প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

বিএনপির প্রতি দুর্বল হয়ে বিকল্প শক্তি হওয়া যায় না

বিভুরঞ্জন সরকার : আমাদের রাজনীতির বর্তমান অবস্থা নিয়ে হাহুতাশ করতে দেখা যায় অনেককেই। এভাবে দেশ চলতে পারে না, এভাবে চলতে থাকলে সবকিছু একসময় ভেঙে পড়বে এমন আশঙ্কার কথাও কারও কারও মুখ থেকে বের হয়। কিন্তু রাজনীতিকে সঠিক পথে ফিরিয়ে আনতে এবং গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে কিংবা প্রাপ্ত সুযোগ-সুবিধাগুলো সংহত করতে কী কী করা যায় তা নিয়ে ভালো কোনও আলোচনা ও তর্ক শোনা যায় না। আমরা সমস্যা নিয়ে জাবর কাটতে পছন্দ করি কিন্তু সমাধানের উপায় ভাবতে একটু সময় দিতে পারি না।

আমরা তিলকে যেমন তাল করতে পারদর্শী, তেমনি তালকেও দক্ষতার সঙ্গে তিল করতে পারি। কিন্তু এই দুটো জিনিসই ভালো নয়। তিলকে তাল বানিয়ে আমরা যেমন সমস্যা তৈরি করি, তেমনি তালকে তিল বানিয়েও সমস্যা তৈরি করি। রাজনীতিতে কিছু গুরুত্বহীন ব্যক্তির ভূমিকাকে আমাদের কিছু গণমাধ্যম উদ্দেশ্যমূলকভাবে সামনে এনে এমন সব খবর রচনা করেন, যা প্রায়ই একশ্রেণির পাঠকের মনে অহেতুক আগ্রহ এবং কৌতূহল তৈরি করে। অথচ এই মানুষগুলোর রাজনীতিতে দেওয়ার আর কিছু অবশিষ্ট নেই। ড. কামাল হোসেন, ডা. বদরুদ্দোজা, আ স ম আব্দুর রব, মাহমুদুর রহমান মান্নার মতো নামগুলো যত ওজনই বহন করুক না কেন, রাজনীতিতে তারা একেবারেই ‘সর্বহারা’। তাদের সবার অতীত অবদানের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা প্রকাশ করেই এটা বলা যায় যে তাদের সুবিধাবাদী অবস্থান তাদের জন্য রাজনীতি থেকে জায়গা কেড়ে নিয়েছে।

এখনও তারা যুক্তফ্রন্ট বা নতুন রাজনৈতিক শক্তির নামে রাজনীতির মাঠে নেমে কিছু মানুষের মনে কৌতূহল তৈরি করতে পারছেন বলে তাদের নিয়ে কিছু অবুঝ গণমাধ্যম নিয়মিত খবর ছাপছেন। কিন্তু এটা আমি জোর দিয়ে বলতে পারি, রাজনীতিতে ভালো কিছু দেওয়ার সামান্য সক্ষমতাও আর তাদের নেই। এই লোকগুলো তাদের একসময়ের সুনাম ব্যবহার করে ভাগ্যবাণিজ্য ছাড়া আর কিছুই করেননি। কিছু মিডিয়া তাদের স্বার্থ পূরণের হাতিয়ার হিসেবে তাদের ব্যবহার করেন, তারা ব্যবহৃত হন। তারপর আবার আড়ালে গিয়ে লুকান। তারা ভালো কথা বলেন, কিন্তু ভালো কাজ করেন কি?

দেশে এখন নির্বাচন আসছে। নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু করার জন্য আমাদের দেশের একশ্রেণির মানুষের হাহাকার ও কাকুতি দেখে মনে হয়, মানুষ যদি ভোট দিতে পারে অবাধে, যাকে খুশি তাকে এবং তাতে যদি বিএনপি-জামায়াতকেও ভোট দেয়, তাতেও ক্ষতি নেই। কামাল হোসেনদের উদ্দেশ্যের সততা নিয়ে এখানেই সমস্যা। বাংলাদেশের ভিত্তি হলো মুক্তিযুদ্ধ। মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে কোনও ধরনের আপস বাঙালি করতে পারবে না। একাত্তরের পেছনে যাওয়ার সুযোগ আমাদের নেই। জাতির বৃহত্তর স্বার্থে আমরা প্রয়োজনে গণতন্ত্রকে সাময়িক স্থগিতও করতে পারি। তাতে বড় কোনও ক্ষতি হয় না। একাত্তরে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর না করায় আমরা তো গণতন্ত্রকে সাময়িক স্থগিত করে অস্ত্র হাতে তুলে নিয়েছিলাম।

অথচ আজকাল ভোট এবং গণতন্ত্র নিয়ে আমাদের একশ্রেণির শিক্ষিত মানুষের এমন বিচলিত ভাব দেখা যায়, যাতে মনে হয়, আমাদের দেশে ভোট ব্যবস্থা শুদ্ধ হলেই বুঝি আর সুশাসনের কোনও সমস্যা থাকবে না। স্বাধীনতার স্বপ্ন পূরণের একমাত্র বাধা অবাধ গণতন্ত্র না থাকা! কিন্তু ১৯৯১ থেকে ২০০১ সালের দলনিরপেক্ষ সরকারের অধীনে ‘ভালো’ নির্বাচনের ফলাফল কী দাঁড়িয়েছিল? রাজনীতির গুণগত পরিবর্তন কি কিছু হয়েছিল? নাকি ধারাবাহিকভাবে সংকট কেবল বেড়েছে?

দেশে আওয়ামী লীগ এবং বিএনপিকে এক পাল্লায় মাপার যে একটি মারাত্মক ভ্রান্তি সেটা আমাদের অনেক পণ্ডিত বুঝতে চান না, বোঝেন না। দেশের রাজনৈতিক সংকটের জন্য সমান দায়ী করার একটি সহজ প্রবণতা অনেকের মধ্যেই দেখতে পাওয়া যায়। বিএনপি এবং আওয়ামী লীগকে রাজনৈতিক বিশ্লেষণের এক ছকে ফেলে ‘দুই নেত্রী’ শব্দযুগল আমাদের মগজে জায়গা করছে ভুল বিশ্লেষণ!

বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে পরিবর্তনের সৃষ্টি করেছে রাজনীতিক, রাজনৈতিক দল ও অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্রচর্চা, রাজনৈতিক দলের ওপর গবেষণা এ জন্য অত্যন্ত জরুরি। ১৯৭৫-৯০ সময়ে রাষ্ট্রের পৃষ্ঠপোষকতায় সামরিক শাসনামলে দল গঠন এবং ১৯৯১ থেকে বর্তমান পর্যন্ত দুই দলীয় প্রাধান্যে দ্বন্দ্বমূলক রাজনৈতিক পরিসর নিয়ে আমাদের গভীর ভাবনাচিন্তার প্রয়োজন আছে। প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর বৈশিষ্ট্য, অভ্যন্তরীণ দলীয় গণতন্ত্রচর্চা, স্থানীয় পর্যায়ে দলীয় রাজনীতি এবং বিভিন্ন মানদণ্ডের ভিত্তিতে গণতন্ত্রচর্চার মাত্রা যাচাইকরণের অভাব দেশে রয়েছে। গণতন্ত্রচর্চার ক্ষেত্রে রাজনৈতিক দলের অপরিহার্য ভূমিকা আর অত্যাবশ্যকতা সর্বজনবিদিত; দেশের রাজনৈতিক ব্যবস্থা ও বহুমাত্রিক প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক দলের সংশ্লিষ্টতা এবং দলীয় কর্মকাণ্ড নাগরিক জীবনকে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রভাবিত করছে। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার চালিকাশক্তি হচ্ছে রাজনৈতিক দল ও রাজনৈতিক ক্ষমতার মূল হাতিয়ার। পশ্চিমা উদারনৈতিক গণতন্ত্রে দল গঠনের ক্ষেত্র ও উদ্ভবের প্রেক্ষাপট আর বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশের রাজনৈতিক দলের ইতিহাস, গঠন ও বিকাশ ভিন্ন। বিশ্বব্যাপী রাজনৈতিক দলের তাত্ত্বিক ভূমিকা পালনের ক্ষেত্রে সমরূপতা রয়েছে। যেমন–রাজনৈতিক সামাজিকীকরণ, স্বার্থজ্ঞাপন, স্বার্থসংরক্ষণ আর রাজনৈতিক যোগাযোগ, যাকে পলিটিক্যাল ইনপুট কাজ বলা হয়। বস্তুত, গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা নির্মাণের জন্য আবশ্যক কর্ম সম্পাদন নির্ভর করে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রকৃতি আর দলীয় ব্যবস্থার কার্যকারিতার ওপর। এ ক্ষেত্রে দলের প্রাতিষ্ঠানিকায়নের ওপর গুরুত্ব আরোপ এবং সক্রিয় দল-ব্যবস্থার সঙ্গে রাষ্ট্রের রাজনৈতিক ব্যবস্থার ইতিবাচক পারস্পরিক সম্পর্ক পরিমাপ করা। আসলে রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক দল, নির্বাচকমণ্ডলীর সঙ্গে দল, সরকার আর বিরোধী দলে রাজনৈতিক দলের যে ভূমিকা, তা পালনে রাজনৈতিক দলের সংগঠন থেকে প্রতিষ্ঠানে পরিণত হওয়ার প্রক্রিয়াটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ, যার সফল পরিণতি হচ্ছে রাজনৈতিক দলের প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ। দলের আদর্শ ও কর্মসূচি বাস্তবায়নের মাত্রা, দলীয় নেতৃত্ব, কাঠামো, দলীয় স্বাতন্ত্র্য, সংহতি, স্বকীয়তা, সাংগঠনিক দৃঢ়তা, দল ও জনগণ, দল ও সুশীল সমাজ সম্পর্ক এবং গঠনতন্ত্র মোতাবেক কর্ম সম্পাদনের পর্যালোচনা ও বিশ্লেষণ করে অগ্রগমনের ধারা আমরা অনুসরণ করছি না। ফলে দেখা দিচ্ছে ভ্রান্তি। রাজনীতির নামে দলের নামে তৈরি হচ্ছে দুর্বৃত্ত কাঠামো।

এ দেশে সংসদীয় কাঠামো চালু থাকলেও এর সুষ্ঠু কার্যকারিতা না থাকায় সরকারের কর্তৃত্ববাদী মনোভাব এবং বিরোধী দলের বিরোধিতার খাতিরে বিরোধিতাসহ নেতিবাচক ভূমিকা অব্যাহত রয়ে গেছে। এভাবে জন-ইস্যুর চেয়ে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলের স্বার্থ উদ্ধারে অব্যাহত-লাগাতার হরতাল হয় এবং এসব জনবিচ্ছিন্ন নেতিবাচক কর্মসূচি ক্রমান্বয়ে সহিংস ও নৈরাজ্যময় হয়ে যায়। জনজীবন ও তার নিরাপত্তা চরম হুমকিতে পড়ে। ক্রমাগত সহিংসতা, সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি কখনো সুষ্ঠু দলীয় ব্যবস্থা নির্দেশ করে না। রাজনীতি ও রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় ব্যবসায়িক স্বার্থের প্রাধান্য অব্যাহত রয়েছে এবং রাজনীতির বাণিজ্যকরণ ঘটছে। সেই সঙ্গে আছে অস্বচ্ছ রাজনৈতিক অর্থায়ন। সাম্প্রতিককালে উন্নয়নশীল বিশ্বে দলীয় জবাবদিহির জন্য রাজনৈতিক দলকে আইনি কাঠামোয় আনা এবং কাঠামোগত সংস্কারের ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে বাংলাদেশে রাজনৈতিক দল ও কর্মকাণ্ডকে আইনি প্রক্রিয়ায় এনে দায়িত্বশীলতা আনয়নের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এ জন্য গণপ্রতিনিধিত্বশীল আদেশ তথা আরপিওতে সংস্কারসাধন এক উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ। এতে রয়েছে নির্বাচনে ইচ্ছুক রাজনৈতিক দলের নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বাধ্যতামূলক নিবন্ধন, গণতন্ত্রসম্মত গঠনতন্ত্র রচনা, অর্থায়ন ও নির্বাচনি ব্যয়ের ক্ষেত্রে দল ও সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর আবশ্যিক তথ্য প্রকাশ, দলীয় আয়-ব্যয়ের তথ্য উন্মুক্তকরণ ইত্যাদি। তবে অদ্যাবধি গণপ্রতিনিধিত্বশীল আদেশের যথাযথ অনুসরণ ও সুষ্ঠু প্রয়োগ দৃশ্যমান হয়নি। দল নিবন্ধন প্রক্রিয়া থেকেও মিথ্যাচার দূর হয়নি।

বাংলাদেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর গঠনতন্ত্র অনুসারে দলীয় কাঠামোর বিন্যাস, নেতৃত্ব নির্বাচন, দলীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া, নির্বাচনে দল ও প্রার্থীর অর্থায়ন, নির্বাচনি মনোনয়নদান, দলে নারী ও সংখ্যালঘুদের প্রতিনিধিত্ব, বাৎসরিক আয়-ব্যয়, হিসাব দাখিল ইত্যাদি ক্ষেত্রে প্রচলিত আরপিও বিধিবিধান ও প্রকৃত চর্চার ক্ষেত্রে বিস্তর পার্থক্য এবং অসঙ্গতি যথাযথ ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ, তত্ত্ব ও তথ্যের মাধ্যমে সুচারুরূপে উদ্ঘাটন করা, প্রাইমারি উৎস থেকে তথ্য পাওয়ার সীমাবদ্ধতা রয়ে গেছে। যখন শুধু রাজনৈতিক ক্ষমতা আর্থসামাজিক ও রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার মূল নিয়ামক হয়ে ওঠে, তখন এ ক্ষমতার নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিদ্বন্দ্বিতা হিংসাত্মক ও সহিংস না হয়ে পারে না। বাংলাদেশে দলীয় ব্যবস্থার বিকাশ এবং রাজনৈতিক দলে গণতন্ত্রায়ণের চ্যালেঞ্জগুলো গভীরভাবে বিশ্লেষিত হওয়ার প্রয়োজন রয়েছে। ঘাটতিটা জানা না থাকলে ঘাটতি দূর করার চেষ্টা হবে কীভাবে?

যদিও এ দেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনগুলো দলীয় নেতৃত্বেই হয়, তথাপি দলীয় কাঠামোতে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় ও প্রাতিষ্ঠানিকায়নে এক ধরনের অবক্ষয় বিরাজমান। প্রধান দলগুলোর মূল লক্ষ্য রাষ্ট্রক্ষমতা দখল হওয়ায় সুবিধা প্রদানের বিনিময়ে নিজ নিজ সমর্থনের ভিত্তি সম্প্রসারণ তাদের মতাদর্শ ও নীতির সঙ্গে আপসকামিতা প্রকাশ করে। রাষ্ট্রীয় সম্পদের ওপর নিয়ন্ত্রণের প্রতিদ্বন্দ্বিতা ‘মক্কেলধর্মী’ সম্পর্ক, দুর্নীতি ও সহিংসতার প্রসার ঘটায়। ফলে রাজনৈতিক দলের ঐতিহ্যিক কর্মকাণ্ড পালন ক্ষতিগ্রস্ত হতে থাকে। গণতন্ত্রায়ণে উত্তরণের জন্য রাজনৈতিক দলগুলোকে অগণতান্ত্রিক আচরণ পরিহার, নিজ পক্ষ ও প্রতিদ্বন্দ্বীর বিপক্ষে রাষ্ট্রীয় কর্তৃপক্ষ ও সম্পদের ব্যবহার বন্ধকরণ, জাতীয় সংসদ বয়কটের সংস্কৃতির অবসান, অন্ত ও আন্তদলীয় দ্বন্দ্ব নিরসনে সহিংসতা পরিত্যাগ, দলীয় সংগঠনকে সরকার থেকে পৃথকীকরণ, ব্যবসায়িক স্বার্থের পরিবর্তে সংখ্যাগরিষ্ঠ সামাজিক গোষ্ঠীসহ নারী ও প্রান্তিক গোষ্ঠীর জন্য বিস্তারিত কার্যক্রম গ্রহণ এবং দলে অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্রচর্চার ওপর বিশেষ গুরুত্ব প্রতিষ্ঠার বাধ্যবাধকতা না থাকলে ভালোর দিকে পরিবর্তন হবে না।

আজ যারা আওয়ামী লীগ বা শেখ হাসিনাকে ক্ষমতা থেকে সরানোটাকেই প্রধান কর্তব্যজ্ঞান করছেন, আগামীকাল তাদের জন্য অপেক্ষা করছে গভীর হতাশা। মৌলিক কাঠামোতে পরিবর্তনের দিকে আগ্রহ না দেখিয়ে ব্যক্তিকে প্রধান ধরে হিসাব করলে তা মিলবে না। তারপরও ব্যক্তিতে ব্যক্তিতে যে তফাৎ আছে সেটা বুঝতে না চাওয়াও আরেক চাতুরি। হাসিনার বিকল্প খালেদা হতে পারেন না। এমনকি কামাল, বদরুদ্দোজাও নন। তাই দেশে রাষ্ট্রক্ষমতার পরিবর্তন আনতে হলে আগে দরকার হবে একটি বিকল্প নেতৃত্ব তৈরি করা। সেই নেতৃত্ব আবার দেশের মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য ও বিশ্বাসযোগ্য হতে হবে। এখন যারা রাজনীতিতে তৃতীয় শক্তি হিসেবে মাথা তুলতে চাইছেন, তারা সফল হবেন না এই কারণে যে প্রচলিত দুই পক্ষের মধ্যে একপক্ষের প্রতি তাদের প্রকাশ্য দুর্বলতা মানুষের কাছে পরিষ্কার হয়েই ধরা পড়ছে। তারা যদি হাসিনা-খালেদা দুইজনকেই দূরে রাখতে চাইতেন তাহলে নিজেদের গুরুত্ব বাড়াতে পারতেন। কিন্তু এখন আর সে চেষ্টাও সফল হবে না।-বাংলা ট্রিবিউন

লেখক : যুগ্ম গ্রুপ সম্পাদক, আমাদের নতুন সময়।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ