প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ভারতের মহড়া বাদ দিয়ে চীনের মহড়ায় যোগ দিল নেপাল

মাছুম বিল্লাহ: ভারত আয়োজিত বহুদেশীয় মহড়ায় অংশ নিতে অস্বীকার করে চীনের সন্ত্রাসবিরোধী মহড়ায় যোগ দেয়ার নেপালি সিদ্ধান্তে নয়া দিল্লি ও কাঠমান্ডুর মধ্যে সম্পর্কে ফাটল নিয়ে গুঞ্জন শুরু হয়েছে। খবর স্ট্রেইটস টাইমসের।

পুনেতে ১০-১৬ সেপ্টেম্বর দক্ষিণ এশিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর গ্রুপ বিমসটেকের ব্যানারে আয়োজিত সামরিক মহড়া থেকে নেপাল তার নাম প্রত্যাহার করে নেয়। এর বদলে সেখানে পর্যবেক্ষক পাঠায় নেপাল।

কিন্তু চীনের সাথে ১০ দিনের সন্ত্রাসপ্রতিরোধ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনাবিষয়ক মহড়ায় যোগ দেয় নেপাল। সোমবার ওই মহড়া শুরু হয়েছে।

বিমসটেক মহড়া থেকে সরে আসা প্রসঙ্গে মন্তব্য জানতে চাইলে ভারতের সেনাপ্রধান বিপিন রাওয়াত বলেন, ভৌগোলিক কারণে নেপাল ও ভুটানের মতো দেশকে ভারতের সাথে থাকতে হবে। ভৌগোলিক কারণে অন্য দেশ সেখানে থাকতে পারে না।

তিনি আরো বলেন, ভারতের নেতৃত্ব প্রতিবেশী দেশগুলোর সাথে সম্পর্ক রাখার নীতিতে বিশ্বাস করে।

তিনি বলেন, আমরা বড় দেশ। আমরা যদি নেতৃত্ব গ্রহণ করি, অন্যরা তা অনুসরণ করবে। এ কারণেই আমরা মহড়ার আয়োজন করেছি।

ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী নির্মলা সিতারামন এক সংবাদ সম্মেলনে জোর দিয়ে বলেন, মহড়ায় নেপালের অনুপস্থিতি বয়কট নয়। তিনি বলেন, দিল্লিকে কাঠমান্ডু জানিয়েছে যে নবনিযুক্ত সেনাপ্রধান জেনারেল পূর্ণ চন্দ্র থাপা ব্যস্ত থাকায় তিনি ভারত সফর করতে পারবেন না। এ কারণে ওই মহড়া থেকে নেপাল নিজেকে প্রত্যাহার করে নিয়েছে।

নেপাল ও ভারত ঐতিহ্যগতভাবেই ঘনিষ্ঠ বন্ধু। তবে সম্পর্কে অনেক চড়াই-উৎড়াই রয়েছে। ২০১৫ সালে ভারতের অঘোষিত অবরোধের পর থেকে নেপাল দেশটির ওপর থেকে নির্ভরশীলতা হ্রাস করার চেষ্টা করে যাচ্ছে। তারা এখন চীনের ঘনিষ্ঠ হওয়ার চেষ্টা করছে।

ভারত আবার চীনা প্রভাব খর্ব করার চেষ্টা করছে। বিমসটেক সম্মেলনে নেপাল সফরের সময় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ওই লক্ষ্যই ছিল সামনে। অবশ্য নয়া দিল্লির চেয়ে বেইজিংয়ের সাথে সম্পর্ক রক্ষার চেষ্টা করেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা ওলি। তিনি গত জুনে চীন সফর করেছেন। এ সময় তিনি চীনের সাথে ট্রানজিট চুক্তি সই করেছেন। এই চুক্তির ফলে চীনা বন্দর দিয়ে নেপালের বাণিজ্য করার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। দুই দেশ কানেকটিভিটি কর্মসূচি জোরদার করতেও একমত হয়েছে।

বর্তমানে তৃতীয় দেশের সাথে নেপালের বাণিজ্যের ৯৮ ভাগ হয়ে থাকে ভারতের মাধ্যমে। এখন চীনের দেয়া সুবিধার ফলে এই অবস্থার পরিবর্তন ঘটবে।

নেপালের পর্যবেক্ষকেরা বলছেন, ছোট এই দেশটিকে ভারত ও চীনের সাথে তার সম্পর্কের ক্ষেত্রে ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

সংবিধান বিশেষজ্ঞ বিপিন অধিকারী বলেন, ভারতের সাথে নেপালের সম্পর্কের গুরুত্ব বিপুল। ছোট দেশ হিসেবে আমাদের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির জন্য আমাদের স্বাধীনতা ও সম্ভাবনার গুরুত্বও রয়েছে। আমরা ছোট নই, মূল্যবানও।

তিনি বলেন, এ দিক থেকে অনেক নেপালি ভারতকে সহায়ক শক্তি হিসেবে দেখে। তবে আমাদের আরো প্রতিবেশী আছে। আমাদেরকে অবশ্যই উভয় শক্তিশালী দেশের সাথে সম্পর্ক রক্ষা করে চলতে হবে। এই সম্পর্কে ক্ষেত্রে বিমসটেক মহড়া কেন এত গুরুত্বপূর্ণ বিবেচিত হবে সে ব্যাপারে আমার কোনো ধারণা নেই।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত