প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

জামায়াতের সঙ্গ ত্যাগের দাবি ‘উপভোগ’ করছে বিএনপি

ডেস্ক রিপোর্ট :  সরকারবিরোধী বৃহত্তর ঐক্য গঠনে জামায়াতের সঙ্গ ত্যাগের যে দাবি উঠেছে তা রীতিমতো উপভোগ করছে বিএনপি। জামায়াতকে বাদ দিয়ে নয় বরং তাদের লাগাম টেনেই ঐক্য প্রক্রিয়ায় আশাবাদী বিএনপি নেতারা।

বৃহত্তর ঐক্য গড়তে সাবেক রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক ডা. বদরুদ্দোজা চৌধুরী এবং ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে গঠিত নতুন জোট যুক্তফ্রন্ট ২০ দলীয় জোটের শরিক জামায়াতে ইসলামী নিয়ে যে আপত্তি তুলেছে তাতে রাজনৈকিতভাবে লাভ দেখছে বিএনপি।

বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের এক নেতা মনে করেন, বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের অধিকাংশ নেতা স্ব স্ব অবস্থান থেকে সরব থাকলেও জামায়াতে ইসলামী কার্যত এতদিন নীরব ছিল। কিন্তু সরকারবিরোধী দলগুলো থেকে জামায়াতের সঙ্গ ত্যাগের জন্য যখন বিএনপির ওপর চাপ বাড়ছে তখন জামায়াত নেতারা ঘনিষ্ঠ হওয়ার চেষ্টা করছেন।

তিনি বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে চলতি মাসের ১২ তারিখ রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে যে প্রতীকী অনশন অনুষ্ঠিত হয় তাতে জামায়াত নেতা গোলাম পরোয়ার অংশ নেন এবং বক্তব্য রাখেন। নেত্রীর মুক্তির দাবিতে তারা কিন্তু এতদিন সক্রিয় ছিলেন না। বরং জামায়াতে ইসলামী নির্বাচন ইস্যুকে কেন্দ্র করে বিএনপির ওপর চাপ তৈরিতে ব্যস্ত ছিল। গত ৩০ জুলাই সিলেট সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে জামায়াত প্রার্থী দিয়ে বিএনপি জোটের প্রতি তারা যে ঔদ্ধত্য দেখিয়েছে তাতে মনে হতে পারে সরকারের সঙ্গে তাদের আঁতাত হয়েছে। শুধু তাই নয়, বিএনপি জোট যেখানে নিরপেক্ষ নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে আন্দোলন করছে সে সময় তারা বিভিন্নভাবে অর্ধশত আসন দাবি করে বিএনপির প্রতি চাপ তৈরিতে মগ্ন ছিল। সব মিলিয়ে সরকারবিরোধী দলগুলোর পক্ষ থেকে যে জামায়াতের সঙ্গ ত্যাগের যে দাবি এসেছে তাতে জামায়াতের লাগাম টানতে সুবিধা হলো।’

বিএনপির ‘ড্রাফট রাইটার’ হিসেবে পরিচিত এক নেতা বলেন, ‘বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটে জামায়াতের পৃষ্ঠপোষকতায় কয়েকটি দল রয়েছে। জামায়াত ইস্যুতে যখন চাপ আসে তখন তারা ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে। নিবন্ধন বাতিল হওয়ায় জামায়াত তাদের দলীয় প্রতীকে নির্বাচন করতে পারবে না। এই প্রেক্ষাপটে তাদের স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়া ছাড়া কোনো উপায় নেই। সেখানে যোগ্য প্রার্থী থাকলে বিএনপি কিছু আসনে ছাড় দিতে পারে।’

তিনি বলেন, ‘বৃহত্তর ঐক্য প্রক্রিয়ার সঙ্গে জামায়াতের কোনো সম্পর্ক নেই। ঐক্য হবে বিএনপির সঙ্গে, ২০ দলের সঙ্গে নয়। তাছাড়া যারা বৃহত্তর ঐক্য প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত তাদের সঙ্গে তো নীতিগত ঐক্য হয়ে গেছে। স্বৈরাচারী সরকারের বিরুদ্ধে আমাদের যে অবস্থান তাদেরও একই অবস্থান।’

বৃহত্তর ঐক্যের প্রস্তাবের শুরু দিকে বিএনপি-জামায়াত সম্পর্ক নিয়ে যে আপত্তি এসেছিল সে বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেছিলেন, ‘জামায়াত ছাড়ার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়ার সময় এসেছে বলে আমি মনে করি না। কারণ আমরা এখনো একটা জোটের মধ্যে আছি। তাদের সঙ্গে দলের সম্পর্ক বেশ পুরনো। তাই তাদের আলাদা চিন্তা করতে পারছি না আপাতত।’

স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ‘জামায়াত একটি রাজনৈতিক দল। আর আমরা বাদ দিলে ক্ষমতাসীনরা জামায়াতের সঙ্গে সম্পর্ক করবে না এর গ্যারান্টি কী? অতীত বলে রাজনৈতিক সখ্যতা জামায়াতের সঙ্গে আওয়ামী লীগেরই বেশি।’

বৃহত্তর ঐক্য প্রক্রিয়া নিয়ে চলতি মাসের ১৫ তারিখ জাতীয় প্রেস ক্লাবে যুক্তফ্রন্টের নেতারা আনুষ্ঠানিকভাবে লিখিত ঘোষণাপত্র পাঠ করেন। তাতেও স্বাধীনতাবিরোধী ব্যক্তি এবং দলের বা দিয়ে বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য গঠনের কথা বলা হয়। পরদিন ১৬ সেপ্টেম্বর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন। জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া নিয়ে যুক্তফ্রন্ট নেতাদের স্বাগত জানালেও তাদের ঘোষণাপত্র নিয়ে দলীয় ফোরামে আলোচনার কথা বলেন তিনি।

বিএনপি-জামায়াতের দীর্ঘ প্রায় ১৯ বছরের সম্পর্ক পর্যালোচনা করে দেখা যায় যে, জামায়াতের সমর্থন ছাড়া বিএনপি সরকার গঠন করতে পারেনি, আবার বিএনপির অনুকম্পা ছাড়া জামায়াতও রাজনীতিতে সুবিধা করে উঠতে পারে না।

বৃহত্তর ঐক্য গঠনে জামায়াত নিয়ে যে আপত্তি উঠেছে সে বিষয়ে বিএনপির অবস্থান জানতে চাইলে দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘এটা নিয়ে বিভিন্নভাবে শুনেছি। তবে তারা আমদের বলেনি, তাদের সঙ্গে আমাদের কথা হয়নি। এটা নিয়ে আমাদের দলীয় ফোরামেও কোনো আলোচনা হয়নি।’ সূত্র :জাগো নিউজ

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত