প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

আতঙ্ককে হারিয়ে বাংলাদেশ কি হবে উৎসবের দেশ এই অক্টোবরে?

ডেস্ক রিপোর্ট  : বাঙালি জাতির জীবনে সবচেয়ে শোকের মাস হলো আগস্ট। এখন কি অক্টোবর মাস বাংলাদেশের জনগণের জীবনে আতঙ্কের মাস হিসেবে আবির্ভূত হচ্ছে? এবার অক্টোবর মাসকে ঘিরে অজানা আতঙ্কে কুঁকড়ে আছে মানুষ। আজ ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার রায়ের তারিখ ১০ অক্টোবর ঘোষণার পর আতঙ্কের জ্বর আরও বেড়েছে। অফিসে, চায়ের আড্ডায় সর্বত্রই প্রশ্ন কী হচ্ছে অক্টোবরে। ব্যবসায়ীরা অক্টোবর মাসে বড় কোনো ব্যবসায়িক পরিকল্পনা নিতে ভয় পাচ্ছেন। সাধারণ নাগরিকরা বিয়েসহ নানা অনুষ্ঠানের তারিখ নির্ধারণে অক্টোবর মাসটাকে এড়িয়ে যাচ্ছেন। অক্টোবর আতঙ্কে ভুগছে গোটা দেশ।

বাংলাদেশে অক্টোবর আতঙ্ক প্রথম শুরু হয় ২০০১ সালে। পহেলা অক্টোবর অনুষ্ঠিত হয় জাতীয় সংসদ নির্বাচন। মধ্য রাতেই বিএনপির বিপুল বিজয় নিশ্চিত হয়। এর সঙ্গে সঙ্গেই বিএনপি জামাত জোট সারাদেশে শুরু করে তাণ্ডব। আওয়ামী লীগের কর্মী সমর্থকদের বাড়ি বাড়ি হামলা করা হয়। সংখ্যালঘুদের বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেওয়া হয়। হত্যা, ধর্ষণ, লুণ্ঠনের এক নারকীয় যজ্ঞ চলে ১০ অক্টোবর পর্যন্ত। অক্টোবর মাস অধিকাংশ সংখ্যালঘু মানুষের কাছে এখনো আতঙ্কের মাস। শারদীয় দুর্গোৎসবের ঢাকের আনন্দের বদলে তাঁরা ২০০১ এর বিভীষিকাকে স্মরণ করে। ২০০৬ সালের অক্টোবরও- এদেশের মানুষের জন্য আতঙ্কের সময়। বিএনপি-জামাত জোট ২৮ অক্টোবর ক্ষমতায় ছাড়ার দিন ঢাকা শহরে তাণ্ডব চালায়।

আওয়ামী লীগ সরকারের মেয়াদ শেষ হচ্ছে এ বছরই। অক্টোবরেই নির্বাচন কমিশন নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করবে। মধ্য অক্টোবরে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে নির্বাচনকালীন সরকার গঠিত হওয়ার কথা। যুক্তফ্রন্ট ও জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়াও ঘোষণা করেছে যে, সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবিতে তাঁরা অক্টোবর থেকে মাঠে নামবে। এই প্রক্রিয়ায় বিএনপিকেও যুক্ত করার চেষ্টা চলবে। আন্দোলনের নামে কি আবার দেশে ২০১৩ এবং ২০১৪’র মতো সন্ত্রাস, আগুন দিয়ে মানুষ পোড়ানো হবে? এই প্রশ্ন সাধারণ মানুষের। বিএনপি নেতারা ঘোষণা দিয়েই বলছেন অক্টোবরের শুরু থেকেই তারা রাজপথ কাঁপিয়ে দেবে। বিএনপির তারেক পন্থীরা আগেই ঘোষণা দিয়ে রেখেছিলেন যে, ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলার মামলার রায়ের সঙ্গে সঙ্গেই তারা বেপরোয়া এবং আক্রমণাত্মক হয়ে উঠবে। একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা পূর্বাভাস দিয়েছে যে, বিএনপি-জামাত অক্টোবরে বড় ধরনের নাশকতার পরিকল্পনা করছে। কিছু বিশিষ্ট ব্যক্তির ওপর আক্রমণ হতে পারে, গোয়েন্দা সূত্রের বরাত দিয়ে এরকম খবরও প্রকাশিত হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কাছে জানতে চেয়েছে, বাংলাদেশে রাসায়নিক হামলা তাঁর প্রস্তুতি আমাদের আছে কিনা। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা আশঙ্কা করছেন, গ্রেনেড হামলা মামলা রায়ের আগে তারেক জিয়া একটা কিছু করার চেষ্টা করবে।

অক্টোবর শরৎকাল। অক্টোবরের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে শুরু হবে সার্বজনীন দুর্গোৎসব। তাই দেশের মানুষ এই আতঙ্ক থেকে মুক্তি চায়। উৎসবের রঙে রাঙাতে চায়। আতঙ্ককে হারিয়ে বাংলাদেশ কি হবে উৎসবের দেশ এই অক্টোবরে?

উৎস ঃ বাংলা ইনসাইডার

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত