত বিশ্বাস থেকে হেফাজত করুন এবং এই সকল ঘটনাকে কেন্দ্র করে মুসলমানদের মাঝে পারস্পরিক দোষারোপ ও বিদ্বেষচর্চা থেকে বিরত থাকার তাওফিক দান করুন। আমীন।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ