প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

সব পক্ষই আইনটির বিরোধিতা করেছেন: কাদের গণি চৌধুরী

মুহাম্মদ নাঈম : ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন নিয়ে আমাদের সম্পাদক পরিষদ আপত্তি জানিয়েছে। বিবেক সম্পন্ন কোনো মানুষকে এই আইনের পক্ষে পাবেন না। সরকার পন্থী এবং সরকার বিরোধী সবাই এটির বিরোধিতা করেছেন। আমাদের নতুন সময়ের সাথে আলাপকালে সাংবাদিক নেতা ও বিএনপির তথ্য-গবেষণা বিষয়ক সহ সম্পাদক কাদের গণি চৌধুরী এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, দুঃজনক ব্যপার হলো, আইনটিতে বলা হয়েছে, আইনের ৩২ ধারায় অফিসিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্ট প্রয়োগ করে কোনো কম্পিউটার, ডিজিটাল ডিভাইস, কম্পিউটার নেটওয়ার্ক, ডিজিটাল নেটওয়ার্ক বা অন্য কোনো ইলেকট্রনিক মাধ্যমে সংগৃহীত তথ্যকে অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এ অপরাধ সংঘটন ও সংঘটনে সহায়তার দায়ে ১৪ বছর কারাদন্ড বা ২৫ লাখ টাকা অর্থদন্ড বা উভয় দন্ডের বিধান রাখা হয়েছে আইনে। এটি খুবই দুঃখ জনক। একই অপরাধ যদি দ্বিতীয়বার সংঘটিত করেন, তাহলে যাবজ্জীবন কারাদন্ড বা এক কোটি টাকা অর্থদন্ড বা উভয় দন্ডে দন্ডিত করা হবেন।

তিনি আরও বলেন, পুলিশকে এতটা ক্ষমতা দেয়ার কোন যৌক্তিকতা নেই। আইনে পুলিশকে গ্রেফতারি পরোয়ানা ছাড়াই তল্লাশি ও গ্রেফতারের পাশাপাশি ক্ষতিকর তথ্য-উপাত্ত ব্লক বা অপসারণের বিধানও রাখা হয়েছে। এ ছাড়া এই আইনের অধীনে করা সব কাজকে দায়মুক্তি দেওয়া হয়েছে। এমনকি জাতীয় ডিজিটাল নিরাপত্তা কাউন্সিলের মহাপরিচালককে প্রয়োজনে নিজ ক্ষমতা এজেন্সির কোনো কর্মচারী এবং অন্য কোনো ব্যক্তি বা পুলিশ অফিসারকে অর্পণ করারও ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।

কাদের গনি চৌধুরী বলেন, কোন মানব শাসিত সমাজে এই আইন কল্পনাও করা যায় না। এই আইনটি সম্পূর্ণ সংবিধান পরিপন্থি। কেননা, সংবিধানে আমাকে বাক স্বাধীনতা, আমার ব্যক্তিগত স্বাধীনতা এবং কথা বলার স্বাধীনতা দেয়া হয়েছে। এই আইনটির মাধ্যমে আমার বাক স্বাধীনতা, আমার কথা বলার অধিকার এবং আমার লেখার স্বাধীনতা কেড়ে নেয়া হয়েছে। কাজেই এই আইন সংবিধান পরিপন্থি। আমরা সাংবাদিক সমাজ এই আইন প্রত্যাক্ষান করছি। আমরা আশা করি, সরকারের শুভবুদ্ধির উদয় হবে, সাংবাদিকদের কন্ঠরোধ করা থেকে বিরত থাকবেন এবং অচিরেই এই আইনটি দ্রুত তারা বাতিল করবেন।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত