প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

মমতা ব্যানার্জি যখন আসবেন

অজয় দাশগুপ্ত, সিডনি, অস্ট্রেলিয়া থেকে : মিডিয়া খুলতেই দেখি মমতা দিদির ছবি। দিদিকে দেখলেই আমার হাসি পায়। না না কোনো কৌতুক না। সবসময় সিরিয়াসলি কথা বলেন তো তাই। এই যে কদিন আগে কলকাতায় একটা উড়ালপুল ভেঙে পড়ল। তিনি তখন দার্জিলিংয়ে। সেদিন নাকি প্লেন নেই যোগাযোগও নেই, তাই আসলেন না। যতদূর জানি বড় বড় মানুষরা দুর্যোগের সময় হেলিকপ্টার ব্যবহার করেন। তার জন্য কি তাও ছিল না? দিদি এসেছিলেন পরদিন। যা হোক। দিদির হাসিমাখা মুখ সহজে দেখা যায় না। এ যাত্রায় তা দেখলাম। বলেছেন শেখ হাসিনা জিতলে তিনি আসবেন। এটা যদি তার মনের কথা হয়তো তবে তাকে সাধুবাদ। কিন্তু দিদি আমাদের নেত্রীকে পথের কাঁটা বিছিয়ে রাখা তিস্তার কি হবে? আপনি কি বোঝেন না এ সমস্যা ভোটের বাক্সে প্রভাব ফেলতে পারে? তা ছাড়া আপনার আর আমাদের সীমান্তে কিছু হলেই আপনি যে ভাষায় কথা বলেন তখন তো মনে হয় না আপনি আসলে আসতে চান। আপনার বঙ্গের রাজনীতি বা অর্থনীতি নিয়ে আমাদের কিছু বলার নেই। আমাদের চাওয়া খুব অল্প; দয়া করে আমাদের দেশে ভারত বিরোধিতা বাড়তে দিয়ে এ দেশের গতিশীলতা আর উদার রাজনীতি নষ্ট করবেন না। আমাদের মাথার উপর রোহিঙ্গ্যা সমস্যার পাহাড়। সে বিষয়ে আপনারা নীরব। আমাদের তিস্তা শুকিয়ে কাঠ আপনারা স্তব্ধ। সীমান্তে মারমারি তো হয় না হয় একতরফা মারি। সে মারিরে যখন কাঁটাতারে লাশ ঝুলে তখন একটু কথা বলবেন প্লিজ।

আমরা ইলিশ, জামদানি দিতে মুক্তহস্ত। আমাদের মানুষেরা যায় আর খরচ করে আপনার দেশে। কলকাতার রাস্তাঘাট বাজার বাংলাদেশিতে সয়লাব। আপনাদের পণ্য আমাদের ঘরে ঘরে। আপনারা ভয়ে দেখান না বটে, আমাদের গৃহ কোণের শান্তি কেড়ে নিয়েছে আপনাদের সিরিয়াল। এতকিছুর পরও আমরা আপনাদের ভালোবাসি। তাই দিদিÑ কে জিতলে আসবেন, আর কে না জিতলে আসবেন না এমন বলে বিরোধী শিবিরকে চাঙা করবেন না দয়া করে। যখন ইচ্ছে আসুন। কিন্তু শর্ত একটা। ভালোবাসার বিনিময়ে ভালোবাসা। বন্ধুত্বের বিনিময়ে বন্ধুত্ব। দাদাগিরি না।

লেখক : কলামিস্ট ও বিশ্ববিদ্যালয় পরীক্ষক

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ