প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

আশুরার তাৎপর্যময় ঘটনা এবং কারবালার শপথ

আমিনুল ইসলাম হুসাইনী: আশুরা। সৃষ্টির শুরু লগ্ন থেকেই এই দিনে আল্লাহ রাব্বুল আলামিন অনেক তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা সংঘটিত করেছেন। এই যেমন আকাশ, বাতাস, পাহাড়-পর্বত, নদী-নালা, জান্নাত-জাহান্নাম, লাউহু মাহফুজ ও যাবতীয় সৃষ্টিজীবের আত্মা সৃষ্টি করেছেন। আবার এ দিনেরই কোনো এক জুমাবারে হযরত ইসরাফিল (আ.) এর ফুঁৎকারে নেমে আসবে মহা প্রলয়। পবিত্র কোরআনের ভাষায় যাকে বলা হয় কেয়ামত। এছাড়াও ইসলামের আরো অনেক ঐতিহাসিক ঘটনার সূত্রপাত হয়েছে এ আশুরাতেই। আদি পিতা হযরত আদম আ. কে সৃষ্টি করা, জান্নাতে প্রবেশ করানো, আবার ভুলের কারণে তাদেরকে পৃথিবীতে প্রেরণের পর এ দিনই তাঁর তাওবা কবুল করা হয়। এমনিভাবে এ দিনে জাতির পিতা হযরত ইব্রাহিম আ. জন্মগ্রহণ করেন, আবার এদিনেই নমরুদের বিশাল অগ্নিকুণ্ড হতে মুক্তিলাভ করেন। এই আশুরাতেই তুর পাহাড়ে আল্লাহর সাথে হযরত মুসা আ. কথোপকথন ও আসমানী কিতাব ‘তাওরাত’ লাভ করেন, আবার এই ১০ই মুহাররমেই জালেম ফেরাউনের দলবলসহ নীল দরিয়ায় সলিল সমাধি হয়। (দ্রষ্টব্য, বুখারি-৩৩৯৭, মুসলিম-১১৩৯)

পবিত্র আশুরায় সর্বশেষ যেটা ঘটেছে তা হচ্ছে রাসূল (সা) এর নয়নমণি, ‘রায়হানাতাই রাসূলিল্লাহি’ অর্থাৎ রাসুলুল্লাহ (সা.) এর দুই ফুল’র শেষ ফুল ইমাম হুসাইন (রা) এর শাহাদাত। যা মুসলিম জাতির হৃদয়ের রক্তক্ষরণ ও বেদনাদায়ক ঘটনা।

হজরত ইমাম হুসাইন (রা.) মহানবীর (সা.) প্রিয় দৌহিত্রই ছিলেন না শুধু, ছিলেন তার আদর্শের প্রতীকও। আর সে জন্যই তিনি ইয়াজিদের সঙ্গে আপস করেননি। বরং তার স্বৈরাচারী শাসন ব্যবস্থার বিরুদ্ধে দীনের ঝা-া হাতে নিয়ে প্রমাণ করে গেছেন ‘শির দেগা, নেহি দেগা আমামা’।
সেদিন ইমাম হুসাইন (রা.) ইয়াজিদের বশ্যতা মেনে নিলে হয়তো তিনি ও তার পরিবার বেঁচে যেতেন। কিন্তু মহানবীর (সা.) দাঁত ভেঙে যাওয়ার বিনিময়ে পাওয়া দীনের কী হতো? সেদিন যদি তিনি নীরবে সব মেনে নিতেন, তাহলে এই তেরশ’ বছর পর এসে আমরা মহানবীর (সা.) রেখে যাওয়া এই অক্ষুণ্ণ দীনকে পেতাম কি? বহু আগেই তার কবর হয়ে যেত। আর পরবর্তী সময়ে দুঃশাসকদের ব্যাপারে আমরাও হতাম নীরব সমর্থক। কেননা তখন তো আর আমাদের সামনে অন্যায়ের বিরুদ্ধে ইমাম হুসাইনের (রা.) দৃষ্টান্ত থাকত না। থাকত না মাথা উঁচু করার সাহস। দহনে দহনে অঙ্গার হয়ে গেলেও আমাদের মনোভাব হতো, এটাই বুঝি অখণ্ডিত তকদির।

কিন্তু হজরত হুসাইন (রা.) তা হতে দেননি। তিনি বিশ্ব মুসলিমের জন্য এই শিক্ষাই রেখে গেলেন যে, অযোগ্য ও অসৎ ব্যক্তির অন্ধ আনুগত্য চলবে না। নীরবচারী হওয়া যাবে না।

কিন্তু আফসোসের বিষয় হল, বিশ্ব মুসলিম আজ ইমাম হুসাইনের (রা.) এ শিক্ষা থেকে অনেক দূরে সরে গেছে। আর সে জন্যই আজ পৃথিবীর প্রান্তে প্রান্তে দেখছি মুসলিমদের হাহাকার। শুনছি দীর্ঘ নিঃশ্বাস। তাই আসুন! আমরাও কারবালার ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিই। ইমাম হুসাইন (রা) এর আদর্শে নিজেদের গড়ি। শপথ নিই পুরো পৃথিবীর যদি অসত্যের পক্ষ্যে নেয়, তবুও আমরা এ মিথ্যার মোকাবেলায় পরোয়াহীনভাবে ঝাঁপিয়ে পড়বো। এটাই যে কারবালার দীপ্ত শপথ।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত