প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

প্রতারণা করে প্রায় ২০ লাখ টাকা নিয়ে লাপাত্তা সোহেল

নবাবগঞ্জ (ঢাকা) প্রতিনিধিঃ বয়স কত আর হবে ৩০। আচার ব্যবহারে অত্যন্ত ভদ্র। সবার সাথে সম্পর্ক করতে পারে অতি সহজে। খুব কম সময়ের মধ্যে এলাকার মানুষের বিশ্বস্ততা অর্জন করেন। আর সবার সেই বিশ্বাসকে পুঁজি করে প্রতারণার মাধ্যমে ঢাকার নবাবগঞ্জ থেকে প্রায় ২০ লাখ টাকা নিয়ে লাপাত্তা হয়ে গেছেন মো সোহেল নামে এক যুবক। সোহেল কুমিল্লা জেলার হারায়পাড়ার জাহাঙ্গীর আলমের ছেলে। আর তার কাজে সহযোগিতা করেন তার স্ত্রী ফারজানা আক্তার। ফারজানা লক্ষীপুর জেলার রামনগর থানাধীন ডলটা বাজারের জায়ানগর গ্রামের আবুল খায়েরের মেয়ে।

স্থানীয়রা জানান, প্রায় এক যুগ আগে নবাবগঞ্জ উপজেলার নতুন বান্দুরায় বসবাস শুরু করেন সোহেল ও ফারজানা দম্পত্তি। সোহেল প্রথমে একটি হোটেলে কাজ করলেও কিছুদিন পর রিক্সা চালাতে থাকেন। এছাড়া মানুষের যে কোন কাজ করে দিতেন বিশ্বস্ততার সাথে। এভাবেই মানুষের কাছাকাছি চলে আসেন তিনি। কয়েক মাস আগ থেকে অটো গাড়ি, রিক্সাসহ গাড়ির ব্যবসা শুরু করেন তিনি। প্রথমে নতুন বান্দুরার ব্যবসায়ী বিপ্লব মাহমুদের কাছ থেকে মূলধন নিয়ে ব্যবসা শুরু করেন তিনি। ব্যবসায় লাভ হওয়ায় মূলধন বাড়াতে থাকে বিপ্লব মাহমুদ। সেই সাথে সোহেলও লোভে পরে যায়। এভাবে প্রায় ১০/১২ জনের কাছ থেকে ব্যবসার কথা বলে প্রায় ২০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেন সোহেল।

এক্ষেত্রে গোপনীয়তা রক্ষা করতে তিনি। কারও টাকার কথা কারও কাছে বলতেন না। শুধু পুরুষ না অনেক মহিলাকে নিজের ফাঁদে ফেলেছেন সোহেল ও ফারজানা দম্পত্তি। গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সোহেল তার শ্বশুরের অসুস্থতার কথা বলে স্ত্রীকে নিয়ে পালিয়ে যায়। এরপর থেকে ওদের ব্যবহ্নত মোবাইল বন্ধ রয়েছে।

এব্যাপারে ভোক্তাভোগীরা নবাবগঞ্জ থানা ও র‌্যাবের কাছে অভিযোগ দায়ের করেছেন। ব্যবসায়ী বিপ্লব মাহমুদ বলেন, ওকে এলাকার সবাই খুব বিশ্বাস করতো। আমাদের অনেক বড় লেনদেন ওর হাত দিয়ে হয়েছে। কখনো ভাবতে পারি নাই ও এই কাজটা করবে। আমাকে নিঃস্ব করে পালিয়ে গেল।

আরেক ভোক্তাভোগী মীর নাহিদ বলেন, ব্যবসার কথা বলে আমার কাছ থেকে প্রায় ২ লাখ টাকা নিচ্ছে। দিব, দিচ্ছে বলে কয়েকদিন ঘুরানোর পর হঠাৎ বৌকে নিয়ে লাপাত্তা। বিশ্বাস করতে পারছি না ও এ কাজটা করবে।

নাম প্রকাশের অনিচ্ছুক এক মহিলা বলেন, আমাকে বোকা বানিয়ে দেড় লাখ টাকা নিয়েছে ব্যবসার কথা বলে। স্বামীকে নাা জানিয়ে ওকে টাকা দিয়েছিলাম। এখন আমার ঘর ভাঙার উপক্রম। ফারজানা চাচাতো ভাই মামুনের বলেন, আমার চাচা অসুস্থ নয়। আর সোহেল ও ফারজানা আমাদের বাসায় আসে নাই। ওদের মোবাইল বন্ধ বলে জানান মামুন।