প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

গুপ্তচর সন্দেহ করা ভারতীয় বিজ্ঞানীকে ৫০ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেয়ার আদেশ

রেজাউল আহসান : ২৪ বছর পর নিজের হারানো সম্মান ফিরে পেলেন গুপ্তচর সন্দেহে ধরে নেয়া ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থার বিজ্ঞানী, নাম্বি নারায়ণন।

অহেতুক হয়রানি ও মানহানি করার জন্য তাকে ৫০ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশও দিয়েছেন শীর্ষ আদালত।

পাশাপাশি ভুয়া মামলায় তাকে ফাঁসানোর জন্য কেরল পুলিশের কর্মকর্তাদের ভূমিকাও তদন্ত করে দেখা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধান বিচারপতি দীপক মিশ্রের নেতৃত্বাধীন ডিভিশন বেঞ্চ।

এখন সত্তরেরও বেশি বয়স নাম্বি নারায়ণনের। ২০১৫ সালেই কেরল পুলিশের কর্মকর্তাদের শাস্তির দাবি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন তিনি।

এর আগে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনেও গিয়েছিলেন তিনি। তাকে ১০ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণের নির্দেশও দিয়েছিল মানবাধিকার কমিশন।

কিন্তু সেই ক্ষতিপূরণ নির্দেশে আবার স্থগিতাদেশ দেন কেরল হাইকোর্ট। এরপরই তিনি শীর্ষ আদালতে যান। সেই মামলার প্রেক্ষিতেই এই রায় দিয়েছেন ভারতের শীর্ষ আদালত।

ঘটনার শুরু হয় ১৯৯৪ সালে। ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থার ক্রায়োজেনিক্স বিভাগের দায়িত্বে ছিলেন নাম্বি নারায়ণন। রকেটে তরল জ্বালানি ব্যবহারে তার গবেষণা সাতের দশকে ভারতীয় মহাকাশ গবেষণাকে বেশ কয়েক ধাপ এগিয়ে নিয়ে গিয়েছিল।

কেরল পুলিশ তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনে, টাকার লোভে গবেষণার গুরুত্বপূর্ণ নথি তিনি তুলে দিয়েছিলেন পাক মদতপুষ্ট মালদ্বীপের গোয়েন্দাদের হাতে। শুধু নাম্বি নায়ারণন নন, একই সঙ্গে আরও এক মহাকাশবিজ্ঞানীর বিরুদ্ধে এই মারাত্মক অভিযোগ এনেছিল কেরল পুলিশ। পরে সেই অভিযোগ থেকে মুক্ত হলেও প্রায় ৫০ দিন জেলবন্দি ছিলেন তিনি। এই সময়ে সীমাহীন মানসিক ও শারীরিক অত্যাচারের মধ্যে দিয়ে তাকে যেতে হয়েছিল বলে জানিয়েছিলেন তিনি।

১৯৯৬ সালেই তার বিরুদ্ধে আনা সমস্ত অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে জানিয়েছিল সিবিআই। একই সঙ্গে কেরল পুলিশের কর্মকর্তাদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছিলেন সিবিআই গোয়েন্দারা। ১৯৯৮ সালে নাম্বিকে এক লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল দেশের শীর্ষ আদালত।

যদিও কী কারণে তাকে ফাঁসানো হয়েছিল তা নিয়ে কোনও তদন্ত এখন পর্যন্ত হয়নি। তিন পুলিশ কর্মকর্তা সিবি ম্যাথু, কে কে জসুয়া এবং এস বিজয়নের নেতৃত্বেই তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হয়েছিল বলে জানা যায়।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত