প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

পেশা ছেড়ে সেলুন খুললেন চিকিৎসক!

হাসান : লাগাতার নিগ্রহ আর মেডিকো-লিগ্যাল ঝামেলার জেরে বিরক্ত বহু চিকিৎসক। তাদের মধ্যে অনেকেই ঘনিষ্ঠ মহলে বিকল্প পেশার কথা বলছেন বেশ কিছু দিন ধরে। চিকিৎসকদের ফেসবুক কিংবা হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপেও এ আলোচনা আজকাল নতুন নয়। এমনই পরিস্থিতিতে ভারতের নৈহাটির এক অর্থোপেডিক সার্জন বিকল্প পেশার পথে হাঁটলেন হেয়ার কাটিং সেলুনে ভর করে।

ভারতীয় গণমাধ্যম এই সময়ের প্রতিবেদনে বলা হয়, নৈহাটির বাসিন্দা ওই অস্থিরোগ বিশেষজ্ঞের নাম নীলাদ্রি বিশ্বাস। ফেসবুকে ওয়েস্ট বেঙ্গল ডক্টর্স ফোরামের পেজে হেয়ার কাটিং সেলুন খোলার পরিকল্পনার কথা তিনি জানান কয়েক দিন আগে।

তিনি বলেন, ‘বর্তমানে যে পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে যেতে হচ্ছে চিকিৎসক সমাজকে, তার কারণেই তিনি সেলুনের ব্যবসাকে বিকল্প পেশা হিসেবে গড়ে তুলতে আগ্রহী।’ তবে বেশিরভাগ চিকিৎসকই বিশ্বাস করেননি সে কথা। অনেকে আবার অবাকও হয়েছিলেন। বিস্মিত সতীর্থদের সব জল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশ্য সত্যিই নীলাদ্রি চালু করে দিলেন তার ইউনিসেক্স পার্লার।

গত রোববার বারাসাতে সেটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনও হয়। চিকিৎসক-নার্স ও চিকিৎসাকর্মী আর তাদের পরিবারের সদস্যদের জন্য ৩০ শতাংশ ডিসকাউন্টের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে সেলুনটিতে।

স্বাভাবিকভাবেই একজন চিকিৎসকের সেলুন খোলাকে কেন্দ্র করে সমালোচনা শুরু হয়েছে চিকিৎসক মহলে। ডাক্তারির পাশাপাশি চিকিৎসকদের অন্য ব্যবসা অথবা পেশায় ঢোকা অবশ্য খুব বিরল নয়। অনেকেই চিকিৎসক হয়েও অন্য পেশায় যুক্ত। কিন্তু ডাক্তারি করতে করতে পরিস্থিতির চাপে হঠাৎ সেলুন খোলার মতো অভিনব সিদ্ধান্ত নিতে যে সচরাচর দেখা যায় না, তা স্বীকার করেছেন চিকিৎসকরাই।

স্থানীয় এবং অর্থোপেডিক অ্যাসোসিয়েশনের বরাত দিয়ে এই সময় জানিয়েছে, এনআরএস থেকে এমবিবিএস এবং আরজি কর থেকে এমএস (অর্থোপেডিক্স) পাশ করার পর অস্থিরোগ বিশেষজ্ঞ হিসেবে বারাসত, হাবরা, বনগাঁয় খুব কম বয়সেই যথেষ্ট ভালো পসার জমিয়েছেন নীলাদ্রি। তার সঙ্গে কোনো নিগ্রহের ঘটনাও ঘটেনি। সে জন্যই তার পার্লার খোলায় বিস্মিত অনেকেই।

এ বিষয়ে ওই চিকিৎসক বলেন, ‘এর মধ্যে অবাক হওয়ার কিছু নেই। তবে হ্যাঁ, ডাক্তারি এখনো ছাড়িনি। কিন্তু সেলুনটা দাঁড়িয়ে গেলে হয়তো ছেড়েই দেব প্র্যাকটিস।’ যদিও সরকারিভাবে পার্লারের মালিক তিনি নিজেই, না তার পরিবারের কেউ, তা খোলসা করেননি তিনি।

নীলাদ্রি জানান, গত কয়েক বছর ধরে লাগাতার বেড়ে চলা চিকিৎসক নিগ্রহের ঘটনা তাকে বিচলিত করেছিল আগেই। ঠিক এক বছর আগে পশ্চিম মেদিনীপুরের এক সর্বজনশ্রদ্ধেয় চিকিৎসকের গায়ে রোগী-পরিজন বিষ্ঠা মাখানোর পরেই তিনি বিকল্প পেশার সন্ধান শুরু করেন।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত