প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

আগামী নির্বাচন ও নির্বাচনকালীন সরকার

হাসান হামিদ  : কবি রুদ্র মুহম্মদ শহীদুল্লাহ সম্ভবত আমাদের দেশের বেশিরভাগ রাজনীতিকদের চরিত্র নিয়ে সবচেয়ে সরস কথাটি বলে গেছেন। তাঁর ‘রাজনীতিকের ধমনী শিরায় সুবিধাবাদের পাপ’– এই লাইনটি কতোখানি অপ্রিয় সত্য তা প্রতিনিয়ত আমরা টের পাই। আজকের লেখার শুরুতেই একটি গল্প।

অনেক দিন নিজের নির্বাচনী এলাকায় যাওয়া হয় না সাংসদ মোকলেস মিয়ার। নির্বাচন প্রায় চলে এল। তাই চিন্তা করলেন নিজ এলাকায় গিয়ে জনসংযোগ করবেন, মিথ্যা আজগুবি স্বপন দেখাবেন সবাইকে। তাই সাথে আরও কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে এলাকায় গেলেন মোকলেস মিয়া। দিনভর নানাজনের সঙ্গে দেখা করলেন, কোলাকুলি করলেন, চা খেলেন, খাওয়ালেন। বিকেলে এক স্কুলমাঠে বিরাট সমাবেশের আয়োজন করা হলো। সমাবেশে দীর্ঘ বক্তৃতাও করলেন, দিলেন অনেক প্রতিশ্রুতি। সন্ধ্যার সময় রওনা দিলেন শহরের উদ্দেশ্যে। আসার সময় রাস্তার পাশে দেখতে পেলেন এক লোক বসে বসে ঘাস খাচ্ছে। মোকলেস মিয়া গাড়ি থামিয়ে লোকটির কাছে গিয়ে অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলেন, ‘আপনি ঘাস খাচ্ছেন নাকি?’

: জি হুজুর! ক্ষুধার কষ্টে ঘাস খাচ্ছি, গত কয়েক দিন ধরে ঘাস খেয়েই বেঁচে আছি।
: বলেন কী! আচ্ছা ঠিক আছে, আপনি আমার সঙ্গে শহরে চলেন।
: হুজুর, তা আপনার দয়া! কিন্তু আমার স্ত্রীও পাশে ঘাস খাচ্ছে!
: আচ্ছা তাকেও সঙ্গে নিয়ে আসুন!
: হুজুর, আপনি দয়ার সাগর! কিন্তু হুজুর, আমার দুটি সন্তানও আছে, তারাও আমাদের মতো ঘাস খেয়ে ঘুমিয়ে পড়েছে!
: আচ্ছা আচ্ছা, ওদেরও সঙ্গে নিয়ে আসুন!
আবেগে আপ্লুত লোকটি কেঁদে দিল। বলল, ‘হুজুর আমরা চারজন মানুষ, আপনার সমস্যা হবে না তো?’
: আরে নাহ! আমার বাড়ির ঘাস প্রায় এক হাঁটু লম্বা হয়ে আছে!

আমাদের বেশির ভাগ জনদরদীর অবস্থা এর চেয়ে ভালো নয়। সামনেই সংসদ নির্বাচন, তাই বর্তমানের বেশির ভাগ আলোচনা নির্বাচন কেন্দ্রিক। তবে সদ্য বিদায়ী বছরটিতে রোহিঙ্গা সংকট, গুম-খুন অথবা দ্রব্যমূল্য, এই বিষয়গুলিই ছিল বাংলাদেশের মূল আলোচ্য বিষয়। কিন্তু এতদিন যে ইস্যুই বাংলাদেশের গতি প্রকৃতি নিয়ন্ত্রণ করুক না কেন; এ বছর সবকিছুকেই সম্ভবত ছাপিয়ে যাবে নির্বাচন। আশেপাশে তাকালে, কথা বললে বুঝি যে, খেটে খাওয়া মানুষ, ব্যবসায়ী বা রাজনীতির বিশ্লেষক- সবাই যেন নির্বাচনকে ঘিরে একটা গরম রাজনীতির জন্য অপেক্ষা করে আছেন। আর জাতীয় রাজনীতি ও নির্বাচনকে ঘিরে সাধারণ মানুষজনের মধ্যে রয়েছে ব্যাপক প্রত্যাশা। কিন্তু প্রত্যাশিত আগত নির্বাচনটি প্রত্যাশা পূরণে কতোটা ভূমিকা রাখবে সেটাই দেখার বিষয়।

 

কেননা একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনে রয়েছে নানা রকম চ্যালেঞ্জ। সেটি সাধারণ মানুষের জীবনে ঠিক কি বয়ে আনবে সেটা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে মানুষের মনে। নির্বাচন আয়োজনের জন্য সময় এখন কয়েক মাস। কিন্তু নির্বাচনকালীন সরকার নিয়েই এখনো বিপরীত অবস্থানে আমাদের প্রধান দুই রাজনৈতিক দল। দু’দলকে এখনো পর্যন্ত আলোচনার জন্য এক টেবিলে আনা যায়নি। সংবিধান অনুযায়ী বর্তমান সংসদের মেয়াদ শেষ হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে পরবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে হবে। আর সংবিধানের ১২৩ (৩) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘সংসদ সদস্যদের সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হইবে (ক) মেয়াদ অবসানের কারণে সংসদ ভাংগিয়া যাইবার ক্ষেত্রে ভাংগিয়া যাইবার পূর্ববর্তী নব্বই দিনের মধ্যে নির্বাচন করিতে হইবে।’

দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর বর্তমান সংসদের প্রথম অধিবেশন বসেছিল ২০১৪ সালের ২৯ জানুয়ারি। সে হিসাবে সংসদের পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষ হচ্ছে আগামী বছরের ২৯ জানুয়ারি। এর ৯০ দিন আগে অর্থাৎ আগামী ২৯ অক্টোবর থেকে আগামী বছরের ২৯ জানুয়ারির মধ্যে যেকোনো দিন একাদশ সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে। এ সময়ের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য সব প্রস্তুতি—নির্বাচনকালীন সরকার গঠন, তফসিল ঘোষণা, প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র আহ্বান, মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের কাজ শেষ করতে হবে। কিন্তু সংবিধানে নির্বাচনকালীন সরকার বলতে কিছু নেই। আর তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি বাতিল করে রায় দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন নিয়ে সংবিধানের অনুচ্ছেদটি বাতিলও করা হয়েছে। তাহলে এই নির্বাচনকালীন সরকার সংবিধানসম্মত কি না—এ বিষয়ে দেশের বিশিষ্ট আইনজীবী ও সাংবাদিকদরা পত্রিকাগুলোকে কোন স্পষ্ট জবাব দিতে পারেননি বলেই আমরা জেনেছি।

সংবিধানের ৫৭ (৩) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘প্রধানমন্ত্রীর উত্তরাধিকারী কার্যভার গ্রহণ না করা পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীকে স্বীয় পদে বহাল থাকিতে এই অনুচ্ছেদের কোনো কিছুই অযোগ্য করিবে না।’ সংবিধান বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এর অর্থ হচ্ছে যিনি দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়েছেন, তিনি নতুন একজন প্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব না নেওয়া পর্যন্ত স্বপদে বহাল থাকবেন। নির্বাচনকালীন সরকারের প্রধান কাজ হচ্ছে সংসদ বহাল রেখে সরকারের রুটিন ওয়ার্ক পরিচালনা এবং নির্বাচন কমিশনকে অবাধ নির্বাচন আয়োজনে সহায়তা করা। এ বিষয়ে সম্প্রতি অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত সাংবাদিকদের বলেছেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচন আগামী ২৭ ডিসেম্বর হতে পারে। এর তিন মাস আগে বর্তমান মন্ত্রিপরিষদ ভেঙে দিয়ে ছোট পরিসরের একটি মন্ত্রিপরিষদ গঠন করা হবে বলে তিনি বক্তব্য দিয়েছেন যা আমরা পত্রিকায় পড়েছি।

বোঝাই যাচ্ছে, আমাদের নেতাদের বক্তব্যে আগামী নির্বাচন নিয়ে এখন অনেক তোড়জোড় শুরু হয়েছে। লক্ষ করার বিষয়, এই তোড়জোড়ের মধ্যে এই স্বীকৃতি খুব স্পষ্ট যে, এর আগের নির্বাচন সৎ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হয়নি এবং আগামী নির্বাচন যথাসম্ভব দোষমুক্ত করতে হবে। প্রকৃতপক্ষে স্বাধীন বাংলাদেশে প্রথম থেকে আজ পর্যন্ত কোনো নির্বাচনই সৎ, দুর্নীতিমুক্ত, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হয়নি। ১৯৭২ সালের সংবিধানের অধীনে ১৯৭৩ সালে যে প্রথম নির্বাচন হয়েছিল, সেটা সঠিকভাবে অনুষ্ঠিত হওয়া খুব স্বাভাবিক ও সম্ভব ছিল। কিন্তু ভাবলে অবাক লাগে যে, তা হয়নি। যেখানে ৩০০ আসনের মধ্যে আওয়ামী লীগের ২৮০ বা ২৭৫ আসনে জয়লাভ নিশ্চিত ছিল, সেখানেও নির্বাচন ঠিকমতো অনুষ্ঠিত হয়নি! আওয়ামী লীগ দেখাতে চেয়েছিল যে, স্বাধীন বাংলাদেশের মালিক তারাই।

কাজেই সংবিধান, নির্বাচন যাই হোক, সবকিছুই তাদের মালিকানার অধীনস্থ। ১৯৭৩ সালের নির্বাচনের ফলাফল টেলিভিশনে প্রচারিত হতে থাকার সময়ে দেখা গেল, বেশ কয়েকজন বিরোধীদলীয় প্রার্থী আওয়ামী লীগ প্রার্থীর থেকে বেশি ভোট পেয়ে এগিয়ে আছেন এবং জয়লাভের সম্ভাবনা যথেষ্ট বা ষোলআনা। কিন্তু সেই অবস্থায় তাদের নির্বাচনী ফলাফল ঘোষণা হঠাৎ করে বন্ধ হয়ে গেল। অনেক পরে যখন আবার তাদের নির্বাচনী ফলাফল ঘোষণা শুরু হল তখন দেখা গেল, তারা আর এগিয়ে নেই। শেষ পর্যন্ত কম ভোট পেয়ে তারা হেরে গেলেন! যারা এভাবে ‘হেরে’ গেলেন, তাদের মধ্যে ছিলেন ডক্টর আলীম আল রাজি, মেজর জলিল, রাশেদ খান মেনন প্রমুখ। নির্বাচন নিরপেক্ষ হলে ২৫-৩০ জন বিরোধী প্রার্থীর জয়লাভের সম্ভাবনা ছিল। কিন্তু একমাত্র আতাউর রহমান খান ছাড়া আর কারও পক্ষে জয়লাভ করা সম্ভব হয়নি।

বাংলাদেশে এরপর থেকে প্রত্যেক নির্বাচনেই অল্পবিস্তর দুর্নীতি ও কারচুপি হয়েছে। এর পর ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি নির্বাচন যেভাবে হয়েছিল, তাকে শুধু কারচুপি বললে কিছুই বলা হয় না; সে সময় নির্বাচনকে এমন অবস্থায় এনে দাঁড় করানো হয়েছিল যে, জাতীয় সংসদে নির্বাচিত হওয়ার জন্য ভোটের প্রয়োজন হয়নি! ভোট ছাড়াই ১৫৩ জন নির্বাচিত হওয়ায় সরকার গঠনের মতো সংখ্যাগরিষ্ঠতা আওয়ামী লীগ অর্জন করেছিল! শুধু বাংলাদেশের নয়, দুনিয়ার নির্বাচনী ইতিহাসে এর কোনো তুলনা নেই।

বিগত ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি আওয়ামী লীগ যেভাবে ‘নির্বাচনী সাফল্য’ অর্জন করেছিল তারই আতঙ্ক এখন শুধু বিরোধী দলগুলোকেই নয়, সরকারি দলকেও ভূতের মতো তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে। বিরোধী দলগুলো পূর্ববর্তী নির্বাচনের পুনরাবৃত্তি রোধের জন্য মরিয়া হয়েছে এবং সরকারি দল তার পুনরাবৃত্তি আর সম্ভব নয় এটা উপলব্ধি করে নিরপেক্ষ নির্বাচনে তাদের উৎখাত হওয়ার ষোলআনা সম্ভাবনা দেখে আতঙ্কের মধ্যে আছে। তাদের নেতাদের নানা উক্তির মধ্যেই তাদের এই আতঙ্কের প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে। নির্বাচনের একটা লক্ষ্য হল, এর মাধ্যমে জনমতের প্রতিফলন ঘটানো।

উন্নত ও অগ্রসর দেশগুলোতে সম্পূর্ণভাবে না হলেও এই লক্ষ্য অনেকখানি অর্জিত হয়। কিন্তু অনুন্নত ও পশ্চাৎপদ দেশগুলোতে সেটা হয় না। এমন সব শর্তে এসব নির্বাচন হয় যাতে জনমতের প্রকৃত প্রতিফলন ঘটা সম্ভব নয়। কিন্তু তবু মোটামুটিভাবে কারচুপি যদি কম হয়, তাহলে এই নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতাসীন সরকারকে তাদের অজস্র প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে শোষণ-নির্যাতন চালিয়ে যাওয়ার প্রতিশোধ হিসেবে জনগণ তাদের উৎখাত করতে পারেন। অবশ্য বাংলাদেশেও ২০১৪ সালের আগ পর্যন্ত এটাই হয়ে এসেছে। কিন্তু ২০১৪ সালের নির্বাচন এদিক দিয়ে ছিল এক বিস্ময়কর ঐতিহাসিক ব্যতিক্রম।

সবকিছু ঠিক থাকলে ২০১৯ সালের জানুয়ারি মাসে একাদশ জাতীয় নির্বাচন হওয়ার কথা। তবে এর আগেও চমক হিসেবে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। চমকটি নির্ভর করছে পুরোপুরি ক্ষমতাসীন দল ও মহলের ওপর। তারা জাতিকে চমকে দিয়ে আগাম নির্বাচনের ঘোষণা দিতে পারে। এ ধরনের কানাঘুষা রাজনৈতিক অঙ্গনে বহুদিন ধরে রয়েছে। আওয়ামী লীগের শীর্ষ স্থানীয় নেতারা প্রায়ই বলেন, ২০১৯ সালের জানুয়ারির এক দিন আগেও নির্বাচন হবে না।

বলার অপেক্ষা রাখে না, ক্ষমতাসীন দল এখন নিজের অবস্থান সুসংহত করে নিয়েছে। মনে হতে পারে, সে অত্যন্ত আরামদায়ক অবস্থানে রয়েছে। তবে নির্বাচন যত ঘনায়মান হবে, এ অবস্থারও যে পরিবর্তন হবে, তাতে সন্দেহ নেই। কারণ সরকারের বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে, সব দলের অংশগ্রহণে একটি অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠান করা। এটি তার পক্ষে সহজ কোনো বিষয় নয়। ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের মাধ্যমে পাঁচ বছর কাটিয়ে দিলেও আরেকটি এ ধরনের নির্বাচন করা তার জন্য খুব একটা সহজ এবং স্বস্তিদায়ক হবে না। কেউ কেউ হয়তো হতেও দেবে না। এই কেউ কেউ হচ্ছে, আমাদের ওপর খবরদারি করা বিদেশি শক্তিগুলো।
আমরা জানি, যখন কোনো দেশ রাজনীতি এবং রাজনৈতিক সরকারের মাধ্যমে পরিচালিত হয়, তখন তার মূল বিষয়ই হচ্ছে সরকার ও বিরোধী দলের পারস্পরিক সহাবস্থান এবং সমঝোতা।

এর ব্যত্যয় ঘটলেই রাজনীতিতে অস্থিরতা এবং বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। আপাত দৃষ্টিতে আমাদের বর্তমান রাজনীতি স্থিতিশীল মনে হচ্ছে। এ স্থিতিশীলতা যে স্বাভাবিক নয়, তা একজন সাধারণ মানুষও জানে। এদেশে একদলের নেতারা অন্য দলের নেতাদের নির্বোধ ভাবে। কিন্তু রাজনৈতিক লাভ কে কীভাবে কতোটা নিচ্ছে তা বুঝতে হলে একটি গল্প শুনতে হবে আপনাকে। এক দোকানী এক ক্রেতাকে তার দোকানের সামনে দিয়ে হেঁটে যাওয়া একটি বালককে দেখিয়ে বলে, ‘এর চেয়ে গর্দভ বালক আমি জীবনে দেখিনি।’ক্রেতা জিজ্ঞেস করে, ‘কেন কী করেছে সে!’দোকানী বলে, ‘দাঁড়ান দেখাই আপনাকে।’ দোকানী বালকটিকে ডাকে, এক হাতে দুটো ৫০ টাকার নোট আর আরেক হাতে ৫০০ টাকার নোট নিয়ে ছেলেটিকে জিজ্ঞেস করে কোন হাতেরটা নেবে তুমি! ছেলেটা দুটো ৫০ টাকার নোট নিয়ে চলে যায়। দোকানী ক্রেতাটির দিকে তাকিয়ে আমুদে হাসি দিয়ে বলে, ‘কী বলেছিলাম! এই ছেলেটি একেবারেই বোকা।’ ক্রেতা দ্রুত বেরিয়ে গিয়ে দেখে বালকটি আইসক্রিমের দোকান থেকে আইসক্রিম কিনে বেরুচ্ছে। বালকটিকে জিজ্ঞেস করে, ‘ওই দোকানীর আরেক হাতে ৫০০ টাকার নোট থাকতে তুমি দুটো ৫০ টাকার নোট নাও কেন!’ ছেলেটি বলে, ‘যেদিনই আমি ৫০০ টাকার নোটটা নেবো ওইদিনই ওই দোকানীর এই খেলার আগ্রহ নষ্ট হয়ে যাবে; মানে আমারো খেলা শেষ।’

আমাদের দেশের বর্তমান ক্ষমতাসীন দল অন্যতম বিরোধী রাজনৈতিক দলকে এমনভাবে কোণঠাসা করে রেখেছে যে তাদের নড়াচড়ার কোনো জায়গা নেই। এ কথা কে না জানে, দুর্বল বিড়ালকে যদি খাঁচায় বন্দি করে খোঁচানো হয়, তা বাঘের মতো ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠে। বিএনপিকে সরকার এখন যতই দুর্বল মনে করুক না কেন, যদি তাকে রাজনীতি করার সুষম স্পেস দেয়া হয়, তবে বোঝা যাবে সে দুর্বল না সবল। তবে আমাদের দেশের রাজনৈতিক অঙ্গন বহুদিন থেকেই নিরুত্তাপ।

সরকারবিরোধীরা নিজেদের খুঁজে পেতে যেমন ব্যস্ত, তেমনি ধরে নিয়েছে সুশাসনের কিছু কিছু জায়গায় ব্যত্যয় এবং দুর্নীতির লাগাম টানতে না পারা ছাড়া এ সরকার বেশ সুবিধাজনক অবস্থায়ই রয়েছে। তাই একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন একমাত্র প্রচুর ক্ষমতাবান নির্বাচন কমিশন হলে তার একার পক্ষে সম্ভব। এর জন্য প্রয়োজন সহযোগীদের সহযোগিতা। তবে সক্ষম ব্যক্তিদের দ্বারা নির্বাচন কমিশন গঠিত হলে সহযোগীদের সহযোগিতা আদায় করা যায়। সহযোগীদের মধ্যে প্রধান সহযোগী ওই সময়কার সরকার।

তবে এ কথা অনস্বীকার্য যে, একটি ভালো, স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য একটি সক্ষম নির্বাচন কমিশনের বিকল্প নেই। আর তারই প্রয়াসে রত ছিল ছয় সদস্যের সার্চ কমিটি। অবশ্য এবারের সার্চ কমিটির উদ্যোগ অতীত থেকে যথেষ্ট স্বচ্ছ এবং আন্তরিক বলে দেশবাসীর মনে হয়েছে।

আগামী নির্বাচন কতোটা কেমন হবে তা দেখার জন্য আমরা অপেক্ষা করে আছি। তবে রাজনৈতিক স্বার্থ রক্ষার নামে রাজনীতিবিদের যেনো রাষ্ট্র বিজ্ঞানের বারোটা না বাজিয়ে ফেলেন, আমাদের এটাই অনুরোধ। শুরুতে গল্প বলেছিলাম; শেষ করছি গল্প দিয়ে-

ভোটকেন্দ্রে লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলেন দুই ভোটার—সলিম আর জব্বার। সলিম: জব্বার, দোস্ত দেখ, তুই কলা মার্কায় ভোট দিবি। আর আমি মুরগি মার্কায়। দুজনের ভোট কাটাকাটি হইয়া গেল। কেউ আগাইল না, পিছাইলও না। তাইলে আমাগো ভোট দিয়া কী লাভ? জব্বার: ঠিকই তো কইলি। তাইলে আর লাইনে দাঁড়ায়া কী হইব? চল, যাইগা। দুজন লাইন থেকে বেরিয়ে এল। পেছন থেকে এক বৃদ্ধ সলিমকে বললেন, ‘দুজন মিলে ভালোই তো চুক্তি করলা।’ ‘হ চাচা, সকাল থেকে পাঁচজনের সঙ্গে এই চুক্তি করছি।’ সলিমের জবাব। ফেসবুক থেকে

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত