প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ছাত্র-শিক্ষক সম্পর্কটা একটি জটিল মিথষ্ক্রিয়া

কামরুল হাসান মামুন : ছাত্র-শিক্ষক সম্পর্কটা একটি জটিল মিথস্ক্রিয়া। এটা সবাই একই রকমভাবে হ্যান্ডেল করতে পারবে না। মানুষ যতরকম পথও ঠিক ততরকম। কোয়ান্টাম  মেকানিক্সের উপর শত শত বই লেখা হয়েছে। অধিকাংশ বইয়ের কনটেন্টই প্রায় একই কিন্তু উপস্থাপনা কি এক? ফাইনম্যানের উপস্থাপনা আর শংকরের বই অথবা গ্রিফিথসের বই  কোনোটার সাথে  কোনটা মিল  নেই অথচ তারা একই বিষয়ে লিখেছেন।

কোয়ান্টাম  মেকানিক্সের  কোন বই কার ভালোলাগে  সেটা  দেখলেও ভিন্নতা মিলে। একটা ক্লাসে যতজন ছাত্রছাত্রী ঠিক ততরকম তাদের ক্যাপাসিটি। একজন শিক্ষকের পক্ষে সবাইকে সবসময় ৎবধপয করা সম্ভব হয় না। কিন্তু শিক্ষক কি চেষ্টা করল কিনা  সেটাই বিবেচ্য বিষয়। আবার আমি আমার ক্ষুদ্র জীবনে  দেখেছি  যেই শিক্ষক যত বেশি  শেখাতে চায়  সেই শিক্ষক ব্যতিক্রম ব্যতীত যাপিত সময়ে কম জনপ্রিয় হয়। কারণ আমরা সবাই জানি শিক্ষকদের ষবপঃঁৎব মানে হলো একধরণের বল যা ছাত্রছাত্রীদের মাঝে জ্ঞানের ডিসপ্লেসমেন্ট ঘটাতে চায়।

কিন্তু মানুষের মধ্যে একটা প্রাকৃতিক টেন্ডেন্সি হলো ৎবষঁপঃধহপব ঃড় ষবধৎহ! এটা অনেকটা ফ্রিকশনের মত। এই ফ্রিকশনের এগেইনস্টেই শিক্ষকদের কাজ করতে হয়। একজন ভালো শিক্ষক যিনি মনপ্রাণ দিয়ে  শেখাতে  গেলে অনেক কষ্ট করেন। মানুষতো পূর্ণাঙ্গ নয়। সব মানুষের একটু লিমিটেশন থাকতেই পারে।  কেউ একটু বকাঝকা  বেশি করে। আমাদের এক শিক্ষক ছিলেন। নাম তার কাইয়ুম সরকার। ক্লাসে যাতাবলে বকাঝকা করতেন। উনার অনেক ক্লাসই ছিল কিছুটা ফাঁকিবাজি টাইপের। কিন্তু মাঝে মাঝে উনি কিছু ক্লাস নিতেন যার তুলনা হয় না।

জাস্ট সবংসবৎরুরহম! আমরা অনেকেই উনার ওরকম একটি ক্লাসের জন্য মুখিয়ে থাকতাম। উনাকে অনেকেই তখন পছন্দ করত না। কিন্তু আমরা বন্ধুবান্ধবরা এখন যখন একসাথে হই তখন উনাকে নিয়েই আলোচনা হয়। আবার এমনও হয়েছে  যেই শিক্ষকের ক্লাস সহজ মনে হয়েছে, নম্বর  বেশি  পেয়েছি  সেই শিক্ষকও  শেষ বিচারে বেশি ক্ষতি করেছে। তার কথা কেউ কিন্তু মনে রাখে না। এছাড়া একটা ক্লাস হলো ঃড়ি নড়ফু ংুংঃবস যথা ছাত্র আর শিক্ষক। ক্লাসের ছাত্র হওয়ার জন্যও একটা ঢ়ৎবৎবয়ঁরংরঃব থাকে। প্রত্যেকটি বিষয়ে পড়তে আসার আগে কিছু জিনিস আগে থেকে শিখে আসতে হয়।

যেমন চতুর্থ বর্ষের  কোয়ান্টাম  মেকানিক্স বুঝতে হলে একজনকে ভালো করে তৃতীয় বর্ষের  কোয়ান্টাম  মেকানিক্স জানতে হবে। আরো জানতে হবে লিনিয়ার এলজেব্রা। কারণ  কোয়ান্টাম  মেকানিক্সের মূল ফর্মালিজমটা ওখানেই শিখানো হয়। চতুর্থ বর্ষে এসে একটু অ্যাডভান্সড  লেভেলে শিখতে হয়। তাই দায়টা ছাত্রছাত্রীসহ একাধিক শিক্ষকের। অর্থাৎ এটা একটা কালেকটিভ দায়।

পরিচিতি: অধ্যাপক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়/ সম্পাদনা: মো.এনামুল হক এনা/ ফেসবুক থেকে

 

 

 

 

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত