প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

সুপ্রিমকোর্টে বাবা-মেয়ের মামলা নিয়ে পাকিস্তান জুড়ে তোলপাড়

শেখ নাঈমা জাবীন: পাকিস্তানে তাহির ফাতিমা নামের এক তরুণী তার বাবার নাম ও পদবি পরিবর্তনের জন্য সুপ্রিম কোর্টে মামলা করায় বিষয়টি নিয়ে দেশের মিডিয়া জগতে ব্যাপক আলোচনার সূত্রপাত ঘটিয়েছে।

২২ বছরের এই তরুণী তার যাবতীয় কাগজপত্র এবং সার্টিফিকেট থেকে তার বাবার নাম সরিয়ে ফেলার জন্য মামলা করে। ফাতিমা মামলার আর্জিতে উল্লেখ করেন, যে বাবা তার সন্তানকে ছোটবেলায় কিংবা জন্মের আগে পরিত্যাগ করে তাকে বাবা বলে ডাকা সঙ্গত কি না। তিনি আরেকটি গুরুতর প্রশ্ন করেন, এ ক্ষেত্রে বাবা-মায়ের পরিচয়ে পরিচিত না হয়ে দেশের পরিচয়ে কেন পরিচিত হওয়া যাবে না?

এই মামলার শেষ শুনানিতে সুপ্রিমকোর্টের তিন বিচারক আইন সচিব, পাসপোর্ট বিভাগের প্রধানসহ ১০-১২টি সংস্থাকে ফাতিমার প্রকৃত বাবার পরিচয় উদ্ঘাটন এবং আদালতে হাজির হওয়ার জন্য তলব করেন।
পরে আজ বৃহস্পতিবার পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্টে প্রধান বিচারপতি আদালতে ফাতিমার বাবা জানান, তিনি তার মেয়েকে পরিত্যাগ করেননি। ফাতেমার মায়ের আপত্তির কারণেই তিনি মেয়ের সাথে যোগাযোগ রাখতে পারেননি। আদালতের প্রশ্নে ফাতেমার বাবা জানান, ১৬ বছর মেয়ের সাথে তার সাক্ষাৎ হয়নি।
প্রধান বিচারপতি বলেন, বাবা হিসেবে আপনার লজ্জা পাওয়া উচিত। এই ১৬ বছরে মেয়ের পেছনে যা খরচ হতো চুরি করে হলেও সেই টাকা আপনাকে পরিশোধ করতে হবে।
জবাবে ফাতিমার বাবা আদালতকে জানান, আমি গরিব মানুষ। এই সামর্থ্য আমার নেই।
প্রধান বিচারপতি বলেন, জরিমানা দিতে না পারলে আপনার বিরুদ্ধে সিভিল আইনে মামলা হবে এবং আপনাকে জেলে যেতে হবে । এ সময় কয়েকটি গোয়েন্দা সংস্থাকে ফাতিমার বাবার আর্থিক অবস্থা যাচাইয়ের নির্দেশ দেন আদালত।
প্রধান বিচারপতি আরো বলেন, আপনার মেয়ে আপনার পদবি বাদ দিয়ে তার নাম তাহির ফাতিমা বিনতে পাকিস্তান রাখতে চায়। পাকিস্তান একইসাথে আমাদের বাবা এবং মা। তবে প্রধান বিচারপতি এ কথাও উল্লেখ করেন যে, ইসলামি আইন অনুযায়ী বাবাব নাম বদল করা যায় না।
বিচারপতি ফাতিমাকে বলেন, ‘তুমি যে তোমার জন্ম সনদে নামের শেষে ‘বিনতে পাকিস্তান’ যুক্ত করেছ তা পরিবর্তন করতে হবে।’ শুনানিকালে ফাতিমা বলেন, তার ম্যাট্রিক পরীক্ষার সময় তিনি তার বাবার কাছে কিছু ডকুমেন্ট চেয়েছিলেন।

তখন তার বাবা তাকে বলেন, তোমাকে কিছু ডকুমেন্ট দিতে পারি কিন্তু তার বিনিময়ে আমাকে তুমি লিখিত দিতে হবে যে তোমার মা চরিত্রহীন এবং চরিত্রহীন বলেই তুমি তার সাথে থাকতে চাও না। ফাতেমা বলেন, তার মা যে এককভাবে তাকে বড় করেছে- সে এক মহাযুদ্ধ।
ফাতিমা বলেন, সন্তানকে যে লালন-পালনের দায়িত্ব নেয় সন্তানের উচিত তার নামেই পরিচিত হওয়ার সুযোগ পাওয়া।
আজ আবারও ফাতিমা অদালতকে বলেন, তার সমস্ত কাগজপত্র থেকে তার বাবার নাম সরিয়ে ফেলার আবেদন করলে আদালত ১০ দিনের জন্য শুনানি মুলতবি ঘোষণা করেন। ডন

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত