প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

নালিশ নয়, দেশের বাস্তব অবস্থা তুলে ধরতে ফখরুল জাতিসংঘে গেছেন : মওদুদ

মো. শিহাবুল ইসলাম : নালিশ নয় বাংলাদেশের মানুষের উপর যে অত্যাচার, নিপীড়ন, নির্যাতন হচ্ছে, মানবধিকার লঙ্ঘন হচ্ছে সেই বাস্তব অবস্থা তুলে ধরার জন্য বিএনপি মহাসচিব (মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর) জাতিসংঘে গেছেন বলে জানিয়েছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ।

জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে শুক্রবার দুপুরে ‘গণগ্রেফতার ও বিচার বিভাগের উপর সরকারের হস্তক্ষেপ বন্ধ এবং নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকার গঠনের দাবিতে এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। সভাটির আয়োজন করে বাংলাদেশ ইয়ূথ ফোরাম।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ব্যারিস্টার মওদুদ বলেন, আমাদের মহাসচিব নিজ থেকে জাতিসংঘে জাননি, তাদের আমন্ত্রণে গেছেন। তিনি দাওয়াতে গেছেন। এখানে বলে বসলেন ওখানে নালিশ করতে গেছেন! (গতকাল আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এ কথা বলেছিলেন) আমাদের মহাসচিব নালিশ করতে জাননাই, বাংলাদেশের বাস্তব অবস্থা তুলে ধরার জন্য গেছেন। দেশের মানুষ কি অবস্থায় বিরাজ করছে এখন এবং বিরোধী দলে ও সাধারণ মানুষের উপর যে অত্যাচার, নিপিড়ন, নির্যাতন হচ্ছে, মানবধিকার যে লঙ্ঘন হচ্ছে সেই বাস্তব অবস্থা তুলে ধরার জন্য গেছেন। জাতীয় নির্বাচনের ৯০ দিন বাকি আছে, এই কথাটা বলাতে যাওয়া নালিশ নয়। এতে তারা (আওয়ামী লীগ) আতঙ্কিত, শঙ্কিত হয়েছেন। তারা বিব্রত বোধ করছেন, যে কি করে জাতিসংঘের মহাসচিব বিএনপিকে নিমন্ত্রণ করে আলোচনার দাওয়াত দিয়েছেন। এতে তারা ঈর্ষান্বিত হয়েছেন।

নির্বাচনকালীন সরকারের প্রসঙ্গে এই আইনজীবী বলেন, নির্বাচনকালীন সরকার বলে আমাদের সংবিধানে কোনো ব্যবস্থা নাই। এটা প্রতারণা, জনগণকে বিভ্রান্ত করা জন্য এ কথা বলা হচ্ছে। সংবিধানের কোথাও লেখা নেই যে নির্বাচনকালীন কোনো সরকার হবে। জনগণকে ধোকা দেওয়ার জন্য এই প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

যুক্তফ্রন্ট, বিএনপিসহ যে জাতীয় ঐক্য গঠন করার একটি প্রক্রিয়া চলছে সে সম্পর্কে সাবেক এই আইনমন্ত্রী বলেন, সরকার চাইবে এই ঐক্যটা যেনো না হয়। ঐক্য হবে, যারা গণতন্ত্রকে, আইনের শাসন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, ভোটের অধিকার ফিরিয়ে আনতে চান সে সকল রাজনৈতিক দল নিয়ে ঐক্য হবে। সকলেই একমত যে আগামী নির্বাচন একটি সুষ্ঠ, অবাধ, নিরপেক্ষ হতে হবে। সুতরাং বলবো এই ঐক্য হয়ে গেছে।

নিরপেক্ষ নির্বাচন করতে হলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে পদত্যাগ করতে হবে। পদত্যাগ না করলে একটি নির্দলীয় সরকার গঠন সম্ভব হবে না যোগ করেন মওদুদ।

ইভিএম নিয়ে বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরামের এই সদস্য বলেন, ইভিএম চক্রান্ত বন্ধ করতে হবে, এটা করা হচ্ছে লুটপাট করার জন্য। চার হাজার কোটি টাকার প্রস্তাব, এটা কোনো দিন হবে না। মেশিন আসবে, কিছু আসবে, কিছু আসবে না, যেগুলো আসবে সেগুলো ব্যবহার করা হবে না, মাঝে থেকে যারা এর সাথে জড়িত তারা কয়েকশো কোটি টাকা চুরি করবেন। টাকা চুরি করা জন্যই ইভিএম পদ্ধতির ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, আয়োজক সংগঠনের সভাপতি মুহাম্মদ সাইদুর রহমান, উপদেষ্টা সাইদ আহমেদ আসলাম প্রমুখ।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত