প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

সংসদে প্রবেশের দৌড়ে নেমেছে ধর্মভিত্তিক দলগুলো!

ডেস্ক রিপোর্ট : সংসদে প্রবেশের দৌড়ে নেমেছে ধর্মভিত্তিক দলগুলোও। আওয়ামী লীগ ও বিএনপির বলয়ের বাইরে থাকা এসব দল জোটে ভেড়ার চেষ্টা করছে। জোট বাঁধছে ছোট ধর্মভিত্তিক দলগুলো। সবারই লক্ষ্য আগামী নির্বাচনে আসন পাওয়া।

ভোটের মাঠে অবস্থান দুর্বল হলেও বড় দলের কাছে আসনের চাহিদার তালিকা দীর্ঘ। নিবন্ধিত ধর্মভিত্তিক দলের সংখ্যা ৯টি। এর বাইরে অনিবন্ধিত ধর্মভিত্তিক দল রয়েছে অর্ধশত। নিবন্ধিত কী অনিবন্ধিত ভোটের আগে সবাই বিভিন্ন জোটে ছুটছে। নতুন জোট গড়ছে। দলগুলোর নেতারাই জানালেন, উদ্দেশ্য আগামী সংসদে প্রবেশের রাস্তা তৈরি করা।

ধর্মভিত্তিক দলগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় জামায়াতের নিবন্ধন বাতিল হয়েছে হাইকোর্টের রায়ে। রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে জামায়াত আপিল করলেও এখনও তা নিষ্পত্তি হয়নি। সর্বোচ্চ আদালতের রায় পক্ষে না গেলে আগামী নির্বাচনে দলীয় পরিচয়ে অংশ নিতে পারবে না জামায়াত।

ভোটের পরিসংখ্যানে জামায়াতের পর অবস্থান চরমোনাইর পীরের নেতৃত্বাধীন ইসলামী আন্দোলনের। ২০০৮ সালে ১৬৭ আসনে প্রার্থী দিয়ে সবক’টিতে জামানত বাজেয়াপ্ত হয় দলটির। মোট ভোটের শূন্য দশমিক ৯৪ শতাংশ পায় দলটি। তবে সাম্প্রতিক অনুষ্ঠিত সিটি করপোরেশনগুলোয় নির্বাচনে উল্লেখযোগ্য ভোট পেয়ে আলোচনায় রয়েছে তারা।

নিবন্ধিত ধর্মভিত্তিক দল রয়েছে আরও সাতটি। ইসলামী ঐক্যজোট, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশ, খেলাফত আন্দোলন, খেলাফত মজলিস, ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ ও বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট। ২০০৮ সালে জমিয়ত দুই আসনে ও ইসলামী ঐক্যজোট একটি আসনে জামানত রক্ষা করতে পেরেছিল। দল দুটি সম্প্রতি ভেঙেছে। বাকিরা ২০০৮ সালের ভোটে সব আসনে জামানত হারিয়েছিল।

সুফি ঘরানার জাকের পার্টি ও তরীকত ফেডারেশনও নিবন্ধিত দল। মহাজোটের শরিক তরীকত ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে দুটি আসন পেয়েছে। তরীকত ও জাকের পার্টি বাদে বাকিরা কেউ ২০১৪ সালের নির্বাচনে অংশ নেয়নি।

জামায়াত ২০০৮ সালে ভোট পায় ৪ দশমিক ৭ শতাংশ। সব ধর্মভিত্তিক দলের সম্মিলিত প্রাপ্তি ছিল মোট ভোটের সাড়ে ছয় শতাংশ। যদিও ধর্মভিত্তিক দলের নেতাদের দাবি, তাদের সব মিলিয়ে ২০ শতাংশ ভোট রয়েছে। এ দাবির জোরে বড় দলগুলোর কাছে আসনের দাবি জানাচ্ছে। ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান আবদুল লতিফ নেজামী  বলেন, ভোটের রাজনীতিতে ধর্মভিত্তিক দল প্রভাবক শক্তি। কিন্তু ছোট ছোট অংশে বিভক্ত হয়ে পড়ায় প্রভাব কমেছে।

জামায়াত, জমিয়ত ও খেলাফত মজলিস রয়েছে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলে। ইসলামী ঐক্যজোটের একাংশ রয়েছে এ জোটে। জাতীয় পার্টির নেতৃত্বাধীন সম্মিলিত জাতীয় জোটের শরিক বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশ এবং বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট। জাতীয় ইসলামী মহাজোট নামে ৩৫টি অনিবন্ধিত দলও রয়েছে এ জোটে। আওয়ামী লীগের জোটে কওমি মাদ্রাসা ঘরানার কোনো ইসলামী দল নেই। সুফি ঘরানার তরীকত ফেডারেশন রয়েছে।

জামায়াত সূত্রের খবর, বিএনপির জোটের কাছে তাদের চাওয়া ৬০ আসন। তবে এখনই সংখ্যার কথা জানাতে চান না দলটির নায়েবে আমির মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি  বলেছেন, তফসিলের পর এ বিষয়ে আলোচনা হবে।

২০০৮ সালের নির্বাচনে জামায়াতকে ৩৩ আসন ছেড়েছিল বিএনপি। তবে জামায়াতের প্রার্থী ছিল ৩৯ আসনে। জয়ী হন মাত্র দুই প্রার্থী। যুদ্ধাপরাধের বিচারে এখন কোণঠাসা অবস্থায় রয়েছে দলটি। শীর্ষ নেতাদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে। নিবন্ধন হারিয়েছে। তার পরও আগের চেয়ে বেশি আসন দাবি করছে জামায়াত। গোলাম পরওয়ার  বলেন, আগের চেয়ে বেশি আসনে নির্বাচন করবে জামায়াত। এটি নিশ্চিত।

ইসলামী আন্দোলন কোনো জোটে নেই। দলের আমির চরমোনাইর পীর মুফতি সৈয়দ রেজাউল করীম বলেছেন, কয়েকটি দল তাদের সঙ্গে জোট গড়তে প্রস্তাব দিয়েছে। তবে তারা নীতি-আদর্শ বিসর্জন দিয়ে কোনো জোটে যাবেন না। ৩০০ আসনে প্রার্থী দেওয়ার প্রস্তুতি রয়েছে তাদের।

তবে সূত্রের খবর, কোনো জোটে না গেলেও সরকারের সঙ্গে সমঝোতা রয়েছে চরমোনাইর পীরের দলের। আগামী নির্বাচনে বিএনপি অংশ না নিলে আওয়ামী লীগ তাদের সঙ্গে জোট না করেই ছাড় দিতে পারে কয়েকটি আসনে। তবে একে গুজব বলে উড়িয়ে দিয়েছেন ইসলামী আন্দোলনের মহাসচিব অধ্যক্ষ ইউনুস আহমাদ। তিনি বলেছেন, জোট হলে নীতি-আদর্শের ভিত্তিতে হবে।

মহাজোটে যাওয়ার চেষ্টা করছে প্রয়াত মুফতি ফজলুল হক আমিনীর প্রতিষ্ঠিত ইসলামী ঐক্যজোট। দলটি বছর দুয়েক আগে বিএনপির জোট ছেড়েছে। হেফাজতে ইসলামের সংশ্নিষ্ট এ দলটি আগামী নির্বাচনে ২০টি আসনে আওয়ামী লীগের ‘সহায়তা’ চায়। কয়েক মাস আগে তারা ‘সহায়তা’ চেয়ে প্রধানমন্ত্রীকে চিঠিও দেয়। বিএনপি জোটে থাকাকালে দলটির অনেক নেতা হেফাজতের তাণ্ডবের মামলায় আসামি হয়ে আত্মগোপনে ছিলেন। জোট ছাড়ার পর প্রকাশ্য কর্মসূচি পালন করছেন।

২০০১ সালের নির্বাচনে দুটি আসনে জয়ী ইসলামী ঐক্যজোটকে ২০০৮ সালের নির্বাচনে দুটি আসন ছেড়েছিল বিএনপি; কিন্তু জয়ী হতে পারেনি। দলটির চেয়ারম্যান আবদুল লতিফ নেজামী বলেছেন, আগামীতে তারা একক শক্তিতেই লড়বেন। আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোট গড়ার সম্ভাবনা নাকচ করেছেন তিনি।

২০০১ সালের নির্বাচনে দুটি আসনে জয়ী জমিয়তকেও ২০০৮ সালের নির্বাচনে দুটি আসন ছেড়েছিল বিএনপি। দলটি সম্প্রতি ভেঙেছে। একটি অংশের নেতৃত্বে রয়েছেন নূর হোসাইন কাসেমী। অন্য অংশের নেতৃত্বে রয়েছেন মুফতি মুহাম্মদ ওয়াক্কাস। দুই অংশই পাঁচটি করে আসন চাইছে। মুফতি ওয়াক্কাস বলেছেন, বিএনপি জোট নির্বাচনে অংশ নিলে তারাও ভোট করবেন।

খেলাফত মজলিসকে ২০০৮ সালে একটি আসনও ছাড়েনি বিএনপি। এবার সিলেট-২ ও ৩, পাবনা-১ সহ কয়েকটি আসনে এরই মধ্যে প্রার্থী ঘোষণা করেছে দলটি। হবিগঞ্জ-৪ আসনে প্রার্থী দলের মহাসচিব ড. আহমেদ আবদুল কাদের। তিনি জানান, তাদের প্রার্থীর তালিকা বিএনপিকে দেওয়া হবে শিগগির। তারপর আলোচনায় ঠিক হবে কোন কোন আসনে তারা নির্বাচন করবেন। ৩০ আসনে নির্বাচন করার মতো শক্তি-সামর্থ্য তাদের রয়েছে।

জাতীয় পার্টির জোটে থাকা বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশের দাবি ১৩ আসন। দলটির নেতা মাওলানা আতাউল্লাহ আমিন এ তথ্য জানিয়েছেন। দলটি দীর্ঘদিন কোনো জোটে ছিল না। ইসলামী আন্দোলন, খেলাফত আন্দোলন ও ইসলামী ঐক্যজোটকে নিয়ে জোট করার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সঙ্গে গেছে তারা। দলটির একজন নেতা বলেন, এমপি হতে হলে কোনো না কোনো জোটে যেতেই হতো। এ জোটের শরিক ইসলামী ফ্রন্ট চায় ১০ আসন। জাতীয় পার্টির জোটে থাকা ৩৫ দলের জোট ‘জাতীয় ইসলামী মহাজোটের’ দাবি ৩০ আসন।

আওয়ামী লীগের কাছে তরীকতের এবার দাবি ১৫ আসন। দলটির সাবেক মহাসচিব এম এ আউয়ালের নেতৃত্বে সম্প্রতি ১৫টি অনিবন্ধিত দল ‘ইসলামী গণতান্ত্রিক জোট’ নামে নতুন জোট গড়েছে। তারাও আওয়ামী লীগের সঙ্গে যাওয়ার চেষ্টা করছে। এম এ আউয়াল বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষে থাকবেন তারা। জাকের পার্টিও যেতে চায় আওয়ামী লীগের সঙ্গে। ইসলামিক ফ্রন্টও মহাজোটে ভিড়তে চায়। সূত্র : সমকাল

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত