প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

একান্ত সাক্ষাৎকারে পুরষ্কারপ্রাপ্ত সাহসী নারী অন্তরা
মনে হয়েছিল ছিনতাইকারীকে ধরতে হবে, পুলিশে দিতে হবে

সুশান্ত সাহা : কাল জেল থেকে মুক্তি পেয়েই যে আজ অপরাধ করতে পারে তাকে ছাড়লে সে আরো অপরাধ করবে। তাই তাকে পুলিশে দিয়েছি। কথাগুলো বলছিলেন সম্প্রতি এক ছিনতাইকারিকে ধাওয়া করে ধরে পুলিশে দেওয়া সাহসী নারী অন্তরা রহমান।

বৃহস্পতিবার একান্ত সাক্ষাতকারে তিনি বলেন, গত ১৭ আগষ্ট ছুটির দিন শুক্রবার। সন্ধ্যা ৬টার দিকে সায়েদাবাদ জনপথের রোডে রিকশাযোগে আত্মীয়ের বাসায় যাচ্ছিলেন তিনি। এ সময় এক ছিনতাইকারী তার হাতের ব্যাগটি নিয়ে দৌড় দেয়। তিনিও রিকশা থেকে নেমে ওই ছিনতাইকারির পিছু নেন। ধাওয়া করার পর ছিনতাইকারী একটি যাত্রীবাহী বাসে ওঠে পড়েন। পুরো বাসটি খালি ছিল। তিনি বাসে উঠে ড্রাইভারকে জিজ্ঞেস করেন কোন লোক উঠেছে কি না। উত্তর আসে না কেউ ওঠেনি, হয়তো পেছনের বাসে উঠেছে। কিন্তু পেছনের দিকে বসে থাকা একটি লোকের প্যান্ট দেখে তার সন্দেহ হয়। কাছে গিয়ে দেখেন সেই ছিনতাইকারী তার ব্যাগের ওপর বসে আছে আর মোবাইলটা প্যান্টের পকেটে রেখেছে। পরে তার শার্টের কলার ধরে দুই থাপ্পড় দেন। এসময় চিৎকার দিলেও চালক বাসটি চালিয়ে যাচ্ছিল। তবে আশপাশের কয়েকজন ছেলে এসে বাসটি থামায়।

নিজেকে বাঁচাতে ছিনতাইকারি হাতজোড় করে ক্ষমা চেয়ে বলে, আমাকে ছেড়ে দেন, আমি কালকেই কারাগার থেকে ছাড়া পেয়েছি। অন্তরার মনে হলো, কাল মুক্তি পেয়ে যে আজ যে অপরাধ করতে পারে, তাকে ছাড়লে সে আরো অপরাধ করবে। তখন সবার সহযোগিতায় ছিনতাইকারীকে যাত্রাবাড়ী থানায় নিয়ে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন অন্তুরা।

অন্তরার বাড়ি কুমিল্লার দেবিদ্বারের দুয়ারিয়া গ্রামে। তার বাবা সাগির আহমেদ দুবাই প্রবাসী। সিদ্ধেশ্বরী কলেজে পড়াশোনা করেছেন। পরিবারের সঙ্গে বর্তমানে বনশ্রী এলাকায় বসবাস করেন। তার এক ভাই ও এক বোন রয়েছে, মা গৃহিনী। পড়াশোনার পাশাপাশি একটি ল’ ফার্মে চাকরি করছেন অন্তুরা। ছোট বেলা থেকেই তার ইচ্ছা ছিল পুলিশে চাকরি করা।

ঘটনার পর পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়, তাকে পুরস্কারের জন্য মনোনীত করা হয়েছে। এসময় তিনি খুবই অবাক হন। পরে ডিএমপি সদর দপ্তরে গিয়ে যখন পুরস্কার হাতে পেয়ে আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন। অন্তরা বলেন, পুরষ্কারের জন্য ছিনতাইকারি ধরিনি। মনে হয়েছিল ছিনতাইকারীকে ধরতে হবে, তাকে পুলিশে দিতে হবে। ভাবিনি, সেটা এতদূর হবে। সবার ভালোবাসা দেখে আমার অনেক আনন্দ হচ্ছে। ছিনতাইকারীকে ধাওয়ার ঘটনায় বাসার লোকজন ভয় পেয়েছিল, যদি কোনো ক্ষতি হয়ে যেতো। তিনি বলেন, আমি এরকমই। ছোট বেলা থেকেই আমাকে কেউ টিজ করলে রুখে দাঁড়াতাম।

উল্লেখ্য, অন্তরা রহমানের সাহসিকতায় গত মঙ্গলবার ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের মাসিক অপরাধ সভায় পুরষ্কৃত করে পুলিশ। সভায় ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া অন্তরার হাতে নগদ ১০ হাজার টাকা তুলে দেন।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ