প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

এস কে সিনহা : জীবনী, না জীবনহানি

বিভুরঞ্জন সরকার: সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা (এস কে সিনহা) একটি আত্মজীবনীমূলক বই লিখবেন এই কথাটা শোনা যাচ্ছিল বেশ কিছুদিন ধরেই। বইটি নির্বাচনের আগে বের হবে এবং সরকারের জন্য সেটা বিব্রতকর হবে এটাও তখনই শোনা গিয়েছিল। গুজব সত্য হয়েছে। অথবা বলা যায় এস কে সিনহাকে সামনে রেখে আওয়ামী লীগ সরকারবিরোধী একটি শক্তিশালী লবি যে পরিকল্পনা করছিল তার একটি বিশেষ পর্ব শেষ হতে চলেছে। এস কে সিনহার আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ ‘অ্যা ব্রোকেন ড্রিম’ বের হয়েছে। আশা করা হচ্ছে এই বই নিয়ে তোলপাড় করার চেষ্টা হবে এবং কিছুদিনের মধ্যে এটা নিয়ে হৈ চৈও শেষ হয়ে যাবে। কিন্তু সত্য প্রকাশ ও সাহসিকতার নামে এই সাবেক প্রধান বিচারপতি যে কাজটি করলেন তাতে তিনি কতটা ক্ষমতাসীন সরকারের ক্ষতি করতে পারলেন আর কতটা নিজের নির্বুদ্ধিতার প্রমাণ জাতির কাছে প্রকাশ করলেন সেটা বোঝার জন্য আরো কয়েকদিন আমাদের অপেক্ষা করতে হবে। এই ধরনের একটি বই লিখতে যারা তাকে উৎসাহিত ও প্ররোচিত করেছেন অথবা তিনি যাদের ইচ্ছাপূরণের যন্ত্র হিসেবে ব্যবহৃত হলেন, সে প্রশ্ন সামনে আসবে। বইটি যেহেতু পড়ার সুযোগ এখনও হয়নি সেহেতু বইয়ের বিষয়বস্তু নিয়ে কিছু লেখা বা মন্তব্য করা এখনই সম্ভব হচ্ছে না। তবে তার বই লেখার উদ্দেশ্য নিয়ে দু’চার কথা বলা যায়।

এস কি সিনহা সৌভাগ্যবান ব্যক্তি। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের একজন সদস্য হয়ে তিনি বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতির পদ অলঙ্কৃত করার সুযোগ পেয়েছিলেন। বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী না হলে সিনহার পক্ষে প্রধান বিচারপতি হওয়া সম্ভব হতো না। তিনি নিশ্চয়ই ওই পদের জন্য উপযুক্ত ছিলেন। কিন্তু এটাও সত্য যে তার চেয়ে উপযুক্ত ব্যক্তিরাও ওই পদ পাওয়ার কথা ভাবতেও পারেননি।

বিচারপতি সিনহা শুধু যোগ্য বলে প্রধান বিচারপতি হয়েছেন, আমি অন্তত এটা বিশ্বাস করি না। এই ধরনের পদে নিয়োগের আগে সরকার প্রধানকে আরো অনেক কিছু বিবেচনা করতে হয়। দেশে বিরাজমান একটি সাম্প্রদায়িক ভেদনীতি তথা বৈষম্য দূর করতে গিয়ে লোক বাছাইয়ে ভুল করা হয়েছিল। বিচারপতি সিনহাকে তার বহনক্ষমতার বাইরে দায়িত্ব চাপিয়ে দেওয়া হয়েছিল। ভুল চয়েজ ভয়ঙ্কর। সিনহার ক্ষেত্রে তাই হয়েছে। তার অতীত রেকর্ড গৌরবের নয়।

সরকার যে সঠিক সিদ্ধান্ত নেয়নি সে আলোচনা আদালত পাড়ায় তখনই ছিল। তখনই শোনা গিয়েছিল, এই ভদ্রলোক সরকারকে ভোগাবে। পরবর্তী সময়ে বাস্তবে তাই হয়েছে। ষোড়শ সংশোধনী মামলার রায়ের আগেই তিনি একাধিক বার বুঝিয়েছেন যে তিনি শেখ হাসিনার সরকারের জন্য বোঝা হয়েই এসেছেন। সরকার কেন বুঝলো না? মিছরির ছুরি বলে বাংলায় একটি শব্দ আছে। এস কে সিনহা তা-ই। তিনি ভেতর থেকে সরকারকে ধসিয়ে দেওয়ার এক মহাপরিকল্পনার অংশ হয়েছিলেন। সরকার শেষে যে যে কাজ করেছে সেগুলো করা দরকার ছিল আরো অনেক আগে।

তিনি এখন বিদেশে আছেন। বলছেন, তাকে পদত্যাগে এবং দেশত্যাগে বাধ্য করা হয়েছে। একজন আর্মি অফিসার তাকে পা দিয়ে লাথি (লাথি তো হাত দিয়ে দেওয়া যায় না। তাই না?) দিয়েছেন বলে এস কে সিনহা একটি বিদেশি সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে বলেছেন। ভাবতেও লজ্জা লাগছে। লাথি খেয়েও তিনি প্রধান বিচারপতির পদ আঁকড়ে ছিলেন! আত্মসম্মানবোধ সম্পন্ন কোনো মানুষ এটা পারে?

তিনি সেটা করেছেন। কারণ তিনি অন্য আস্যাইনমেন্ট পালনের দায়িত্ব পেয়েছিলেন, অন্য কোনো পক্ষ থেকে। এস কে সিনহা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সরাসরি অভিযুক্ত করে ঘোরতর অন্যায় করেছেন। তাকে দেশে ফিরিয়ে আনা হোক। তাকে প্রমাণ করতে হবে তিনি এ যুগের সত্যবাদী যুধিষ্ঠির।

সব মণিহার সবার মানায় না। সবার পেটে সব কিছু হজমও হয় না। এস কে সিনহা সেই দলের মানুষ। তিনি আসলে জীবনীর নামে শুধু নিজের জীবনহানির বয়ান দিয়েছেন। তিনি অনেক বড় ক্ষতি করেছেন দেশের এবং ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের। উত্তেজনা থিতু হলে আমার কথার সত্যতা খুঁজে পাওয়া যাবে।

লেখক : গ্রুপ যুগ্ম সমাপাদক, আমাদের নতুন সময়

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত