প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

মমতার প্রত্যাশা : কিন্তু প্রত্যাশায় ‘মমতা’ কই?

নজরুল কবীর : পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, ‘বাংলাদেশ ভালো থাকলে পশ্চিমবঙ্গও ভালো থাকবে।’ সোমবার (১০ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ ও ভারতের দুটি প্রকল্পের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে ভিডিও কনফারেন্সে কলকাতা থেকে যুক্ত হন। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তাকে এই দেশে আমন্ত্রণের জবাবে তিনি আরও বলেন, ‘আপনি জিতুন, আবার আসব।’ মমতা ব্যানার্জির রাজনীতির সঙ্গে বাংলাদেশের অনেক মানুষেরই ভিন্নমত রয়েছে। কিন্তু তার সহজ-সরল, চলন-বলনের জন্য তাকে পছন্দ করার মানুষের সংখ্যাও নেহাত কম নয়! তবে এবার মমতার উচ্চারিত কথার মাঝে সত্যতা থাকলেও অতীতের অভিজ্ঞতার কারণে বাংলাদেশের সচেতন মানুষের কাছে তার এ বক্তব্য ‘কথার কথা’ হিসেবে বিবেচিত হবে। কারণ, এই মমতাই আসবেন বলে আসেননি এই দেশে। ভারতের সে সময়ের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং বাংলাদেশ সফরে আসার সময় তারও আসার কথা ছিল। কথা ছিল, তিস্তায় বাংলাদেশের ন্যায্য হিস্যা পাওয়ার। কিন্তু শুধু মমতা রাজি নন বলেই তা আটকে যায়। ‘তিস্তা চুক্তি’ সে-ই যে গ্যাঁড়াকলে আটকাল, সেই গিট আর ছুটল না!

মনমোহন গেলেন, মোদী এলেন, কিন্তু তিস্তার পানির ন্যায্য হিস্যা এল না। মমতা বললেন, বাংলাদেশ ভালো থাকলে পশ্চিমবঙ্গ ভালো থাকে। কিন্তু তিস্তা পাড়ের মানুষই জানে ভালো থাকা কারে বলে! তিস্তার দু’পাড়ে মরুভূমির মতো খা খা করে যখন বিস্তীর্ণ ভূমি, তখন সেখানকার ভূমিপুত্র-কন্যারা কেমন থাকে তা দেখতে অবশ্য ‘মমতা দিদি’ সে সময় আমন্ত্রণ জানাতেই পারেন আমাদের প্রধানমন্ত্রী! আরও একটি কথা মনে হলো, বাংলাদেশে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে মহাজোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর ভারতের ‘সেভেন সিস্টার’ এর বিচ্ছিন্নতাবাদীদের এই দেশে অবৈধভাবে বসবাসের রাস্তা বন্ধ হয়েছে! সমূলে উৎপাটিত হয়েছে ‘উলফা’র আস্তানা। এমনকি অনুপ চেটিয়াও হস্তান্তর হয়েছে। অনেকটাই ‘শান্তি’তে আছে কেন্দ্রীয় সরকার ‘সেভেন সিস্টার’ এর চাপ থেকে। ‘বাংলাদেশে যখন দেয়, অকৃপণভাবেই দেয়।’এ উচ্চারণ খোদ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার। আর তার প্রমাণ দৃশ্যমান। কিন্তু মমতা দিদির কথা আর কর্মের ফারাকটা দেখুন। বাংলাদেশ জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে লড়ছে। সাধারণ সচেতন মানুষ আর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চাপে জেএমবি, হরকাতুল জেহাদের মতো জঙ্গি সংগঠন যখন প্রচ- চাপে, তখন এদের আশ্রয় হয়ে উঠছে পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ, বর্ধমানের মতো সীমান্তবর্তী জেলাগুলো। আর তৃণমূল কংগ্রেসের প্রশ্রয়ে মোহাম্মদ ইমরানের মতো সদস্যরা এই জেএমবির নতুন ভরসাস্থল হয়ে উঠছে।

সম্প্রতি বাংলাদেশের গোয়েন্দা সংস্থার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বাংলাদেশে থেকে পালিয় যাওয়া কুখ্যাত জঙ্গি মিজানুর রহমান ওরফে ‘বোমা মিজান’ ভারতের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দাদের বলেছে, সে পশ্চিমবঙ্গে কোথায়, কাদের আশ্রয়ে প্রথমে ছিল। এমনকি কোনোভাবেই যেন তাকে বাংলাদেশ সরকারের কাছে দেওয়া না হয়, সে কথাও বলেছে। কারণ, বাংলাদেশ জঙ্গিদের ব্যাপার কঠোর, অনমনীয়! এখন কথা হলো, যে বাংলাদেশ জঙ্গি নিয়ে ভালো থাকে না, সে-ই বাংলাদেশের জঙ্গিদের আশ্রয় দিয়ে পশ্চিমবঙ্গ কী তবে ভালো থাকে? যে বাংলাদেশ তিস্তার পানি ছাড়া ভালো থাকে না, সেই পশ্চিমবঙ্গ কী ভালো থাকে? এসব প্রশ্নের জবাবের মাঝেই পাওয়া যাবে মমতা ব্যানাজির প্রত্যাশায় ‘মমতা’র উত্তাপ। সবশেষে বলিÑ ছেলেবেলায় ‘আদর্শলিপি’তে পড়া একটি বাক্য ‘দুষ্টু লোকের মিষ্ট কথায় ভুলিও না।’

লেখক : সিনিয়র সাংবাদিক

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ